রবিবার , ০৫ নভেম্বর ২০১৭

বহুল আলোচিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আজ রোববার। সিপিএর ভাইস প্যাট্রন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে বিমানবন্দর থেকে সংসদ ভবন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) ও তার আশপাশের এলাকা। করা হয়েছে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা। এজেন্ডা না থাকলেও রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিপিএর ৫২ সদস্য দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ স্পিকার, ২৩ ডেপুটি স্পিকারসহ ৬ শতাধিক সংসদ সদস্যসহ প্রায় দেড় হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন। চার স্তরের নিরাপত্তায় থাকবে ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সদস্য, এর জন্য কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন এ সম্মেলন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে।

সিপিএ সম্মেলন চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। গত ১ নভেম্বর এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে সিপিএ স্মল ব্রাঞ্চের কনফারেন্স, কমনওয়েলথ ওম্যান পার্লামেন্টারিয়ানসের (সিডব্লিউপি) ও সিপিএর নির্বাহী কমিটির বৈঠকসহ নানা কার্যক্রম চলছে। সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিরা সংসদ ভবনের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক খাত, নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিআইসিসিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং হবে। এরপর সম্মেলনের মূল অধিবেশনের পাশাপাশি আটটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৭ নভেম্বর সিপিএ নির্বাহী কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য-‘কনটিনিউনিং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরম্যান্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’। এই সম্মেলনে সিপিএর ৫২টি সদস্য দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশসহ প্রায় ১৪৪টি সিপিএ ব্রাঞ্চ অংশগ্রহণ করছে। সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কে কোন বিষয়ে আলোচনা করবেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইপিইউয়ের সম্মেলনের মতো এখনো সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। ৭১ সালে বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সক্রিয় থাকবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফিং : সিপিএ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কোনো নির্ধারিত এজেন্ডা না থাকলেও সদস্য দেশগুলোর ব্যাপক আগ্রহের মুখে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ বিষয়ে ব্রিফিং করবেন। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সংসদীয় কূটনীতিকে কাজে লাগাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি আরো জানান, ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সহযোগিতা ও সমর্থন চাওয়া হবে।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে। চার স্তরের নিরাপত্তায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। একই সঙ্গে চলছে বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা নজরদারি।

বর্ণিল সাজে রাজধানী : সিপিএ সম্মেলন উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক এখন বাহারি সাজে সজ্জিত। বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজধানীর ভিআইপি সড়ক। সংসদ ভবন ও বিআইসিসিতেও বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ