মঙ্গলবার , ০৭ নভেম্বর ২০১৭

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। সমস্যা যেন এই নায়কের পিছু ছাড়ছে না। কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন হবিগঞ্জের ইজাজুল নামক এক ব্যক্তি। মামলার কারণ হিসেবে জানানো হয়, ইজাজুলের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বিনা অনুমতিতে শাকিব খান অভিনীত ‘রাজনীতি’ সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগে ৫০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করেছেন তিনি। এই ঘটনা বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। গত শনিবার মেট্রোসেম সিমেন্ট আয়োজিত ‘কার তুমি কার’ শীর্ষক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শাকিব খান কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তার কিছু অংশ তুলে ধরেছেন তুহিন খান নিহাল

 

আপনার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানির মামলা হয়েছে?

বিষয়টি সবার কাছেই পরিষ্কার। এ সিনেমায় শাকিব খান কেন? এর হিরো অন্য কেউ হলে তারও কিছু করার থাকত না। একজন শিল্পী হিসেবে আমি সিনেমায় আমার সংলাপ বলেছি। কার নম্বর বা এটি সঠিক নম্বর কি না, তা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার এখতিয়ারের মধ্যেও পড়ে না। আমি শিল্পী হিসেবে সংলাপ বলেছি। এটা বর্তায় প্রযোজক, পরিচালক, স্ক্রিপ্ট রাইটারের ওপর। তারা বিষয়গুলো দেখবেন। এটি খুবই পরিষ্কার একটি বিষয়। আমি দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে শুনেছি। বাইরের দেশের গণমাধ্যমেও সংবাদ হয়েছে। সেখান থেকেও জেনেছি। আমি আইনের ছাত্র হলে হয়তো মামলাটি কোন গ্রাউন্ডে হয়েছে, সেটা ভালো বলতে পারতাম।

মামলার বিষয়টি নিয়ে এখন কী ভাবছেন?

আমি বিষয়টি নিয়ে কোনো কিছুই ভাবছি না। কারণ, আমার কাছে লিখিত কোনো কিছুই এখনও আসেনি। আমি জানিও না। ব্যাঙ্কক চলে যাচ্ছি সিনেমার শুটিং করতে। সেখানে ১৬-১৭ দিন থাকব।


শিল্প ও শিল্পীকে কখনো কোনো নিয়মের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। 
এদের কোনো সীমাবদ্ধতায় রাখা যাবে না। বাধা দিয়ে আটকে রাখা যাবে না


সম্প্রতি একের পর এক সমস্যা আপনাকে ঘিরে রেখেছে! এটাকে কীভাবে দেখছেন?

আমাকে একজন একটা কথা বলেছিল—মানুষ বড় হলে, উপরে উঠলে কিছুটা ঝড়-ঝাপটা আসবেই। তার সেদিনের কথার উত্তর মনে হচ্ছে আমি পেয়ে গেছি। শিল্প ও শিল্পীকে কখনো কোনো নিয়মের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। এদের কোনো সীমাবদ্ধতায় রাখা যাবে না। বাধা দিয়ে আটকে রাখা যাবে না।

বিদেশে ছবির শুটিং আমাদের দেশের জন্য কি শুভ?

না, অবশ্যই নয়। এটা আমাদের দেশের টেকনিশিয়ান, শিল্পী কারো জন্যই শুভ নয়। তারপরও এখন উপায় নেই। এখনকার সময় প্রযোজকরা দেশের বাইরের লোকেশন খুঁজে নিচ্ছেন শুটিং করার জন্য। কারণ কেউ একটি চিঠি পাঠিয়ে বলবে না যে, শুটিং বন্ধ। সিনেমায় শুধু কায়িক পরিশ্রমই নয়, মানসিক পরিশ্রমও হয়। একটা ঠাণ্ডা মেজাজ নিয়ে কাজ করতে হয়। সিনেমা ভালোভাবে তৈরি করা হলে সেটা সবখানেই সাফল্য পাবে। এখানে সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি করা হয়, ফলে সিনেমাটি বানানোই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাজ করলে সেই সিনেমা তো মুখ থুবড়ে পড়বেই। এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্যও শুভ নয়। আর তাই নিশ্চিন্তে কাজ করতে প্রযোজকরা দেশের বাইরের লোকেশন খুঁজে নিচ্ছেন।

 বিনোদন থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ