শনিবার , ১৫ মে ২০২১ |

চীনের টেকনো মোবাইল ফোনে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার

অনলাইন ডেস্ক   বুধবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

আফ্রিকাতে বিক্রি হওয়া হাজারো ফোনে এমন একটি ম্যালওয়্যারের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই সাবস্ক্রিপশনের জন্য তাদেরকে নিবন্ধিত করে ফেলে।

আপস্ট্রিম নামের একটি প্রতারণা বিরোধী প্রতিষ্ঠান ইথিওপিয়া, ক্যামেরুন, মিশর, ঘানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্রি হওয়া প্রায় ৫৩,০০০ টেকনো মোবাইল ফোনে এই ম্যালওয়ারটি পেয়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সন বাজফিডকে জানায় যে, সরবরাহ চেইনের কোন ধাপে এই ম্যালওয়ারটি ইনস্ট্যাল করা হয় কিন্ত তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না।

আপস্ট্রিম এক বিবৃতিতে জানায়, এই ম্যালওয়ার দ্বারা সবচেয়ে দুর্বল ও সুবিধা বঞ্চিত গ্রাহকদের অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়া হচ্ছে।

আপস্ট্রিমের সিকিউর ডি প্লাটফর্মের প্রধান জেফরি ক্লিভস বলেন, “এই ম্যালওয়ারটি এমন একটি ফোনে প্রি-ইন্সট্যালড অবস্থায় পাওয়া গেছে যা সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষরা ব্যবহার করে। এর দ্বারাই আপনারা বুঝতে পারছেন যে এই সমস্ত প্রতারণার প্রধান শিকার কারা।

ট্রিয়াডা নামের এই ম্যালওয়্যারটি এন্ড্রয়েডে এক্সহেল্পার নামে একটি ক্ষতিকর কোড ইন্সট্যাল করে দেয় যা ব্যবহারকারীকে না জানিয়েই বিভিন্ন সার্ভিসে অনুরোধ পাঠায় এবং অনুরোধ সফল হলে প্রি-পেইড এয়ারটাইমের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করে। বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল সেবার বিল দেওয়ার জন্য এয়ারটাইমই একমাত্র অবলম্বন।

আইডিসির গবেষণা অনুযায়ী ট্রান্সন চায়নার অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী এবং আফ্রিকার সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ব্র‍্যান্ড।

এ ব্যাপারে টেকনোর কাছে জানতে চাইলে তারা জানায় যে, এটি একটি পুরনো সমস্যা এবং ২০১৮ সালেই তারা এর সমাধান প্রকাশ করেছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে টেকনো বলে যে যারা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা ওভার দ্য এয়ার ফিক্স ডাউনলোড করলে বা টেকনোর বিক্রয় পরবর্তী সেবাদানকারী সার্ভিসে যোগাযোগ করলেই এর সমাধান পাবেন।বিবৃতিতে টেকনো আরো জানায় যে গ্রাহকদের নিরাপত্তা তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চাইনিজ ম্যালওয়্যার যুক্ত ফোনের ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগেও এই বছরের শুরুর দিকে সিকিউরিটি ফার্ম ম্যালওয়্যার বাইটস সতর্ক করে দেয় যে UMX U686CL নামের চাইনিজ ফোনেই প্রি ইন্সট্যালড অবস্থায় ম্যালওয়্যার পাওয়া গেছে। এই ফোনটি একটি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প আয়ের মানুষদের দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালে গবেষক রায়ান জনসন প্রায় ৭০০ মিলিয়ন এন্ড্রয়েড ফোনে ব্যবহারের আগে থেকেই ম্যালওয়্যার ইনস্টেল অবস্থায় পান। অ্যান্ড্রয়েডের ডেভলপার গুগলও এই সমস্যা সম্পর্কে অবহিত।

গত বছরের একটি ব্লগ পোস্টে অবশ্য এর জন্য তৃতীয় পক্ষকে দায়ী করা হয়।ফেস আনলকের মতো ফিচার ইন্সটল করতে যেসব তৃতীয় পক্ষকে উতপাদনকারী নিয়োগ দিয়েছিল তাদের দ্বারা ট্রিয়াডা ম্যালওয়্যার ফোনে প্রবেশ করতে পারে।উৎপাদনকারী এবং ডেভেলপার যৌথভাবে এই ম্যালওয়ার মুছে ফেলতে কাজ করছে।

 তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ