শনিবার , ১৫ মে ২০২১ |

মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ দেও!

  সোমবার , ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

মিরাজ মিঠু:
মা,মাটি এবং মাতৃভাষা তিনটির সাথেই মানুষের আত্মার সম্পর্ক। মানুষ জন্ম নেওয়ার পর থেকে বড় হওয়া শৈশব কৈশোর বার্ধক্য কিংবা মৃত্যু প্রতিনিয়ত শিখতে থাকে নতুন কিছু। মায়ের কোলে বসেই শিশু শিক্ষা নেয় মায়ের ভাষা। এরপর শিক্ষাগ্রহণ করার জন্য স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যায়। সকলেরই মাতৃভাষায় বলতে লিখতে কিংবা পড়তে ভালো লাগে। বাঙালি পরিবার থেকে আসা এক শিশু যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বাংলা পড়তে বলতে বা লিখতে পারে। অবাঙালি কোনও শিশুর পথ এতোটা মসৃণ হয় না। সে তার মায়ের ভাষায় বলতে শিখে। যখন প্রাথমিক শিক্ষা নিতে স্কুলে আসে তখন তাকে শিখতে হয় সম্পুর্ন নতুন ভাষা। সে তার মায়ের ভাষায় পড়তে বা লিখতে সুযোগ পায়না।
মাতৃভাষায় শিক্ষা একটি জরুরি এবং অত্যাবশকীয় বিষয়। যখন কোনও জাতির ভাষা এগিয়ে যায় তখনই সেই জাতি এগিয়ে যায়। ১৯৫২ সাল আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। ভাষা কে কেন্দ্র করে একটা আন্দোলন শুধু আন্দোলন নয়; যা পুরো জাতিকে পরবর্তী সবগুলো আন্দোলনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করে আমাদের ভাষাকে মর্যাদা দিয়েছি তেমনি ভাবে বাংলা ভাষাভাষী ছাড়াও অন্য যারা এদেশে বাস করে তাদেরকেও নিজেদের ভাষায় শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দিয়ে সকলের মায়ের ভাষার মর্যাদা দিতে হবে।
বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ ধরণের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে । এসকল ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা। ২০১০ শিক্ষানীতির ১৮,১৯,২০ ধারায় সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষায় শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষক নিয়োগ, এবং পর্যাপ্ত স্কুল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও ২০১৭ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু সেই কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সবগুলো নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব বর্ণমালা আছে নাকি নেই সে নিয়ে  বিতর্ক হচ্ছে। যেগুলোর বর্ণমালা আছে সেগুলোরও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। শিক্ষক থাকলেও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি; যা মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এসকল সমস্যা দূর করার জন্য স্ব-স্ব ভাষায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সকল জনগোষ্ঠীর ভাষাকে সংরক্ষণ করতে হবে। শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট গড়তে হবে। সকল সমস্যা দূর হয়ে সকলে মাতৃভাষায় শিক্ষা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা। সকলের মাতৃভাষায় শিক্ষা দিতে পারলেই অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন সার্থক হবে বলে মনে করি।

মিরাজ মিঠু
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ