শনিবার , ১৫ মে ২০২১ |

মুক্তিযুদ্ধের এই মহানায়ক ১৯২০ সালের এই দিনে ফরিদপুরজেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকালে খোকা নামেপরিচিত সেই শিশুটি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতিরমুক্তির দিশারি। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণমমত্ববোধের কারণেই পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা।

সারাদেশে দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও সাড়ম্বরেউদযাপিত হবে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জমহকুমার টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিশু মুজিব। জন্মদিনে এই মহাননেতাকে আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কিশোর বয়সেই মুজিবের সংবেদনশীল হৃদয় ওমানবিক মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। একদিকে সৎ সাহস, অন্যায়েরবিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানসিকতা, অন্যদিকে গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, তাদেরদুঃখ-দৈন্য লাঘবের সংকল্প তাকে অবধারিতভাবেই রাজনীতিতে নিয়ে আসে। স্কুলে পড়াঅবস্থায়ই তার মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটতে দেখা যায়।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততমজন্মবার্ষিকী ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষহিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা কালীন সংকট মোকাবিলা করতে গিয়েমুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান মালা অনেকটা ব্যাহত হয়েছে ।

আমার প্রয়াত পিতা ইঞ্জিনিয়ার রুহুল মতিন ছিলেন জাতিরপিতার আজন্ম অনুরাগী তার কাছে ছোটবেলায় শুনতাম শেখ মুজিবের গল্প •••আমরা যারা শেখ মুজিব কে দেখিনি সত্যিই আমাদের জন্য এ এক কষ্টেরবিষয়।তাইতো তার আদর্শ আর দেখানো পথেই হেটে যেতে চাই•••

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয়মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালেতিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণসম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগেরপূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণসম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ এসেম্বলিরসদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়েরলক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতেহয়।

 

তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটিগণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন।

 

তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপেস্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতাহস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। যা ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার- এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেবিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

 

অন্যদিকে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে (৬ মার্চ) তিনিআনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালেমুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহুআকাঙ্ক্ষিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

 

বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িতও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবেস্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। সাম্য, মৈত্রী,স্বাধীনতা, গণতন্ত্রও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তিপরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন।

 

বিবিসির এক জরীপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীনির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনেরলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেইমুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁরবিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারেরঅধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন।

 

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপর নতুনরাজনৈতিক চিন্তাচেতনা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন মুজিব। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এরমহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮-এর আইয়ুব সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২-এরশিক্ষা আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা স্বায়ত্তশাসনেরআন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি। হয়ে ওঠেন বাঙালিরঅবিসংবাদিত নেতা। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিদেয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার পক্ষে জানায় অকুণ্ঠ সমর্থন।কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কেমেনে নেয়নি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের আপামর জনগণ ১৯৭১ সালে মহানস্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছে বহু কাক্সিক্ষত স্বাধীন সার্বভৌমবাংলাদেশ। ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধুযুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন। কিন্তু সেই সুযোগ বেশিদিনপাননি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের তপ্ত বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বাঙালির এইঅবিসংবাদিত নেতা। শুরু হয় দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত দিকে নিয়ে যাওয়ারপালা। ১৯৭৫-পরবর্তী ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার অনেক চক্রান্ত ষড়যন্ত্রঅপচেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনারনেতৃত্বে ফের ক্ষমতাসীন হয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের সরকার। শেখ হাসিনাপ্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে জাতীয় শিশুদিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ দিবসটি পালন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুবিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে দেশ গড়ারনেতৃত্ব দিতে হবে আজকের শিশুদেরই। তাই শিশুরা যেন সৃজনশীল মুক্তমনের মানুষ হিসেবেগড়ে ওঠে- তিনি সব সময়ই সেটা চাইতেন। তাই জাতির পিতার জন্মদিনকে শিশু দিবস হিসেবেপালন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে সঙ্গেসেই মহান নেতার জীবন ও আদর্শ অনুসরণে এ দেশের শিশুদের যথাযোগ্য সুনাগরিক হিসেবেগড়ে তোলাই হোক আজকে আমাদের অঙ্গীকার।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ