শনিবার , ১৫ মে ২০২১ |

স্বাধীনতা যুদ্বে সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

খালেদ হাসান মতিন   শুক্রবার , ২৬ মার্চ ২০২১

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১সালের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিল একটিভূখণ্ড, যার নাম বাংলাদেশ। সবুজ জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এই দেশটির স্বাধীনতার৫০তম বার্ষিকী। আজকে আনন্দের দিনে আমাদের একটাই কষ্ট স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতার স্থপতিনেই ! সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বাংলাদেশের প্রস্তুতির মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘেরচূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার সুখবরটি আসে। আর স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমানের জন্মশতবার্ষিকী এসেছে উদযাপনের দ্বিগুণ প্রাপ্তি হয়ে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছাড়লে মুক্তি মেলেনি বাংলারমানুষের।জীবন ছিল পাকিস্তানি  শেকলে বাঁধা।সেই শেকল ভাঙার মন্ত্র দিয়ে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলেন শেখ মুজিব। বাংলার মানুষ যাকে ভালবেসেনাম দেয় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বজ্রবাণীর পর ২৫ মার্চ ঢাকায় যে বিভীষিকানামিয়ে এনেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী; তা একটি প্রতিরোধ যুদ্ধের মুখোমুখি করে দেয় নিরস্ত্রবাঙালিদের।

 ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বেতারবার্তায় যখনবাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন,ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র তৃতীয় খন্ডে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঘোষণা উল্লেখ করাহয়। এতে বলা হয় ২৫ মার্চ মধ্য রাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে এ ঘোষণা দেনতিনি। যা তৎকালীন ইপিআর এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। পরে চট্টগ্রামেরস্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বেশ কয়েকজন শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতারঘোষণা পাঠ করেন।বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মূল্যবান দলিলটি সেখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে এভাবে “ইহাইহয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন সেই মুহূর্তে ঘোর অন্ধকার, হানাদারেরগুলি আর বেয়নেটে ক্ষতবিক্ষত দেশ। চলে নয় মাসের তীব্র লড়াই। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, অসংখ্যনারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে আসে সেই স্বাধীনতা।স্বাধীনতা যুদ্বে সকল শহীদের স্মৃতির প্রতিবিনম্র শ্রদ্ধা  তারপর কত ইতিহাস ৯ মাস রক্তক্ষয়ীসংগ্রাম শেষে দেশে স্বাধীন হবার পরে দেশে ফিরে বঙ্গঁবন্ধু যখন যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশটারঅর্থনৈতিক চারা ঘুরিয়ে এক্ট সচল রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছিলেন ঠিক সেই সময় ১৯৭৫ সালে১৫ আগষ্ট সেনা বাহিনীর কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য আমাদের জাতির জনক কে হত্যা করে বাংলাদেশথেকে বঙ্গবন্ধু নামটি মুছে ফেলতে চেয়েছিলো  কিন্তু না ওরা পারেনি!

কে বলেছে মুজিব নেই মুজিব আছে কৃষকের লাঙ্গলের ফলায়,মুজিবমিশে আছে ধানের ক্ষেতে সবুজ স্যামল বাংলায়,লালনের একতারায়•••

আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা তার দূরদর্শী প্রজ্ঞা দিয়ে আজতিনি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে হয়েছেন বিশ্বনেতা গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশের  সবচাইতে সৎ রাজনীতিবীদের নাম শেখ হাসিনা-তার সরকারউচ্চ প্রবৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠা, দারিদ্র্যের হারকমিয়ে আনা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা সূচকে অগ্রগতির পর বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন উন্নত ওসমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

জাতিকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েপ্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা গত কাল জাতির উদ্দেশে ভাষনে বলেছেন, “আসুন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীরএ মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা শপথ নিই- মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবেবাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত স্বপ্নেরসোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।”

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পাওয়া বাঙালিরগত ৫০ বছরের চলার পথও মসৃণ ছিল না। শত বাধা অতিক্রম করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরএই এগিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত প্রাণশক্তি এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, প্রবাসী কর্মীরা।খেটে খাওয়া মানুষের শ্রমে-ঘামে গড়ে উঠছে অর্থনীতির ভিত। তিনি বলেন “আজকের এই অর্জনএ দেশের সাধারণ মানুষের। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক-পেশাজীবী, আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা,এ দেশের উদ্যোক্তাগণ - তাদের শ্রম, মেধা এবং উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দারিদ্র্য নিরাময়েরঅসম্ভব কাজকে সম্ভব করে তুলেছেন।

 

“আমার সরকার শুধু নীতি সহায়তা দিয়ে সহায়ক পরিবেশতৈরি করেছে। আপনারা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ অনুকূল পরিবেশ পেলে যে কোনো অসম্ভবকেসম্ভব করে তুলতে পারে।” পরিশেষ স্বাধীনতার এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারপ্রতি কৃতজ্ঞতা তিনি হাজার বছর বেঁচে থাকুক আমাদের মাঝে।আমরা স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশএকদিন উন্নত সমৃদ্ধ দেশের সামনে মাথা উঁচু করে দাড়াবে।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক,  আর এম গ্রুপ

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ