বুধবার , ১৬ জুন e ২০২১ |

সকালে কঠোর, দুপুর থেকে শিথিল পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক   বৃহস্পতিবার , ১৫ এপ্রিল ২০২১

‘সর্বাত্মক লকডাউন’র দ্বিতীয় দিনও রাজধানীজুড়ে ছিল পুলিশের তল্লাশি চৌকি। সরেজমিন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সকালে মোড়ে মোড়ে পুলিশি তল্লাশি চৌকিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দাঁড় করানো হচ্ছে গাড়িসহ পথচারীদের। যথাযথ কারণ খুঁজে পেলে ছাড়া হচ্ছে তাদের। অপ্র‍য়োজনে বের হওয়া নাগরিকদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুপুর থেকে এসব চেকপোস্টেই ছিল না তেমন তৎপরতা।

প্রথম দিন অনেকটা ফাঁকা থাকলেও দ্বিতীয় দিন জরুরি প্র‍য়োজনে নিয়োজিত যানবাহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর যা আরো বাড়তে থাকে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী নারী মুসলিমা আক্তার বলেন, ‘অফিসের কাজে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই বের হতে হয়েছে। নাখালপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে রিকশায় হাতিরঝিল মহানগর প্রজেক্ট গিয়ে অফিস করেছি’।

মুভমেন্ট পাস নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না। তবে মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট ছিল। আমাকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় নাই’। অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশের তেমন উপস্থিতি দেখেননি বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশি থাকার কারণে নগরের কোথাও যানজটের তথ্য পাওয়া যায়। অফিসের প্রয়োজনে বের হওয়া গাজী কাউয়ুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে আটটায় শংকরে পুলিশি তল্লাশি থাকার কারণে চল্লিশের বেশি গাড়ি বসে থাকতে দেখেছি। তবে পাড়া-মহল্লায় ঠিক কঠোর বিধিনিষেধ বলতে কিছু দেখিনি। সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতনই মনে হয়েছে’ ।

এ ছাড়া দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে মিরপুর কলাবাগান রোডের ধানমন্ডি ২৭,  সোবহানবাগ,  ৩২ নম্বর রোড, কলাবাগান এলাকায় তল্লাশি  চৌকি থাকলেও সেসব এলাকায় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে  নগরীর বসিলা, মোহাম্মদপুর ও শংকর এলাকার চেকপোস্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যদের তেমন তৎপরতাই চোখে পড়েনি। এসব জায়গা দিয়ে রিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অল্পসংখ্যক সিএনজি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে দেখা গেছে।

কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা গোলাম আনোয়ার বলেন, ‘পুলিশ সকালে যেভাবে তৎপর থাকে তা মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি তৎপরতা কমতে থাকে। আমি দেখেছি এতে দুই সমস্যা হয়। সকালবেলা যারা প্রয়োজনে বের হয়, তারা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের  ভোগান্তিতে পরে। অন্য দিকে দুপুরে  চেকপোস্ট তৎপরতা শিথিল থাকায় বিনা প্রয়োজনে মানুষ বাইরে বের হয়ে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করেছে।

রিকশাচালক রবিউল বলেন, ‘সকালে সবখানেই  আটকাইছে। তয় দুপুর হইলেই  পুলিশের আটকা-আটকি বন্ধ হইছে; গতকাইলও সকালে কড়া আছিল  বিকেল ও রাইতে তো পুলিশই দেখি নাই। আইজও তাই হইব’।

যাত্রাবাড়ী থেকে পলাশি হয়ে ঢাকা মেডিকেল আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে চেকপোস্টে উল্লেখযোগ্য পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েনি। আমি নিজে একজনের বাইকে সাহায্য নিয়ে এসেছি। এ ছাড়া রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ প্রাইভেটকারের মতো যানবাহন রাস্তায় চলাচল করতে দেখেছি’।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের বিধিনিষেধ চলছে। ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এ জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়েছে।

 রাজধানী থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ