শনিবার , ১৫ মে ২০২১ |

করোনা মহামারির পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম হবে প্রযুক্তিনির্ভর

খালেদ হাসান মতিন   সোমবার , ২৬ এপ্রিল ২০২১

করোনামহামারির পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম হবে প্রযুক্তিনির্ভর। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায়রেখে কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি আবারও সংস্করণ করা প্রয়োজন।

আমাদেরএ বিশ্ব চিরাচরিত যে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং অর্থনৈতিকভাবে সারাপৃথিবী বিগত দশকগুলোতে যে অগ্রগতির ধারায় এগুচ্ছিল, কোভিড-১৯-এরকারণে ব্যাপকভাবে তার নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় শিক্ষাব্যবস্থার ধরন ও স্বরূপ বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং ক্রমশ তার আধুনিকায়নঘটেছে।

ইতিহাসেশিক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় আঘাত এটিই প্রথম। বহু দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধরয়েছে। ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বরে শুরু হওয়া করোনার আগে পৃথিবী আরও অনেক মহামারিরশিকার হয়েছে। কিন্তু সেসব মহামারির প্রকোপ ছিল কোনো দেশ বা অঞ্চলভিত্তিক।খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০ অব্দে প্লেস অব অ্যাথেন্স, ৫৪১ খ্রিষ্টাব্দেজাস্টিনিয়ার প্লেগ, ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে দ্য ব্লাক ডেথ,কলেরা মহামারি, এশিয়ান ফ্লু, গুটি বসন্ত, এইচআইভি, সার্স, ইবোলা, স্প্যানিশফ্লু- এরকম অসংখ্য রোগে পৃথিবী আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তা পুরো পৃথিবীকে দখল করতেপারেনি। এসব মহামারি যেসব অঞ্চলে বা দেশে হয়েছিল, সেসবঅঞ্চল বা দেশ শিক্ষা, অর্থনীতি সর্বক্ষেত্রে ধ্বংসে পরিণতহয়েছিল। লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু তারা দেখেছে। কিন্তু তখন পৃথিবীর অন্যসব দেশ বাঅন্যসব অঞ্চল মহামারি আক্রান্ত সেসব দেশের বা উপমহাদেশের পাশে সাহায্যের হাতপ্রসারিত করেছে। যে কারণে তারা মহামারি কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিকতায় ফিরতে সক্ষমহয়েছিল। কিন্তু পুরো পৃথিবীর এমন ভয়াবহ মহামারির রূপ এই প্রথম। এত বড় আঘাতপৃথিবীতে আর কখনো ঘটেনি। ১৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১.৬ বিলিয়ন শিক্ষার্থীক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

পৃথিবীনিজেই যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, সেই পৃথিবীর ছোট্টএকটি দেশ বাংলাদেশও যে মৃত্যু আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শিকার হবে, শিক্ষা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ভয়ংকর ক্ষতির শিকারেপরিণত হবে। তারপর মানুষ সবসময় সব ধরনের প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে, মহামারিকে জয় করে জীবন জয়ের গান গেয়েছে।

 

একটাসময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সশরীরী উপস্থিতি ও চিন্তা-চেতনা-ভাবনার প্রকাশের মূলকেন্দ্র ছিল শ্রেণিকক্ষ। কিন্তু বর্তমানে মহামারির এ ভয়াবহ সংকটে চিরন্তন সেস্বরূপ ও চিন্তনের পুরোটাই পরিবর্তন ঘটেছে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে পুরো পৃথিবী এখনবিশ্বায়নে (Gilobal Village) পরিণত হয়েছে। বিশ্বায়নের ফলে যেআন্তর্জাতিক অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে বিনিয়োগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বিপণন আন্তঃদেশীয় পরিসরে পরিব্যাপ্তি লাভ করেছে। গোটা বিশ্বএকটি ব্যাপ্ত সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে, করোনামহামারিতে গোটা বিশ্ব আক্রান্ত হওয়ায় এমন একটি সময়ে আমরা আছি, যখন শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতির মধ্য থেকেও তথ্যপ্রযুক্তিরসুবিধার্থে অভূতপূর্ব কিছু ধারণা উদ্ঘাটিত হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকরি রাখতে নতুন নতুন কৌশল তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমেএকেবারে প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত ডিজিটাল শিক্ষা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হচ্ছে, নতুন নতুন বিভিন্ন পদ্ধতির উদ্ভাবন ঘটছে এবং তা শিক্ষার্থীদের প্রদানকরাও এখন সম্ভব হচ্ছে। গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে,তা এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। বরং সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তিততথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এসব শিক্ষাপদ্ধতি সানন্দে গৃহীত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিরব্যবহারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমান বিশ্ব অবারিত ও অপার সম্ভাবনা তৈরিকরেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সমন্বয় ও ব্যবহার গত এক দশক ছিল যুগান্তকারীএকটি পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে হয়তো আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি আসবে যাতে করে শিক্ষারব্যবস্থার প্রসার ও অগ্রগতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সে সম্ভাবনার অপার আলো আমরাপ্রতিনিয়ত উপলব্ধি ও লক্ষ করছি।

আমারমনে হয় ই-শিক্ষার প্রসারে ২০২০ সালে করোনার বন্ধের সময় শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়েপ্রশিক্ষণ দেওয়ার একটা সুযোগ ছিল। সেটি যতটা সম্ভব দ্রুত করতে হবে। পাশাপাশিশিক্ষার্থীদের আইসিটিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।এ জন্য প্রয়োজন জোরদার মনিটরিং। শুধু শিক্ষা প্রশাসন নয়, স্থানীয় সরকার বিভাগকেও কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিদ্যালয়খোলা গেলেও শিক্ষার্থীদের অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই সমান গুরুত্ব দিয়ে পাঠকার্যক্রম চালাতে হবে। ব্লান্ডেড ও ফ্লিপড লার্নিংয়ের পরিকল্পনা আগেই প্রস্তুতকরতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

এক্ষেত্রেঅনলাইন ও অফলাইনের মিশ্র ব্যবস্থা কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। বিগত যে কোনওসময়ের চেয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে। অভিভাবকদেরওসচেতনভাবে সহযোগিতা করতে হবে শিক্ষার্থীদের পাঠ কার্যক্রমে।

করোনাকালীনসময়ে অর্থনীতি, উৎপাদন-বিপণন, স্বাস্থ্য,গবেষণা-শিল্প-সাহিত্য-প্রকাশনা এসবের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাতেওব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পৃথিবীজুড়েই সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানঅনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। তাই বলে গোটা পৃথিবীর শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ বাস্থবির হয়ে আছে তা কিন্তু নয়। প্রযুক্তির অত্যাধুনিকতায় বিশ্বের সব দেশেই শিক্ষাকার্যক্রম সফল ও স্বাচ্ছন্দ্যভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রযুক্তির সর্বোচ্চব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে তাসবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসাবে গৃহীত হয়েছে। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাএখন প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছে। অনলাইন পদ্ধতিতেক্লাস, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা,অ্যাসাইনমেন্ট, ওয়েবিনার আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একেবারেই নতুন সংযোজন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ওসাহায্য-সহযোগিতা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। সরকারের সময়োপযোগী কার্যকরি এ উদ্যোগেশিক্ষার্থীরা নতুন এ বিষয়টিকে সহজে গ্রহণ করে নিজেকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েঅগ্রসরমান নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে পারছে। অনেক আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ

লেখক-স্বত্বাধিকারী , লেকহেড গ্রামার স্কুল

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ