বুধবার , ১৬ জুন e ২০২১ |

আজ বিশ্ব জীব বৈচিত্র দিবস,

থেমে নেই জীববৈচিত্র্য ধ্বংস

রাজ্জাক হোসাইন রাজ   শনিবার , ২২ মে ২০২১

জৈববৈচিত্ৰ্য হলো- জল, স্থল সকল জায়গায় সকল পরিবেশে থাকাসকল ধরনের জীব এবং উদ্ভিদের বিচিত্ৰতা।

জীববৈচিত্র্যসম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ২২ মে দিনটি বিশ্বজীববৈচিত্র্য দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে।

স্বাধীনতারপর ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীব বৈচিত্র্য ও পরিবেশেরভারসাম্য রক্ষার জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ সেল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করেন।এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২২ মে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতেবায়োডাইভার্সিটি (সিবিডি) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এরপর ৫ জুন ১৯৯২ সালে ব্রাজিলেররিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচীর ধরিত্রী সম্মেলনে সিবিডি বিভিন্নদেশের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৬৮টিদেশ সিবিডি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং সিবিডি ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকরহয়। বর্তমানে এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা ১৯৫ টি।

কিছুদিনআগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্তোরাঁর প্রয়োজনে প্রাচীন গাছগুলো কাটা হলো যাচূড়ান্ত মানসিক অবক্ষয় না হলে সম্ভব নয়। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশেই গাছের মধ্যইগড়ে উঠেছে নান্দনিক রেস্তোরাঁ। 

চরমজলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা, আবাসস্থল হ্রাস, বন উজারকরণ ইত্যাদির ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।আইইউসিএন আরো বলেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০% জীববৈচিত্র্যবিলুপ্ত হয়ে যাবে।

জীববৈচিত্র্যহ্রাসের জন্য অনেকগুলো হুমকি রয়েছে, যার মধ্যে কিছুপ্রত্যক্ষ এবং গতিশীল এবং অন্যগুলো পরোক্ষ। হুমকিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন, বন ও জলাভূমিকে কৃষিক্ষেত্রে রূপান্তর বা ভূমি ব্যবহারের অন্যান্য রূপ,দুর্লভ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনসংখ্যার চাপ, বায়ু এবং পানি দূষণের বিভাজন, জলবিদ্যুৎব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত সংগ্রহ।সেই সাথে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার করে খাদ্য শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি,জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল বা প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের উন্নয়নের জন্যবরাদ্দ হস্তক্ষেপ, জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চলেঅনিয়ন্ত্রিত পর্যটন (যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চল, কক্সবাজার এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপ), জলবায়ুপরিবর্তন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

 

জীববৈচিত্র্যসংরক্ষণে শুধুমাত্র কয়েকটি আলোচিত প্রজাতি রক্ষা করলেই জীববৈচিত্র্য রক্ষা হয় না।জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সকল প্রকার জীব প্রজাতিকে সমান গুরুত্ব দেয়া।পরিবেশবিজ্ঞানের অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জীববৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবেমানবসমাজের উপকারে আসে। একটি স্থিতিশীল পরিবেশের সাথে মানুষের ভালো থাকার সম্পর্ক রয়েছে।আর এ সমস্ত লাভ ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে নীতিগত ভাবেই জীবজগতের অন্য প্রাণীদের ধ্বংসেরমুখে ঠেলে দেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সমগ্র প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের বেঁচে থাকার জন্যপ্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা একান্ত অপরিহার্য। মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবংস্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বার্থে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আবশ্যক।

বর্তমানও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেঁচে থাকার জন্য জীববৈচিত্র্যের প্রয়োজন। তাই এর ভারসাম্য বজায়রাখতে সঠিক সংখ্যায় সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণমানুষকে বুঝাতে হবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এবংপ্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় না থাকলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জটিল সমস্যাগুলো পরিচালনা করার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতেহবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিকল্প নেই। আর তা করতে হবেমানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই।


রাজ্জাক হোসাইন রাজ
সাধারন সম্পাদক
গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট
মানিকগঞ্জ জেলা শাখা

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ