মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ |

জীব বৈচিত্র সংরক্ষনের বিকল্প নেই

খালেদ হাসান মতিন   শনিবার , ২২ মে ২০২১

মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি মিলিয়েই আমাদের পৃথিবী। মানুষ এটিকে নির্দয়ভাবে ওনির্বিচারে ব্যবহার করছে, ফলে বিশ্ব ব্যবস্থাই আজ হুমকিরমুখে। জীব-বৈচিত্র্য বিশ্ব পরিবেশের এক অনন্য উপকারী সত্ত্বা। বাস্তুতান্ত্রিকস্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জীব-বৈচিত্র্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

বস্তুতপৃথিবীর মাটি, পানি ও বায়ুতে বসবাসকারী সব উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবদের মধ্যে যে জিনগত, প্রজাতিগতও পরিবেশগত (বাস্তুতান্ত্রিক) বৈচিত্র্য দেখা যায় তাকেই জীববৈচিত্র্য বলে।

আন্তর্জাতিকজীব-বৈচিত্র্য দিবস পালিত হয় ১৯৯২ সালের ২২ মে থেকে। অথচ মানুষ এখনো এ ব্যাপারেসচেতন হয়ে উঠতে পারেনি। প্রতিনিয়ত মানুষ জীব-বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলেদিচ্ছে গাছ কাটার মতো জঘন্য কাজ করে।জীব-বৈচিত্র্য হলো পৃথিবীতে জীবনের জৈবিকবৈচিত্র্য এবং পরিবর্তনশীলতা।

পৃথিবীর১০ বিলিয়ন ভাগের একভাগ অংশতেই ৫০ মিলিয়ন প্ৰজাতির বিভিন্ন জীব-জন্তু এবংউদ্ভিদের বসবাস। আজ ২২ মে বিশ্ব জীব-বৈচিত্র্য দিবস। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হলো-জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে পৃথিবীব্যাপী সচেতনতা। অথচ পৃথিবী দিনে দিনে রোবোটিক হয়েওঠছে। এদিকে মানুষ বংশ বিস্তার করছে চক্রবৃদ্ধি হারে।

প্রতিনিয়তখাবার ও বসবাসের জায়গা খুঁজছে মানুষ। বন জঙ্গল কেটে ফেলছে। নদীতে বাঁধ দিচ্ছে এবংবালু বা কংক্রিট দিয়ে মাটি ঢেকে দিচ্ছে। বিশুদ্ধতার সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে সবধরনেরদূষণ। এমন ধ্বংসযজ্ঞ সবুজ গ্রহে দাঁড়িয়ে ১৯৯২ সালের ২২ মে রাষ্ট্র, সরকার ও পৃথিবীর বড় বড় সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ব্রাজিলের রিও-তে শীর্ষধরিত্রী সম্মেলন-এ জীব বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

মানুষেরঅমানবিকতা এবং অসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়তই এ সমস্যা প্রকট রূপ ধারণ করছে। ফলেবিপণ্ন হচ্ছে জীব-বৈচিত্র্যতা। বিশেষ করে শিল্পোন্নত ২০ দেশের উৎপাদিত ৮০ শতাংশক্লোরো-ফ্লোরো কার্বনডাই অক্সাইড দিচ্ছে বিশ্বের তাপমাত্রা।

 

একতথ্য মতে,আমাদের দেশে সুন্দরবনসহ ৪০ প্রকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী আজবিপণ্ন। অতিবিপণ্ন বা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। বন বিনাশ, পিটিয়ে মারা, শিকার, বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত, পর্যাপ্ত খাবার ওপ্রাকৃতিক বন্যা, মহামারি, দুর্যোগ,ঘূর্ণিঝড় ও আশ্রয়ের অভাবে এসব প্রাণীর সংখ্যা দিনে দিনে কমছে।

কিছুদিনআগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্তোরাঁর প্রয়োজনে প্রাচীন গাছগুলো কাটা হলো যাচূড়ান্ত মানসিক অবক্ষয় না হলে সম্ভব নয়। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশেই গাছের মধ্যইগড়ে উঠেছে নান্দনিক রেস্তোরাঁ।

সুতরাং, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় একটি বৈশ্বিক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা কোনোভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়। প্রকৃতি, পরিবেশ ওজলবায়ুর সঙ্গে জীব বৈচিত্র্যের সম্পর্ক বিদ্যমান। পৃথিবীকে সুন্দর, পরিছন্ন ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করতে উন্নত, উন্নয়নশীলও অনুন্নত দেশকে জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে বাঁচতে হলে একযোগে কাজ করতে হবে।


খালেদ হাসান মতিন
চেয়ারম্যান
আর এম ফাউন্ডেশন

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ