বুধবার , ১৬ জুন e ২০২১ |

মোঃ বজলুর রহমান আনছারী :
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সনের এইচ.এস.সি ও সমমান পরীক্ষা না নিয়ে এস.এস.সি/সমমান এবং জে.এস.সি/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গড়ের উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের ২০২০ সনের এইচ.এস.সি পাশের মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে গত বছর ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছে। মন্ত্রী মহোদয় অবশ্য বলেছিলেন, কভিড-১৯ পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই। সে কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ঐ সময়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। অনেকেই সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য এবং তা পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। আবার কেউ বলেছিলেন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও একধাপ ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের এমন সিদ্বান্তে লাভবান হয়েছে কম মেধাবী ও অকৃতকার্য হওয়ার মত যোগ্য শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য অনেক শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়ার দাবিতে রাজনৈতিক চাপ সহ্য করতে হয় মফস্বলের অনেক কলেজ কর্তৃপক্ষকে। অনেক জায়গায় হামলা-ভাংচুর এমনকি সহিংস ঘটনা ঘটতেও শোনা যায়। অটোপাশের ফলে শহরের নামীদামী কলেজগুলো লাভবান না হলেও মফস্বলের অনেক কলেজ যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত পাশের হার ৫০% অতিক্রম করতে পারেনি, সে সকল কলেজেও এবার পাশ করেছে শতভাগ। অনেক শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় সকল বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েও অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ফরম পূরণের সুযোগ পাওয়ায় তাদের ভাগ্যেও পাশের সনদ জুটেছে। অনেক কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য কাউকে ফরম পূরণের সুযোগ না দেয়ায় অটোপাশের কারণে ঐ সকল শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রশাসনের প্রতি বিভিন্ন ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বিগত বছরগুলোর পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, অটোপাশের ফলে প্রায় এক চতুর্থাংশ পরীক্ষার্থী পাশের অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষা পাশের সনদ তাদের ভাগ্যে জুটেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বর্তমান পরিস্থিতি কি ১৯৭১ এর চেয়েও ভয়াবহ? গত বছর এইচএসসিতে অটোপাশ দেয়া হলেও এ বছর আর অটোপাশ নয় বলে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আবার গতবারের অটোপাশকে কর্তৃপক্ষ অটোপাশ বলতে নারাজ। কারণ পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তÍুতি তারা নিয়েছিল। এ বছর মাধ্যমিকে ৬০ দিন ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৮৪ দিনের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে বলে আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তÍু কবে নাগাদ এ সিলেবাস সম্পন্ন করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তার দিন তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। ফলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। করোনায় শিক্ষার ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশী। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূর প্রসারী। শুধু পরীক্ষার্থী নয় প্রায় পৌনে চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন আজ অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম ছাড়া সবই তো চলছে। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও যথারীতি সম্পন্ন হয়েছে। সকল স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংএ হিসাব খোলার কাজ সম্পন্ন করেছে। অভিভাবকসহ তাদেরকে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও সম্পন্ন হয়েছে দেশের সকল জেলা-উপজেলায় বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার জন্য ন্যূনতম হলেও ৬ (ছয়) দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়েছে। ঐ সময়ে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে স্কুল-মাদ্রাসায় গিয়েছে। আবার কোন রকম মূল্যায়ন ছাড়াই স্কুল-মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে উপরের শ্রেণিতে প্রমোশনও দেয়া হয়েছে। অথচ এ ৬ দিনে অন্তুত: গুরুত্বপূর্ণ ৬টি বিষয়ের অভ্যন্তরীন মূল্যায়ন পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করা অসম্ভব কিছু ছিল না। সারা দেশের সকল স্কুল-কলেজ-কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও মফস্বল বা উপজেলা সমূহে প্রাইভেট কোচিং কি বন্ধ?  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় সকল উপজেলায় প্রাইভেট পড়ার প্রতি স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কমতি নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিষয় ভিত্তিক প্রাইভেট শিক্ষকদের বাসায় শিক্ষার্থীদের ভিড় লেগেই আছে। এতক্ষণতো বললাম শিক্ষার কথা। কিন্তÍ কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে দেশে কোন্ কাজটি বন্ধ রয়েছে? সরকারি নির্দেশেই অফিস-আদালত, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবইতো স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। রাস্তা-ঘাটে চলাফেরায় লোকজন তো কম দেখা যায় না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে চলছে কঠোর লক ডাউন। মানুষ কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে কেনাকাটা করতে ভিড় করছে বিভিন্ন মার্কেটে। বাজার অলিগলি সর্বত্রই মানুষের ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্ব সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হচ্ছে সর্বত্রই। লক ডাউনের মধ্যেই খুলে দেয়া হয়েছে শপিংমল; স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে গণপরিবহন। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কেন্দ্র বিন্দু সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের পাশ ইস্যু বন্ধ থাকলেও সচিবালয়ে কি কোন দর্শনার্থী প্রবেশ করছেন না? আগে কোন দর্শনার্থীকে যেখানে বৈধ পন্থায় পাশ সংগ্রহ করে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে হতো এখন তা আর লাগছে না। কিন্তু সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ একেবারে বন্ধ নয়। শুধুমাত্র প্রবেশের ক্ষেত্রে পদ্ধতি পাল্টেছে। হাফিজি বা কওমী মাদ্রাসাসমূহও খোলে দেয়া হয়েছিল। কওমী মাদ্রাসাসমূহ শিক্ষাকার্যক্রম সম্পন্ন করে যথারীতি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ৪৪তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। যদিও গত ১৪ এপ্রিল থেকে পুনরায় লক ডাউন শুরু হওয়ায় এ সকল মাদ্রাসাসমূহ আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনাকালীন এ সময়েও স্থানীয় সরকারের সকল পৌর নির্বাচনসহ সকল উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদেরও বেশ কয়েকটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাহলে পরীক্ষা না হওয়ার কোন কারণ ছিল কি? আটোপাশ না দিয়ে বিকল্প কোন পন্থা কি ছিল না? যেখানে দেশের সকল স্কুল-কলেজ ছিল বন্ধ; সেখানে কেন্দ্র/ভেন্যূ সংখ্যা বাড়িয়ে, দূরত্ব বজায় রেখে সুষ্ঠু আসন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া কি সম্ভব হতো না? মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় অবশ্য বলেছেন, বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে আলাপ করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটি হয়তোবা বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহ করে এ জাতীয় সুপারিশ প্রণয়ন করে থাকতে পারেন। তবে সরকারের এ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকৃত অংশীজনদের মতামত নেয়া হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। এ জাতীয় পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার সাথে যাঁরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন; তাঁদের মতামত নিলে ভিন্ন সুপারিশ আসতো বলে আমার ধারণা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সুপারিশ প্রদানের জন্য উচ্চ পর্যায়ের বিশিষ্টজনদের নিয়ে কমিটি গঠন করে থাকেন। গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এসকল কমিটিতে সক্রিয় অংশীজনদের অংশ গ্রহণ না থাকায় প্রণীত সুপারিশ অনেক সময় গ্রহণযোগ্য ও বাস্তব সম্মত নাও হতে পারে। 
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশের ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে মহিলা পরিষদ ৩০৬ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে; এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ১৩৫ জন কন্যা শিশু। পরিবারগুলোর মধ্যে নারী নির্যাতনও বেড়েছে। করোনা মহামারীতে দেশে ধর্ষণ, হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ বেড়েছে। খুব দ্রুত মানুষের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। এটি জাতির জন্য এক মহা সংকট তৈরী করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল-কলেজের মেয়েরাই বেশী বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই বিপথগামী হচ্ছে। অনেকেই ইন্টারনেট, ফেইসবুকে আসক্ত হয়ে বইয়ের সংস্পর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছে। আবার দরিদ্র পরিবারের অনেকেই অভিভাবকের সাথে কাজে যোগ দিয়েছে। তাদেরকে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রায় ১৪ মাস যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরী হয়েছে এক ধরণের মানসিক উৎকন্ঠা। যদিও করোনাকালীন সময়ে সংসদ টেলিভিশন রেকর্ডেড ক্লাশ প্রচার করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাশ চালু করেছে। এ সকল কার্যক্রম খুব বেশী ফলপ্রসূ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়নি। কেননা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সশরীরী উপস্থিতি ও ভাব বিনিময় প্রকাশের মূলকেন্দ্র হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইন ক্লাশে ভাব প্রকাশের সুযোগ না থাকায় ফলপ্রসূ না হওয়ার অন্যতম কারণ। গত জানুয়ারি মাসে গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালিত এক সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী সংসদ টেলিভিশনের ক্লাশে অংশ গ্রহণ করেছে। অন লাইন ক্লাশে অংশ নিয়েছে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী। কিন্তু বাস্তবতা আরও ভিন্ন। মফস্বলে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার একজন শিক্ষার্থীও টেলিভিশন বা অন-লাইন ক্লাশে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়নি। এর পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে টিভি/কম্পিউটার/ল্যাপটপ/স্মার্টফোন না থাকা, বিদ্যুতের লোডশেডিং, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ইন্টারনেটের অপ্রতুলতা, অনভ্যস্ততা, অনাগ্রহ, পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা ইত্যাদি। শহরের শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমে কিছুটা উপকৃত হলেও সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা। গত মার্চ মাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর প্রস্তÍুতি গ্রহণ করলেও সংক্রমণ হার বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ কয়েক দফা পিছিয়ে ২৯মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনেকেই আশংকা করছেন এটি আবারও বাড়ানো হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু চালুর ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে সর্বত্রই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা অনেকাংশেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আর দেরি না করে  আগামী ২৯মে’র পর শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে এখনই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা উচিত। সেক্ষেত্রে সংক্রমণ হার বিবেচনা করে অঞ্চল ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। ১৪ মাস যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠানমূখী করার জন্য গ্রহণ করতে হবে নানামূখী পদক্ষেপ। প্রতিষ্ঠানের ছুটি কমিয়ে আনতে হবে; বাড়াতে হবে সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধূলা, বিতর্ক, সৃজনশীল কর্মকান্ডের পরিধি। জোরদার করতে হবে মনিটরিং কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট কাটিয়ে উঠার উপায়ও খুঁজতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোচিং বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকে না পরে সেজন্য প্রতিষ্ঠানে ফলপ্রসূ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে অন-লাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে অবশ্যই বরাদ্দ বৃদ্ধি করে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই শিক্ষার এই সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব।
                                                                                                                                           লেখক ঃ শিক্ষা গবেষক
                                                                                                                                        bransari69@yahoo.com

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ