বুধবার , ১৬ জুন e ২০২১ |

বিশ্ব পরিবেশ দিবস -২০২১  এবারের প্রতিপাদ্য বাস্ততান্ত্রের পূনরুদ্বারবাংলাদেশের প্রিয় শিক্ষিত তারন্য একবিংশশতাব্দীতে দাড়িয়ে একজন পরিবেশ কর্মী হিসেবে বিনয়ের সহিত আপনাকে বলছি•••

হাজার বছরের রক্তঝরা সংগ্রাম শেষে ২ লক্ষ মা বোনেরসম্ভ্রম আর ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এদেশ আপনার আমার সকলের। এদেশে জন্মগ্রহন করেছে শেখ মুজিব, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, সোহরাওয়ার্দী, মাইকেল, সূর্যসেন, তিতুমীর, ভাষানী, শেরেবাংলা, হীরালালসেন ,ক্ষুদিরাম ,রোকেয়া, অমর্তসেন, সালাম, বরকত, রফিক, জাব্বার , এবং ৭ বীর সহ শত শত জ্ঞ্যানী গুনী বীর।সেদেশের মাটিতেজন্ম বলেই আমি ধন্য।শত সংগ্রাম শেষে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যারা বাংলার স্বাধীনতাছিনিয়ে এনেছিলো তাদের দেশপ্রেম আর আত্বত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এদেশের স্মৃতিসৌদেরমিনারের কাছে গেলে শরীরের কাটা জেগে উঠে একুশের প্রভাত ফেরীতে ভোর বেলা উঠে একুশেরচেতনায় শহীদ বেধীতে পুস্পস্তবক অর্পন করার সময় মনে মনে ভাবী••• মানব ও জনম ও বুঝি বৃথা-এদেশ তো আমাকে অনেক দিয়েছে কিন্তুআমি কি দিয়েছি•••? ওরাতো দেশপ্রেমে অনুপ্রানীত হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে এদেশ গড়েছে কিন্তু আমি••••?

হ্যা প্রিয় তারন্য আপনাকে বলছি•••

এদেশে বর্তমান সময়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৭৪.৭০শতাংশ ।সর্বশেষ ২০২০ সালে এক জরিপে দেখা যায় দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃত্বীয়াংইতরুন এবং আমি আপনি তারমধ্যে একজন।

যদি আমাকে বলেন এদেশ আপনাকে কি দিয়েছে•••? তাহলে আমার উত্তর হচ্ছে-হ্যাএদেশ প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ আমাকে দিয়েছে লাল সবুজের একটি পতাকা,,৪৯,২১০বর্গ কিলোমিটারের একটি ভূখন্ড(নতুন দ্বীপ সমূহের মোট আয়তন হতে পারে ১৬০০ বর্গকিলোমিটার। ১,৪৭,৬১০ বর্গ কিলোমিটার এর সাথে ১৬০০ বর্গ কিলোমিটার যুক্তকরলে বর্তমানে বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৯,২১০ বর্গ কিলোমিটার প্রায়),একটিআধুনিক আন্তর্জাতিক মান সম্মত এনআইডি কার্ড যা আমাকে দিয়েছে এদেশের নাগরিকত্ব,ভোটাধিকার,পেয়েছিমায়ের ভাষা প্রিয় বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি,পেয়েছি বাঙালী জাতি হিসেবেগর্ব বোধের অধিকার।এছাড়া স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য,মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি,আধুনিকও ডিজিটাল সেবা সহ অসংখ্য অধিকার••••

এবার আপনাকে কিংবা আপনাদের যদি বলি আপনি কি দিয়েছেনদেশকে•••? হ্যাপ্রশ্নটি রইলো আপনার বিবেকের কাছে। হ্যা আমিও দুর্ভাগা জন্মেছি এদেশে কিন্তু কিছুইদেইনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ কে। তবে গর্বিত বাঙালী জাতি হিসেবে এদেশের একজনতরুন হিসেবে এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস নিয়ে ভালবাসি জন্মভূমি এ বাংলাদেশ কে-

 

৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দাঁড়িয়ে যখন দেখি দেশেরসবচাইতে ভয়ংকর ক্ষতিকর পন্য প্লাস্টিকদূষনে তরুনদের হার প্রায় ৬৮শতাংশ।গভেষনা বলছে এই তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠী একবার ব্যবহার করা হয় এমন সিঙ্গেল ইউজপ্লাস্টিক পণ্য বেশী ব্যবহার করে।

গবেষণার এই ফলাফল এমন এক সময়ে পাওয়া গেল যখন সারাবিশ্বে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছেসার্বিকভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে।

একবার ভাবুন তো,সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ থেকেশুরু করে রাতে ঘুমাতে যাবার আগ পর্যন্ত আপনার জীবনে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কতটাব্যাপক।

সকালে উঠে যে ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করছেন এবং যেটিউব থেকে টুথপেস্ট আসছে, তার সবকিছুই প্লাস্টিকের তৈরি। এছাড়া দিনে প্রতিটিখাবার এবং জীবনযাত্রায় প্লাস্টিক পণ্য এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্লাস্টিক যেহেতু পচনশীল নয়, তাইব্যবহারের পর যেসব প্লাস্টিক পণ্য ফেলে দেয়া হয়, তার অধিকাংশই যুগের পর যুগ একইভাবে পরিবেশে টিকে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিকঅ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক গবেষণায় বলেছে,মুদি দোকান থেকে কেনা পণ্য বহন করারজন্য যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে।

চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যেসব প্লাস্টিকের কাপব্যবহার করা হয়, সেগুলো ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ডায়াপার এবংপ্লাস্টিক বোতল ৪৫০ বছর পর্যন্ত পচে না।তরুণরা-যুবকরা সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক দূষণকরছে বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিয়ে গবেষণাটি করেছে বেসরকারি সংস্থাএনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালেরমধ্যে ওই গবেষণাটি করা হয়েছে।গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ এবং যুবকরাই পরিবেশেপ্লাস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। যেসব খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকেরপ্যাকেট রয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে তরুণ এবং যুবকেরা -যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

 

প্রিয় তারন্য-আপনি জানেন কি ?

 

বাংলাদেশ এক বছরে ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সৃষ্টিকরে। প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সৃষ্টি করে; যাবছরে মোট সৃষ্ট বর্জ্যরে ৮ শতাংশ।

এবং যখন প্লাস্টিক বর্জ্য কোনো স্থান দখল করে পরিবেশেরওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে তখন প্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি হয়। আমরা অনেকেই প্লাস্টিকদূষণ-এর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা জেনেও প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার করছি। ফলেপ্লাস্টিক বর্জ্য নানাভাবে মিশে যাচ্ছে পরিবেশের সঙ্গে। যার ফলস্বরূপ উর্বর মাটিহচ্ছে অনুর্বর, জলাশয় জলজপ্রাণীর জন্য হয়ে উঠছে বিপজ্জনক।প্লাস্টিকজাতীয় পন্যের ক্ষতিকর মাইক্রো অরগান ভূ-পৃষ্ঠের নিচে আমাদের খাবার পানির লেয়ারেমিশে পানির মাধ্যমে প্রবেশ করছে আমাদের দেহে ফলে ক্যানসাসের মত মারাত্বক ক্ষতিকররোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমি-আপনি-আমরা।

ইস যদি ৭১ এ যুবক হতাম তবে মহান মুক্তিযাদ্ধে অংশগ্রহনকরতাম আর দেশের জন্য রনাঙ্গনে লড়াই করতাম !!!! আফসোস করি সে সময় জন্ম হয়নি বলে ।কিন্তু পরক্ষনেই ভাবি তাতে কি দেশকে সব সময় ভালবাসা যায় ।

বিশ্ব কোভিড ১৯ মহামারীর সময় সারা পৃথিবীতে এ বিশ্বমানব জাতিকে Alearming দিয়েছে যে আমরা মানুষরা পৃথিবীর সাথে বিরূপ আচরন করছিফলে গোটা বিশ্ব আমাদের উপর নারাজ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সারা বিশ্বের শিল্পবিপ্লবের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তা পরিবেশ কে ধংশ করে। দূষণের দোষেদূষিত হয়ে উঠছে চারপাশ। শিল্প বর্জ্য,মেডিক্যাল বর্জ্য, প্রাণিজএবং অন্যান্য বর্জ্যসহ বিভিন্ন রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ,অন্যদিকেপরিবেশের অন্যতম অংশ নদীর দূষন,দখল,শব্দ দূষন,ইট ভাটার ধূয়া,কৃষি জমির মাটি কেটে ইটের ভাটায় তৈরি হচ্ছে ইট ফলেপ্রতি বছর দশমিক ৭-৮% হারে প্রতিবছর কমছে আবাদী জমি। অন্যদিকে এই জমি কমার অন্যতমবড় কারণই হল জনসংখ্যার চাপ। আবাদী জমি ভাগ হয়, বাড়ি ঘর তোলে। ফলেস্বাভাবিকভাবেই জমি কমে, ধানের ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে।যার ক্ষতিকরপ্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গৃহপালিত প্রাণী। পরিবেশবিপর্যয়ের কারণে চারণভূমির অভাবে প্রাণী খাদ্যের অভাব হচ্ছে, তাপজনিত, ভেক্টরবাহিতএবং সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন হচ্ছে বাধাপ্রাপ্ত।অতিবৃষ্টি, উচ্চ তাপমাত্রা এবং খরার ফলে মানুষের অজান্তেই সৃষ্টিহচ্ছে একের পর এক শক্তিশালী ভাইরাস। জলবায়ু পরিবর্তনে বিভিন্ন প্রাণীর জটিল ও কঠিনরোগ দেখা দিচ্ছে। পরিবেশের ওপর জলবায়ুর প্রভাবের জন্য ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত, ভেক্টরপ্রভাবিত এবং খাদ্যাভাবজনিত রোগসহ নানা রোগ হয়ে থাকে। নদীর এক কূল ভেঙ্গে গড়ে উঠছেআরেক কূল। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন পরিবেশ,যা অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের জন্যবাসযোগ্য হয়ে ওঠে না।

 

সারাবিশ্বের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে বিশ্বজলবায়ু পরিবর্তন বা Claimet Changeউন্নত রাষ্ট্রের সমস্ত মোড়লরা সকলেই আজ এক হয়েছে টেকসই উন্নয়নপরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব শিল্প তথা জনসচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বকেতার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে ।আন্তর্জাতিক ভাবে দূষণের তালিকায় বাংলাদেশেরঅবস্থান খুবই নগন্য কারন বাংলাদেশের সরকার উপকূল এলাকায় বিভিন্ন প্রতিকূলদূর্যোগের মাধ্যমে কিভাবে টিকে থাকতে হয় তা শিখিয়েছে ।অন্যদিকে উপকূল এলাকায়মুজিব তিল্লী সহ বিভিন্ন সাইক্লোন সেন্টার,সুমদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সুউচ্চ বাধ নিন্মানের মাধ্যমেজলোচ্ছাস সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে উপকূল বাসীকে রক্ষা করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য মাননীয়প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে পরিবেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অবদ্যা আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেছে শুধু তাই নয় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন যেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেুনিও গুতেরেস, গ্লোবালসেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের (জিসিএ) এর সভাপতি বান কি মুন, সিভিএফভুক্তদেশগুলোর সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি (সিওপি২৬ এর আয়োজক ও সহআয়োজক), দ্যনেদারল্যান্ডস, সিভিএফ থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডরস এবং ইভেন্টটির অন্যান্যআন্তর্জাতিক অংশীদার।

 

আর সেই ভাবনা থেকেই দেশকে ভালবেসে দেশের একজন নাগরিকহিসেবে অংশ নিয়েছি দেশের পরিবেশ কর্মী হিসেবে । অন্তত এটুকু বলতে পারবো আমি দেশেরপরিবেশ দূষণের দায় মুক্তি ঘোচাতে সিংগেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জন করেছি এবং বিশ্বজলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে বাস্তুসংস্থানের পূনরুদ্বারের মাধ্যমেএকজন পরিবেশ কর্মী হিসেবে কিছুটা হলেও চেষ্টা করে যাচ্ছি••••আসুন আমার আপনার সম্মিলিত প্রয়াসে পৃথিবীকে  তার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করিপৃথিবীর সকল প্রানীর নিরাপদ বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলি

তা না হলে আগামীর প্রজন্ম নিরাপদ নয় ওরা আমাদের ক্ষমাকরবে না

লেখক:  রাজ্জাক হোসাইন রাজ, সাধারন সম্পাদক  , গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট , মানিকগঞ্জজেলা শাখা

 

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ