বুধবার , ১৬ জুন e ২০২১ |

নাঈম-আফিফের ব্যাটে শীর্ষে আবাহনী

দেশকাল স্পোর্টস ডেস্ক:   শুক্রবার , ১১ জুন e ২০২১

কখনও তুললেন ঝড়, কখনও রানের জন্য করলেন সংগ্রাম। নিজের মতো করে খেলে চলতি আসরে নিজের প্রথম ফিফটি করলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নেমে পঞ্চাশের দেখা পেলেন আফিফ হোসেন। তাদের ব্যাটে বড় সংগ্রহ গড়ল আবাহানী। তারুণ্য নির্ভর শাইনপুকুরকে হারিয়ে পয়েন্টে তালিকার শীর্ষে উঠল মুশফিকুর রহিমের দল।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে বৃহস্পতিবার ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ২৫ রানে জিতেছে আবাহনী। নাঈম ও আফিফের শতরানের জুটিতে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান করে শিরোপাধারীরা। শাইনপুকুরের ইনিংসের ১৭ ওভার শেষে বৃষ্টি নামলে আর খেলা সম্ভব হয়নি। সে সময় দলটির স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১২৩, ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে তাদের প্রয়োজন ছিল ১৪৯ রান।

৫০ বলে চারটি করে ছক্কা ও চারে ৭০ রান করেন নাঈম। এর আগে মিডল অর্ডারে বিশের ঘরে দুটি সাদামাটা ইনিংস খেলা আফিফ ৪২ বলে করেন ৫৪ রান। চার ছক্কার পাশে তার ইনিংসে চার তিনটি। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন শাইনপুকুরের বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম।

বিকেএসপির মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করে আবাহনী। মোহর শেখের করা ম্যাচের প্রথম ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মারেন নাঈম। ইনিংসের শুরুতেই ছক্কা হাঁকান আফিফ। পরে সময় নেন দুই ব্যাটসম্যানই। প্রথম দুই ওভারে ২২ রান আসার পরও পাওয়ার প্লেতে আবাহনী তুলতে পারে কেবল ৩৮ রান।

সপ্তম ওভারে ইফতেখার সাজ্জাদকে ছক্কায় ওড়ান আফিফ। পরের ওভারে মারেন নাঈম। বাড়তে থাকে রানের গতি। একাদশ ওভারে রবিউল ইসলামকে টানা দুই ছক্কায় পঞ্চাশ স্পর্শ করেন আফিফ।

৩৭ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে বেশিক্ষণ টিকেননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মোহরের বলে সাব্বির হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ৫৪ রানে। ভাঙে ১১১ রানের জুটি। সেই ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে ৩৫ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন নাঈম। ঝড়ের আভাস দিলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। সাব্বিরকে পরপর দুই ছক্কা মেরে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান থামেন ১৮ রানে।

শান্তর পর নাঈমকেও বিদায় করেন তানভির। বাঁহাতি এই স্পিনার ইনিংসের শেষ ওভারে নেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেনের উইকেট। বড় রান তাড়ায় শুরুতেই রহমান আলিকে হারায় শাইনপুকুর। নিয়মিত ওপেনার সাব্বিরের জায়গায় নেমে দুই বল খেলে রান করতে পারেননি রহমত।

চারটি চারে ১৭ বলে ২২ রান করে ফিরেন রবি। সময়ের দাবি ছিল বড় শটের। সেই চেষ্টা খুব একটা দেখা যায়নি তানজিদ হাসান ও তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে। স্বভাববিরুদ্ধ ৩৫ বলে ২৯ রানের ইনিংস খেলে মোসাদ্দেক হোসেনের বলে এলডব্লিউ হন তানজিদ।

শেষের দিকে রানের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন হৃদয়। দুই ছক্কায় ডানা মেলার আভাস দেওয়া শাইনপুকুর অধিনায়ককে কট বিহাইন্ড করেন সাইফ। ৩২ বলে ২ ছক্কায় ৩৬ রান করেন হৃদয়। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে লড়াইয়ের আভাস দেন মাহিদুল। বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির ওভারে মারেন তিন ছক্কা। লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলামের বলে আরেকটি।

বৃষ্টির জন্য অবশ্য লড়াই-ই করতে পারেননি তিনি। ১৫ বলে চার ছক্কায় করেন ৩১। ছয় ম্যাচে পঞ্চম হারের স্বাদ পেল শাইনপুকুর। ৬ ম্যাচে পঞ্চম জয় নিয়ে শীর্ষে উঠল আবাহনী। সমান পয়েন্ট হলেও রান রেটে পিছিয়ে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আবাহনী ক্রীড়া চক্র: ২০ ওভারে ১৮৩/৫ (নাঈম ৭০, আফিফ ৫৪, শান্ত ১৮, সাইফ ১৪, স্বাধীন ১২*, মোসাদ্দেক ১, তানজিম ০*; মোহর ৩-০-২৭-১, রবি ৪-০-৩৭-০, জুবায়ের ৩-০-২৫-০, ইফতেখার ২-০-২০-০, সাব্বির ৪-০-৫১-০, তানভির ৪-০-২৩-৪)

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: (১৭ ওভারে লক্ষ্য ১৪৯) ১৭ ওভারে ১২৩/৫ (তানজিদ ২৯, রহমত ০, রবি ২২, হৃদয় ৩৬, মাহিদুল ৩১*, সাব্বির ২; সাইফ ৩-০-১২-৩, তানজিম ২-০-৮-০, শহিদুল ১-০-১০-০, মোসাদ্দেক ২-০-১১-১, সানি ৩-০-৩১-০, স্বাধীন ২-০-২৩-১, আমিনুল ৪-০-২৭-০)

ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে আবাহনী ২৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ নাঈম শেখ

 খেলাধুলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ