মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ |

আওয়ামীলীগ উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেস্বমহিমায় ইতিহাসে আলোকিত হয়ে আছে।জাতির পিতা তার জীবন ও যৌবনের উত্তাপ দিয়েছাত্রলীগ,আওয়ামী লীগ গড়ে তুলেছেন।কিন্তু দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানাভাসানী বামদের নিয়ে ন্যাপ গঠন করে চলে গেছেন। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুলহক জেল নির্যাতনকালে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ট্র্যাজিক জীবনের সমাপ্তি টেনেছেন।সোহরাওয়ার্দীর আকস্মিক মৃত্যু, পাকিস্তানি সেনাশাসক আরপশ্চিমা দালাল এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানইঅটল থেকে হাল ধরেছিলেন। তুমুল বৈরী পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে নিজের ক্যারিশমায়জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়েছিলেন। সেখানেও লক্ষ্য অর্জনের পথেই মানিক মিয়াকেওহারিয়েছিলেন।

 

ইতিহাসথেকে জেনেছি শত বাঁধা বিপত্বী নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন বিকালে ঢাকার কেএম দাসলেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় নতুন একটি রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীমুসলিম লীগ। পরবর্তীতে সেই দলের নাম পরিবর্তন হয়ে হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

যেভাবেগঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ।১৯৪৮ সালে পাকিস্তান হওয়ার পরে ঢাকায় মুসলিম লীগেররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন মাওলানা আকরাম খান এবং খাজা নাজিমুদ্দিন।

 

সোহরাওয়ার্দী-আবুলহাশেম নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অনুসারী যে প্রোগ্রেসিভ[উদারপন্থী) নেতারা ছিলেন, তারা তখন সেখানে নিজেদের অবহেলিতমনে করছিলেন। তখন তারা মোঘলটুলিতে ১৫০ নম্বর বাড়িতে একটি কর্মী শিবির স্থাপনকরেছিলেন। সেখানে তারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা চিন্তা করছিলেন। কলকাতাথেকে এসে শেখ মুজিবুর রহমান তাদের সাথে যুক্ত হন।

তখনটাঙ্গাইলে প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ পদত্যাগ করার কারণে শূন্য হওয়া একটিউপনির্বাচনে দুই দফায় মুসলিম লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন মওলানা ভাসানীএবং শামসুল হক। কিন্তু তাদের দুজনের নির্বাচনী ফলাফলই অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকমিশন।

তখনতারাও এসে এই মুসলিম কর্মীদের সঙ্গে মিলে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার কথাভাবতে শুরু করেন। তারা একটি সভা ডাকেন। সেই সভা ডাকার প্রস্তুতি কমিটির সভাপতিছিলেন মওলানা ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান।

কিন্তুসেই সভা করার জন্য কোন অডিটোরিয়াম পাওয়া যাচ্ছিলো না। তখন কে এম দাস লেনের কাজীহুমায়ুন রশীদ তার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে সভা করার আহবান জানান।

 

সেখানেই২৩শে জুন বিকালে আড়াইশো-তিনশো লোকের উপস্থিতিতে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্তহয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ

সেইসঙ্গে পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনের নাম রাখা হয় নিখিলপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, যার সভাপতি হনহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

 

যারাছিলেন নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে

নতুনদল গঠনের পর মওলানা ভাসানীকে দায়িত্ব দেয়া হয় একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিগঠন করার জন্য। তিনি অন্যদের সাথে পরামর্শ করে একটি কমিটি ঘোষণা করেন।

সেইনতুন কমিটির সভাপতি হলে মওলানা ভাসানী। সহ-সভাপতি হলেন আতাউর রহমান খান, আলী আমজাদ খান, আহমেদ আলী খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খান।

সাধারণসম্পাদক হলেন শামসুল হক।ট্রেজারার হন ইয়ার মোহাম্মদ খান, যার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে প্রথম সভার আয়োজন হয়।

শেখমুজিবুর রহমান তখন কারাগারে আটক থাকলেও তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এভাবেইপ্রথম ৪০ জনের কমিটি গঠিত হয়। তবে পরবর্তীতে তাদের অনেকে আর আওয়ামী লীগের সঙ্গেথাকেননি।পরের দিন, ২৪শে জুন আরমানিটোলা ময়দানে একটিজনসভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন মুসলিম লীগের কর্মীরা সেই সভায় হামলাকরেছিলেন।

 

অলিআহাদের বইতে একটি ভাষ্য পাওয়া যায় যে, রোজ গার্ডেনেরসভায় কিছুক্ষণের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন এ কে ফজলুল হক। তিনি তখন পূর্ব পাকিস্তানসরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল ছিলেন (বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল পদ)। কিন্তু সরকারিপদে থাকার কারণে তিনি কিছুক্ষণ পরেই সেখান থেকে চলে যান।

 

দলেরনামের পরিবর্তনের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে দেখেছি দলের নামেরসঙ্গে মুসলিম শব্দটি থাকায় পরবর্তীতে কেউ কেউ আপত্তি করছিলেন। এ নিয়ে দলে বেশএকটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল, যে মুসলিম শব্দটি থাকবে নাকি থাকবেনা।

 

তখনহিন্দু এবং মুসলিম আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন হতো। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেরসময় একটা সমঝোতা হয়েছিল যে, এই দলটি একটি অসাম্প্রদায়িকদল হবে। ওই নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন পায় যুক্তফ্রন্ট, যা পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সঙ্গে কৃষক শ্রমিক পার্টি,পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল, পাকিস্তানখেলাফত পার্টি আর নেজামে ইসলামী পার্টির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। আওয়ামী মুসলিমলীগ পেয়েছিল ১৪৩টি আসন।

যুক্তফ্রন্টেরপ্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবংহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

 

১৯৫৪সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ আওয়ামী মুসলিম লীগে যে কাউন্সিল হয়, সেখানে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়। ফলে অমুসলিমরাও এইদলে যোগ দেয়ার সুযোগ পান।

তবেপূর্ব পাকিস্তান শব্দ দুইটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে।

বাংলাদেশেস্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগনাম ব্যবহার হতে শুরু করে।

 

আওয়ামীলীগের প্রথম ভাঙনের ইতিহাস অনেকেই জানেন ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণসম্পাদক শামসুল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পানশেখ মুজিবুর রহমান। পরের বছর ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীমুসলিম লীগের সাধারণ সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

পরবর্তীতে১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।তবে পররাষ্ট্রনীতিনিয়ে মত-পার্থক্যের কারণে ১৯৫৭ সালে এই রাজনৈতিক দলটিতে ভাঙন দেখা দেয়।

 

তখনআওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সরকারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানেরকয়েকটি সামরিক চুক্তি হয়। সিয়াটো এবং সেন্টো সামরিক জোটে পাকিস্তান সদস্য ছিল।””মওলানাভাসানী এবং দলের মধ্যে থাকা বামপন্থীরা চাপ দিচ্ছিলেন যাতে আওয়ামী লীগ মার্কিনসামরিক জোট থেকে বেরিয়ে আসে। সোহরাওয়াদীকে মার্কিন চুক্তির সমর্থক বলে মনে করাহতো।

পাক-মার্কিনসামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি করছিলেন মওলানা ভাসানী, কিন্তুতাতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী।ওই বিরোধের একটা পর্যায়ে এসেটাঙ্গাইলের কাগমারিতে দলের যে সম্মেলন হয়, সেখানে মওলানাভাসানীর প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে হেরে যায়। এরপর ১৮ই মার্চ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মওলানা ভাসানী।সেই বছর ২৫শে জুলাই তিনিঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। আওয়ামী লীগথেকে বেরিয়ে অনেক নেতা তার নতুন দলে যোগ দেন, যাদেরমধ্যে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইয়ার মোহাম্মদ খানও।তখন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্তসভাপতি হন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ। সাধারণ সম্পাদক হিসাবে থাকেন শেখ মুজিবুররহমান।

 

১৯৬৪সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ আবার পুনর্গঠন করা হয়।

আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন শেখমুজিব। কিন্তু মানিক মিয়া তাতে রাজি হননি, কারণ তিনিলেখালেখি নিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। জাস্টিস মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের সাবেক একজনমন্ত্রীকেও অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনিও সভাপতিরদায়িত্ব নিতে রাজি হননি। তখন ১৯৬৪ সালের কাউন্সিল সভায় মাওলানা আবদুর রশীদতর্কবাগীশকে পুরোপুরি সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদকথেকে যান।কিন্তু ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচী ঘোষণা করার পর মাওলানা তর্কবাগীশসহঅনেকেই তার বিরোধিতা করেন।ওই বছর মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল মিটিংয়ে শেখমুজিবুর রহমান প্রথম আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেনতাজউদ্দিন আহমদ। যারা ছয় দফার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদেরঅনেক নেতাই আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।সেই নেতৃত্বের হাত ধরেই বাংলাদেশপরবর্তীতে স্বাধীন হয়••••

 

বাংলাদেশেরইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস শেখ মুজিবের ইতিহাস-একজন দুর্ধর্ষ সাহসী বিশ্ববরেণ্যনেতা হয়েছিলেন সাধকের মতো নির্লোভ চরিত্রের আত্মত্যাগে। কতটা সংগ্রাম নির্যাতন, কারাগার থেকে কারাগারে জীবন কেটেছে তাঁর। মাথাটা নত হয়নি। তেমনি কতসাহসী আদর্শিক বীর তৈরি হয়েছিলেন তাঁর পথ ধরে!

 

আরআজ•••

সেসবএকালের রাজনীতির ধূসরচিত্রে বড় বেশি মিথের মতো শোনায়। সেই সময় সব শ্রেণির, সব ধর্মের মানুষের দল আওয়ামী লীগ গরিবের দল ছিল। নেতৃত্বেওসংখ্যাগরিষ্ঠরাই ছিলেন গরিব পরিবারের শিক্ষক উকিল মোক্তার। তাদের সততা ত্যাগআত্মমর্যাদাবোধ ছিল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা ছিলেন অনুদানদাতা।সামন্ত শ্রেণি থেকে আসাদের সংখ্যা ছিল কম। আজ সবাই যেন আসমান থেকে পড়া নবাবজাদাএকেকজন। বিশেষ করে যেসব এমপি, নেতা এলাকায় নিজস্ববাহিনীতে অর্থনৈতিক বাণিজ্যের জমিদারি চালু করেছেন। দলকে ব্যবহার করে নিজেদেরভাগ্য গড়া এসব ব্যক্তি আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাও নষ্ট করছেন। কর্মীদের বিরোধে ওঅনৈতিক পথে ঠেলেছেন। আদর্শিকদের ঘরে তুলেছেন। দলের সর্বনাশটা রাজদুর্নীতির পাপেএরাই করছেন। মুক্তযোদ্বের পক্ষের শক্তির অনেকেই মনে করেন কেন্দ্রের উদাসীনতা ওপ্রশ্রয়ে এমনটাই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু অনুদানের টাকা দল ও কর্মীদের পেছনে খরচ করতেন।তিনি জেলে থাকলে বেগম মুজিব দিতেন। সন্তান-পরিবার কষ্ট করেছে। বিলাসিতা শেখেনি।তাঁর রাজনীতির কর্মী-নেতারাও তাই ছিলেন। সব দলের নেতারাই এমন ছিলেন। আগে নেতারা দলকরে ভিটেমাটি বিক্রি করতেন। এখন পদবি পেলে বিত্তবৈভবের মালিক হন অঢেল। কীভাবে?এমপি হলে সাত পুরুষের বসে খাবার জোগাড়। তাই বলে সবাই নয়। এখনোঅনেকে মানুষকে বিপদে দান করেন, আবার অনেকে মানুষেরটা লুটকরেন। এখনো আওয়ামী লীগে সৎ-আদর্শবানরা অনেক। এখনো দেশে অনেক সৎ মন্ত্রী-এমপিআছেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সব মলিন করে দিচ্ছে আদর্শিক রাজনৈতিকনেতৃত্বের অভাবে। একটি আদর্শিক রাষ্ট্রের জন্য অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিকশাসনের জন্য আদর্শিক নেতা-কর্মীর শক্তিশালী গণমুখী জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের বিকল্পনেই।

 

আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধেই শুধু নেতৃত্ব দেয়নি, গণতন্ত্রসহ সব সংগ্রামে সর্বোচ্চ রক্ত ও জীবন দেওয়া নেতা-কর্মীর দল।জনগণের মধ্যে জন্ম নিয়ে জনগণকে নিয়ে গণতান্ত্রিক পথে রাজনীতিতে জয়ী একজাতীয়তাবাদী দল। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেপরিবার -পরিজনসহ নৃশংস হত্যার পর তাঁর আদর্শিক উত্তরসূরি নেতা সংগঠকরা দলটিকে কঠিনপ্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন কত ষড়যন্ত্রের মধ্যে।

 

প্রিয়নেত্রী আমরা জানি ৮১ সালে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আপনি দলের দ্বিতীয় দফা চূড়ান্ত বিকাশ ঘটিয়েছেন। দলকে ক্ষমতায়এনেছেন।বাংলাদেশে আকাশচুম্বী উন্নয়ন করেছেন,বাংলাদেশ আজবিশ্বের বিস্ময়,আপনি আজ বাংলাদেশের সীমানা পেড়িয়েহয়েছেন বিশ্বনেতা•••কিন্তু

গত১২ বছরের শাসনকালের আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে দেখুন, সেই আওয়ামী লীগ আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

 

প্রিয়নেত্রীকে যদি বলতে পারতাম তবে বলতাম প্রিয় আপাবঙ্গবন্ধুর এত ছবি দিকে দিকে আজ, এত মুজিববর্ষের আয়োজনে তাঁরনাম নেওয়া হয়! এত অসমাপ্তআত্মজীবনী, কারাগারেররোজনামচা, আমার দেখানয়া চীন বিক্রি হয়, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কোথায়? প্রিয়নেত্রী•••আপনি তো দেখিয়েছেন সততার প্রমান।একজনরিক্সাওয়ালা ও জানে আপনার কাছে বিচার চাইলে বিচার পাবে,সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে আপনি সততার এক রোল মডেল অথচ পিতা মুজিবেরআদর্শের রাজনীতিতে-দর্শনে-চেতনায় কী লালিত হয়?

 

প্রিয়নেত্রী•••আওয়ামী লীগ কেন তার দুঃসময়ে নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়াত নেতাদের মৃত্যুর দিনেও স্মরণকরে না?আদর্শিক দল আওয়ামী লীগে এত চোর সুবিধাবাদী এমন দাপুটে হয় কেমনকরে? লোভ ও দুর্নীতির বিষে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিথেকে জেলা নেতৃত্বেও অনেকে আজ বিষাক্ত। এমপিদের মধ্যে কারা বিতর্কিত এলাকার বারোভূঁইয়া তা-ও জানে মানুষ। অঙ্গসংগঠনের নেতা-নেত্রীদের একটা অংশের খবরও সবার জানা

 

এরাসবখানেই ক্ষমতার কালটা কাটায়। অনেকেই প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের হাত ধরেই দলে এসেতাদের রাজদুর্নীতির যুগে প্রবেশ করান। আর ১২ বছরী বালক আওয়ামী লীগাররা (নব্য)দুর্নীতির টাকায় ফুলেফেঁপে বড় হতে হতে শেষ।সেই ৪২০ নাটকের কিসলু-মন্টুর দারুণঅভিনয়টাই চোখে ভাসে। যা পায় সব গিলে খায়! আওয়ামী লীগের একটা অংশ এদের সঙ্গেযুক্ত হওয়ায় সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে দুর্নীতি লুটপাট।

 

বলতেদ্বিধা নেই আমার জন্মভূমি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় সদর ইউনিয়নের কমিটিজনসম্মুখে সবার মতামত ও গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করার কথা থাকলেও বিএনপিথেকে যোগদান করা (নব্য) আওয়ামী লীগার,স্থানীয়চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু গোপনে পকেট কমিটি করে সেই কমিটি অনুমোদনকরিয়েছেন । শুধু তাই নয় ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া কুখ্যাত দুইরাজাকার যারা পার্শ্ববর্তী উপজেলার গাঙ্গুটিয়ার জমিদার বাবু বাড়িতে ধর্ষন,লোট,ও অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের দুইজনের দুইসন্তান কে ইউনিয়ন কমিটিতে পদ দিয়েছেন।যা নিয়ে মুক্তিযোদ্বা সহ স্থানীয় পোরখাওয়া অসংখ্য আওয়ামী লীগার ভক্ত অনুরাগীর রিদয়ের রক্তক্ষরণ ।পরবর্তী অনেক লেখালেখি হলেও সেই ইউনিয়ন কমিটি বহাল।

 

আজঅনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়েছেন রাক্ষুসে ক্ষিধে মেটানোর সুযোগ। অনেকপাবলিক সার্ভেন্ট ক্ষমতা ও অর্থের গরমে এলাকার রাজনীতিতেও হাত দেন। এরা মিলেমিশেআওয়ামী লীগকে লেজেগোবরে অবস্থায় নিয়েছেন।

এমনকিবিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোটা শিক্ষাঙ্গন, এমন কোনো পেশা নেইযেখানে দুর্নীতি ও লোভের আগ্রাসন নেই। এরা ১৭ কোটি মানুষের দেশে সংখ্যালঘু কিন্তুক্ষমতার পাদপ্রদীপে থাকার সুবাদে সমাজের সবখানে দাপুটে। গোটা সমাজকেই লোভের বিষেবিষাক্ত করে রুচির দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ বিষের ছোবলের কথাবললে আওয়ামী লীগের খেয়ে-পরে চলা অপরাধী চক্র রাগে আক্রোশে ফোঁস করে ওঠে।বিএনপিপন্থিরা বড় খুশি হয়।

 

কিন্তুবিএনপি-জামায়াত জমানা কত দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভয়ঙ্কর শাসনকাল ছিল তা ভুলে যায়।

এবিষ এক দিনে গোটা রাজনীতি প্রশাসন সমাজ- এক কথায় দেশকে বিষাক্ত করেনি, ক্ষমতার পালাবদলে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকেই দিনে দিনে বেড়েছে এরদেনা। তবু ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ ২০ বছরে এটা দ্রুত অসুস্থ প্রতিযোগিতায় সর্বগ্রাসীরূপ নিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত অপশাসন বলেই আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতা দিয়েছিল।তাহলে আওয়ামী লীগ আমলটা এমন হবে কেন?

 

প্রিয়নেত্রীকে বিনয়ের সহিত বলতে চাই

দেশেরজনগন বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই। নব্য আওয়ামী লীগার,হাইব্রিডদের বাদ দেবার ও বিকল্প নেই।প্রিয় নেত্রী আপনি সবই জানেন আজরাজনীতি রাজনীতিবিদশূন্য হয়েছে। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতছাড়া হয়েছে।তাইত্যাগী মুজিব আদর্শের শেখ হাসিনার পিউর কর্মীদের বিকল্প নেই।

 

মাঝেমাঝে ভাবি বর্তমান ১২ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ তার পোড় খাওয়া কোনো অতীত থেকেইশিক্ষা নেয়নি। কিন্তু দলের সারা দেশের সর্বোচ্চ ১ হাজার নেতা-কর্মীর সঙ্গে নব্যনানা পেশা ও দলে আসা সুবিধাভোগীদের মোটা দাগের অংশের আওয়ামী লীগারদের লুটপাটক্ষমতা ও অবৈধ অর্থের দম্ভ, অপকর্মের খেসারত লাখ লাখনেতা-কর্মীকেই চড়া গুণে দিতে হয়। এ সুবিধাভোগী ১২ বছরের (নব্য)বালকরা কাল সরকারেআওয়ামী লীগ না থাকলে আপন চেহারায় নিজের পথ দেখবে। অনেকে পালিয়ে যাবে। আর হাজারহাজার নেতা-কর্মী কঠোর নির্যাতন নিপীড়ন ও প্রতিহিংসার শিকার হবে। কত প্রাণহানিরঘটনা ঘটবে তা কি একবারও মনে করে না? ক্ষমতা কি অন্ধ করেদিয়েছে?

 

৭৫সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার -পরিজনসহ নৃশংসহত্যাকান্ডের পর খুনিদের অবৈধ সশস্ত্র রামরাজত্বকালে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকেখুনের পর সারা দেশের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, কারাদহন ভোগ,প্রতিরোধযুদ্ধ, ঘুরে দাঁড়ানোর সেই কঠিনদুঃসময় ভুলে গেল কী করে?

 

প্রিয়নেত্রী আপনার নেতৃত্বে দলকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে ২১ বছরের অন্ধকার রজনি পাড়ি দিতেহয়েছিল। তা-ও সে সময় দলের যে নেতৃত্ব ওয়ার্কিং কমিটি, প্রেসিডিয়াম, জেলা এবং দেশজুড়ে ছিল, যে নিবেদিতপ্রাণ আদর্শিক দক্ষ সংগঠক, সাহসীনেতা-কর্মী, তারা কি আছে আজকের আওয়ামী লীগে? সে সময়ের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আছে? সেসময়ের অভিজ্ঞ গণমুখী জাতীয় নেতাদের মতো জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও সমাজে প্রভাবশালীনেতারা কি আজ দলে আছেন? সে সময়ে একেক জেলা বা মহানগরীতেযে নেতৃত্ব ছিল তারাই তো আজ কেন্দ্রে নেই।

 

আওয়ামীলীগ বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে কতটা বিপর্যয়ে ছিল? কতনেতা-কর্মী মামলা কারা নির্যাতন গ্রেনেড বোমা হামলার শিকার হয়েছে? সেদিন কত নেতা-কর্মী এলাকাছাড়া হয়েছিল? কতনেতা-কর্মীর রক্ত ঝরেছিল দেশে?

 

প্রিয়নেত্রী •••আপনি দলের প্রাণ ও শক্তি একুশের গ্রেনেডের কারবালাথেকে কীভাবে আপনি ফিরে এসেছিলেন আজ ও তা মনে পরে

 

মাঝেমাঝে মনে হয় দলের জেলা,থানার সিনিয়র নেত্রীবৃন্দ সব ভুলেগেল কী করে? ওয়ান-ইলেভেনের দুই বছরের কারাজীবন, নির্বাসন, মামলা রিমান্ড সব ভুলে গেল! সেইদুঃসময়ে কারা ছিলেন আপনার পাশে, রাজপথে তারা আজ কোথায়?ওরা পোড় খাওয়াদের মূল্যায়ন করেনা অথচ হাইব্রিডদের জন্য দরজাখুলে দেওয়া হলো এভাবে।

 

আওয়ামীলীগের মতো দল কি মনে করে কখনো ক্ষমতা হারাতে হবে না? ৭৫-এরপর দলে ও নানা পেশায় কতজন কমিটেড লোক ছিল? বিএনপি-জামায়াতশাসনামলে হরতাল করতে কতটা কঠিন ছিল? কারা ছিল মিছিলের মুখ?কারা পুলিশি নির্যাতনের নির্মমতার শিকার হলো? তাহলে ক্ষমতায় দলের দায়িত্বে কি তারা আছেন? স্বাধীনতারপর এত রাজনৈতিক বিদ্রোহ তবু আওয়ামী লীগ একক দল ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তো অনেকআওয়ামী লীগার দলে নিষ্ক্রিয় হন। কেন? ৭৯-এরনির্বাচনে অনেক আসনে দল প্রার্থী খুঁজে পায়নি! এত বড় দলের বাকিরা কোথায় গেলেনতখন?আজও সারা দেশ আওয়ামী লীগ কিন্তু ক্ষমতা হারালে কি সবাই থাকবেন?সব পেশার দাপুটে আওয়ামী লীগাররা? অথচআজ উপনির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনেই অর্ধ শতাধিক নেতা মনোনয়ন চান! এটা কি দলেরদেউলিয়াত্ব নয়? এদের কজন ওই আসনের কর্মীদের প্রাণ?ভোটারদের ওপর প্রভাব রাখেন? দলে কর্মীনেই যেন নেতার উৎসব নাকি নেতৃত্বের সংকট।

 

বাংলাদেশআওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আমার প্রিয় নেতা বাহাউদ্দিননাছিম বলেছেন, আওয়ামী লীগাররাই আওয়ামী লীগকরবে। দুর্দিনের সাহসী, সৎ নেতা-কর্মীরাই সবখানে কাজ করবে।এখানে ভাই লীগ-এমপিলীগ-এর কোনো সুযোগ নেই। ২১ বছর পর শেখহাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। সেখানে কিন্তু এদের প্রয়োজনহয়নি। যারা উড়ে এসে জুড়ে বসে, তারা কিন্তু অপকর্মকরবে। দলের নাম ভাঙিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করবে। আবার সময়ে উড়ে যাবে। উড়ে আসা পাখিউড়ে যায়। তাকে ধরে রাখা যায় না। এদের বলে সাইবেরিয়ানবার্ড। এদের হাত থেকে রাজনীতিকে রক্ষা করতে হবে।

 

১২বছরে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে যেসব নেতা অঢেল অর্থবিত্ত গড়েছেন, যেসব এমপি বিতর্কিত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দলের প্রেসিডিয়াম বাওয়ার্কিং কমিটিতে কখনো আলোচনা হয়নি কেন? দলীয় তদন্তহয়নি কেন? ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া কারা কীভাবে এত সম্পদেরমালিক জেলা সফরে গিয়েও নেতারা দেখলেন না! সম্মেলনে অনেক জেলায় বিতর্কিতরানেতৃত্বে এলো কী করে? গত নির্বাচনে যেখানে বিতর্কিতদেরবাদ দেওয়ার কথা সেখানে উল্টো পোড় খাওয়া কজন বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের বহাল রাখাহলো।এসব প্রশ্ন আজ জনগনের মুখে ত্যাগীদের মনের কথা।

 

ক্ষমতাহারালে দলকেই তো মানুষের কাছে যেতে হবে। এমপি-মন্ত্রীদের চেয়ে আমলাদের দাপট কেনএত বেশি?এ দেশে সব আদর্শিক দল প্রায় বিলুপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেরঅসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির মানুষের একমাত্র জায়গা তো আওয়ামী লীগই।আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হলে বিপর্যয় এলে জাতিরই তো বিপর্যয়। তাই এত উদ্বেগ,এত কথা। বিএনপি প্রশাসন ও সুবিধাবাদীদের নির্ভর আদর্শহীন ক্ষমতাররাজনীতির দম্ভের করুণ পরিণতি ভোগ করছে। কিন্তু তাই বলে কি বিএনপি-জামায়াত জোটেরশক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি শেষ? শেষ নয়। কেউ কৌশলে, কেউ পীড়নে কেউ গর্তে।আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে গেলে কি আজকের মতো দেশজুড়ে সবাই থাকবে? থাকবে না। অতীত তাই বলে।

 

আওয়ামীলীগকে আদর্শিক নেতা-কর্মীদের শক্তিতেই দাঁড়াতে হবে। সংশোধন অনিবার্য। জনগণের ওপরইনির্ভর হতে হবে। জনগণকে নিয়েই লড়তে হবে কারন আওয়ামী লীগ জনগনের দল নেতার দলনয়।যে প্রয়োজনে ১৪ দল থেকে মহাজোট গড়েছিল দুঃসময়ে সেই প্রয়োজনও তখন দেখাদেবে। তাহলে এ শক্তিকে সুসংগঠিত করার সঙ্গে দল ও সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগনিতে হবে।মাঠে বিতর্কিত নেতৃত্ব রেখে দলকে জনপ্রিয় করা যায় না•••

 

তাইপ্রিয় নেত্রী,বাংলার জনগনের আস্থার শেষ ঠিকানা আপনার নিকট লক্ষকোটি মুজিব সেনার পক্ষে বলছি।জনগনের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরেহাইব্রীড,নব্যদের বাদ দিয়ে ত্যাগী পোড় খাওয়া লক্ষ কোটিমুজিব আদর্শের কর্মীদের মূল্যায়নের কঠোর নির্দেশ দিন এবং বাস্তবায়ন করুন তবেইপিতা মুজিবের আদর্শের কর্মীদের বোবা কান্না বন্ধ হবে !!!


লেখক: মুজিব আদর্শের একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মী ,সাবেক সাধারনসম্পাদক-সাটুইউছাত্রলীগ সাবেক সদস্য-বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,সদস্য-বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ


 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ