মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ |

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতা

রাজ্জাক হোসাইন রাজ   শনিবার , ২১ আগষ্ট ২০২১

২০০৪সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগদলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখহাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে, একটি ট্রাকের ওপরতৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন।বঙ্গবন্ধু কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চলক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালীগ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।

এ ঘটনায়তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া,চারদলীয়জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামানবাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনেরমৃত্যুদণ্ড হওয়ায়, তিনজন ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রমপরিচালিত হয়। ১৪ আগস্ট ২০০৪- হাওয়া ভবনে বৈঠক উপস্থিত ছিল তারেক রহমান বিএনপি সরকারেরস্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নুর জামায়াতেইসলামের সাধারন সম্পাদক আলী আহসান মুজাহিদ খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছচৌধুরী বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতিহান্নান,তাজউদ্দীন ।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার নির্দেশ দেয়তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাহায্য করবে,তারেকের নিশ্চয়তা। ১৬ আগস্ট মিন্টু রোডে বাবরের বাসায় বৈঠকপুর্নাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি, আক্রমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ১৮আগস্ট আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় বৈঠক পিন্টুর ভাই তাজউদ্দীন,খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিউক ও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।হরকাতুল জিহাদেরকাছে ১২টি আর্জেস গ্রেনেড হস্তান্তর করে বাবর ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয়কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় হরকাতুল জিহাদের গ্রেনেডহামলা দলের ২৬ জন নেতা-কর্মী নিহত হন পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে যায় হামলাকারীরাআহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেয় পুলিশ ঘটনাস্থলে সকল প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে পানিছোড়া শুরু করে পুলিশ অতঃপর আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই, হামলারমুল হোতা তাজউদ্দীন কে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয় তারেক রহমানও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিউক।

বিভীষিকাময় সেই ২১ আগস্ট কাল। নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ভয়ালদিন। ১৭ বছর আগে ২০০৪ সালের এই দিনে (২১ আগস্ট) মুহুর্মুহু গ্রেনেডের বিকটবিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। মানুষের আর্তনাদ আর কাতরছোটাছুটিতে সেখানে তৈরি হয় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। এদিন আওয়ামী লীগ আয়োজিতসন্ত্রাসবিরোধী মিছিলপূর্ব সমাবেশে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেগ্রেনেড হামলা এবং গুলিবর্ষণ করে ঘাতকরা। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মীনিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক।যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। কেউ কেউ আজওফিরে পাননি স্বাভাবিক জীবন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়ে এগিয়েযাচ্ছেন মৃত্যুর দিকে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তারশ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক সমাবেশে এ ধরনের নারকীয়হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া বিরল। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ সেই হামলা বাঙালি জাতি কোনোদিনও ভুলবে না।২১আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডেরধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলেরপ্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতক চক্র।তখনক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দলআওয়ামী লীগ।

আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্থাপিত অস্থায়ীট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরুহয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেইমুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসেরস্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে।  ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায়সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা যাতে আসামি সংখ্যা মোট ৫২ জন (ইতোমধ্যে অন্যমামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এখন আসামি ৪৯ জন)। একই ঘটনায় ১৯০৮সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অপর একটি মামলায় আসামি সংখ্যা৩৮জন।

ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগেআনা মামলায় ৫২জন আসামি হচ্ছেন-১. মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফেআব্দুল মান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ২. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুররহমান ওরফে অভি ৩. শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ৪.মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর ৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল ৬. মো. জাহাঙ্গীরআলম ৭. হাফেজ মাওলানা আবু তাহের ৮. শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল ৯. হোসাইন আহম্মেদতামিম ১০. আব্দুস সালাম পিন্টু ১১. মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফেআবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ১২. আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ১৩.রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ১৪. মো. উজ্জল ওরফে রতন ১৫. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ১৬.মো. লুৎফুজ্জামান বাবর ১৭. মেজর জেনারেল (অব:) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ১৮.ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আব্দুর রহিম ১৯. আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (অন্যমামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ২০. মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম ২১. মো. আব্দুল মাজেদভাট ২২. আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ২৩. মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব২৪. মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির ২৫. মাওলানা শওকত ওসমানওরফে শেখ ফরিদ, ২৬. অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা২৭. অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি শহুদুল হক ২৮. অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী ২৯.রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:) ৩০. আব্দুর রশিদঅবসরপ্রাপ্ত এএসপি ৩১. মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি ৩২. লে.কমান্ডারসাইফুল ইসলাম ডিউক ৩৩. মাওলানা মো.তাজউদ্দিন ৩৪. মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন৩৫. আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন ৩৬.মো. খলিল ৩৭. জাহাঙ্গীর আলম বদর ৩৮.মো.ইকবাল ৩৯. আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ৪০. লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ৪১.তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া ৪২. হারিছ চৌধুরী ৪৩. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেনকায়কোবাদ ৪৪. হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ ৪৫. লে.কর্নেল (অব: ) সাইফুল ইসলামজোয়ার্দ্দার ৪৬. মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর) ৪৭. মুফতি শফিকুর রহমান৪৮. মুফতি আব্দুল হাই ৪৯. রাতুল আহাম্মদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু ৫০. ডিআইজি, খান সাঈদ হাসান ৫১. পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খান ৫২. আরিফুল ইসলামওরফে আরিফ কমিশনার।

এদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা, অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পিশহুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:), আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এএসপি , মুন্সীআতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি, লে.কমান্ডার সাইফুলইসলাম ডিউক. লে.কর্নেল (অব:)সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার , মেজরজেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর), ডিআইজি, খান সাঈদ হাসান ও পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খানসহ এ ১১ জনের বিরুদ্ধে২১ আগস্টের একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অভিযোগআনা হয়নি। 

আসামিদের মধ্যে ৩৮ জন উভয়মামলায়ই আসামি। এর মধ্যে এখন হত্যা মামলায় ৪৯ জন ও বিষ্ফোরক আইনের মামলায় ৩৮ জনআসামি। ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সমাবেশে গ্রেনেড হামলারসাথে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামানবাবর এবং আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি বিশেষদ্রুত আদালত। রায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্তচেয়ারপার্সন তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরিসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশদেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য মামলায় ফাঁসির কারণে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারিজেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ (মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর)মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী (ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুদণ্ডকার্যকর), শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলকে এ মামলা থেকেঅব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে বেলা ১২ টায় ঢাকার দ্রুত বিচারট্রাইবুন্যালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় বিএনপিরভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীলুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৪৯ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ৪১ জনের সর্বোচ্চ শাস্তিচেয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী শেখহাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ শে অগাস্ট শনিবার গ্রেনেড হামলা চালানোহয়।

সেদিন বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে একসমাবেশে একটি ট্রাকে তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চে দলের প্রধান এবং তখনকার বিরোধী দলীয়নেতা শেখ হাসিনা বক্তৃতা শেষ করার পরই গ্রেনেড হামলা হয়। সেই ঘটনায় বাংলাদেশআওয়ামী লীগ এর মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন, এবং আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। ওই হামলারঘটনায় দুইটি মামলা করা হয়, একটি হত্যা মামলা এবং একটিবিস্ফোরক আইনের মামলা। মামলায় মোট আসামি ৪৯ জন, এর মধ্যেকারাগারে রয়েছেন ৩১জন, এবং তারেক রহমানসহ ১৮জন আসামিপলাতক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ২২৫ জন মানুষ। অন্যদিকে, আসামি পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ২০ জন। মামলা দুটির বিচারকাজ এ বছরের ১৮ইসেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতে শেষ হয়েছে। গ্রেনেড হামলার সময় এবং তারপরের তদন্তনিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে।জজমিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিদেয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল সেসময়ে।২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিততত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়।সেখানে নিষিদ্ধসংগঠন হরকাতুল-জিহাদ-আল-ইসলাম নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপিসরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নাম আসে।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগক্ষমতায় আসলে পুনরায় তদন্ত শুরু হয়।ঐ তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপিচেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপি'র অন্যতম শীর্ষনেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীলুৎফুজ্জামান বাবর সহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেকতিনজন মহাপরিদর্শক বা আইজিপি'র নাম আসে।বিএনপি অবশ্য ঐতদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক' বলে বর্ণনা করে।তদন্তেবেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলাচালানো হয়েছিল।হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তআসামিরা হলেনঃ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর,উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু,ডিজিএফআইয়েরমহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী,এনএসআইমহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম,মাওলানা শেখআবদুস সালাম,মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট,আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম মাওলানা শওকত ওসমান ওরফেশেখ ফরিদ মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফরআবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল মো. জাহাঙ্গীর আলম হাফেজ মাওলানা আবু তাহের হোসাইনআহমেদ তামিম মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুমবিল্লাহ মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদমো. উজ্জ্বল ওরফে রতন জঙ্গিনেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দীন হানিফ পরিবহনের মালিক মো.হানিফ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ ১৯ আসামিকে আবার ১৯৮০ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৪ ও৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছর কারাদণ্ড ও আরও জরিমানা ৫০ টাকা জরিমানা করাহয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। যাবজ্জীবনদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত)মাওলানা আবদুর রউফওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব (উপস্থিত) মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফেআবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত) আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক(উপস্থিত) হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত)আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার(উপস্থিত) মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত)মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন(পলাতক) আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক) মো. খলিল (পলাতক) জাহাঙ্গীর আলমবদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক) মো. ইকবাল (পলাতক) লিটন ওরফে মাওলানা লিটন(পলাতক) তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক) হারিছ চৌধুরী (পলাতক) কাজী শাহমোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক) মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক)মুফতি আবদুল হাই(পলাতক) রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।দণ্ডপ্রাপ্ত এ ১৯আসামিকে যাবজ্জীবন ছাড়াও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৩ ও ৪ ধারায় সাব্যস্তকরে আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও একবছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধিহিসেবে আমাদের একটাই দাবি পলাতক আসামীদের দেশে এনে দ্রূত রায় বাস্তবায়ন করা হোক ।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ