মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ |

৫০শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধনের পায় তিন বছর পর কোন ধরনেরঅস্ত্রোপচার ছাড়াই পুত্র সন্তানের জন্মদিলেন প্রসূতি পারুল বেগম-(২৮)। গত শুক্রবারগভীর রাতে পারুল বেগম স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই পুত্রসন্তান জন্ম দেন। হাসপাতালটি উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পর কোন প্রসূতি মাতাহাসপাতালে শিশু জন্ম দিলেন। এই বাচ্চাটিই হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মনেয়া প্রথম শিশু। হাসপাতালে জন্ম নেয়া প্রথম শিশুটি কোন ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াইজন্ম নেয়ায় খুশি প্রসূতি মাতার পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিজয়নগরউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম শিশু জন্ম দেয়া প্রসূতি পারুল বেগম উপজেলারচম্পকনগর ইউনিয়নের টানগেরাগাঁও গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকসার চালক সাহিদ মিয়ারস্ত্রী। বর্তমানে নবজাতক ও তার মা সুস্থ্য ও ভালো আছে।

খোঁজনিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনেরপর হাসপাতালে শুধুমাত্র বর্হিবিভাগ চালু করা হয়। পরে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসেকরোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে জেলারএকমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টাইন সেন্টার হিসেবে ঘোষনা করা হয়।

চলতিমাসের ২ মে হাসপাতালটিতে আবার চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়। কিন্তু চালু হওয়ার চারদিনপরই ৬ মে থেকে আবার হাসপাতালটিকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টাইন হিসেবে চালু করা হয়।

গতশুক্রবার (১০ আগষ্ট) থেকে পুনরায় হাসপাতালে সাধারণ জনগনের চিকিৎসা সেবা শুরু হয়।

হাসপাতালসূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রসব ব্যাথা নিয়ে পারুলবেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। হাসপাতালে ভর্তি করার পর প্রসূতি মায়েরনরমাল ডেলিভারী করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন চিকিৎসকগন।

উপজেলাস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুম এর নির্দেশনায় ডাঃ ইয়াসমিনআক্তার ও ডাঃ শাউলিন  জাহানের তত্ত্বাবধানেপ্রসূতি পারুল বেগমকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকেচিকিৎসকগনকে প্রয়োজনে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশনের কথা বলা হলেও চিকিৎসকগনতাদেরকে নরমাল ডেলিভারি করানোর কথা বলেন। শুক্রবার গভীর রাত দেড়টার দিকে ডাঃ ইয়াছমিন আক্তার ও ডাঃ শাউলিন জাহানেরতত্ত্বাবধানে প্রসূতি পারুল বেগম অস্ত্রোপচার ছাড়াই একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।

 এ ব্যাপারে শিশুর পিতা সাহিদ মিয়া বলেন, সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়া তার স্ত্রী সন্তান প্রসব করায় তিনি খুশী। এতেতার কোন খরচ হয়নি।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুমের সাথেযোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বিজয়নগর উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হওয়ার পর এটিই হাসপাতালে জন্ম নেয়া প্রথম শিশু। নরমালডেলিভারীর মাধ্যমে প্রসূতি পারুল বেগম একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়ায় আমরা খুবইখুশী। তিনি বলেন, প্রসূতির পরিবার থেকে আমাদেরকে প্রয়োজনেসিজারিয়ান অপারেশন করার কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু আমরা ওই প্রসূতিকে নরমাল ডেলিভারীকরাই। বর্তমানে শিশু ও তার মা ভালো ও সুস্থ্য আছে। তিনি বলেন, আমরা চাই প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারী। সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াসন্তান প্রসব হলে এটি প্রসূতির জন্য মঙ্গলজনক।

ডাঃমোঃ মাসুম আরো বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতেজনবল সংকট রয়েছে। হাসপাতালে ৮জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছে ৬জন। ৭ জন নার্সথাকার কথা থাকলে আছে ৫জন, আয়া আছে মাত্র ২জন। তিনি বলেন,আমাদের ফিল্ড পর্যায়েও ৫জন চিকিৎসকের সংকট রয়েছে।

এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ একরামউল্লাহ সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেয়া প্রথম শিশুটি কোন ধরনেরঅস্ত্রোপচার ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়ায় আমরা খুবই খুশী। তিনি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে জনবল সংকট থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টিমন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত জনবল সংকট লাঘব করার চেষ্টা করা হবে।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ