মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ |

৫৪৩দিন পর স্কুলে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ!

অনলাইন ডেস্ক   রবিবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

দীর্ঘ  ৫৪৩ দিন পর স্কুলে ফিরতে পেরে সকাল থেকেই, শিক্ষার্থীর মাঝে আনন্দ  পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। টানা ১৮ মাস বা ৫৪৩ দিন বন্ধের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই  ঘণ্টার শব্দটিও কানে ভেসে আসে। শুধু তাই নয়, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে রোলকল করতেই কানে ভেসে এলো সেই  শব্দ ‘উপস্থিত স্যার’। যা শিক্ষকরা শুনলেন ৫৪৩ দিন পর। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরাও। রোববার কেউ পড়েছে স্কুলের নতুন পোশাক, কেউবা পড়েছে পরিস্কার পোশাক। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উচ্ছ্বসিত শিক্ষকরাও। রোববার সকালে এমনই চিত্র দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি (রোল কল) করার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ বলছে ‘উপস্থিত স্যার’ আবার কেউ বলছে জি স্যার। এর আগে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পূর্ব যাবতীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভেতরে প্রবেশ করানো হয় শিক্ষার্থীদেরকে।

এদিকে পৌর শহরেরর রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,  উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক দূরত্ব মানাতে বিদ্যালয়গুলোর প্রবেশপথে করা হয়েছে মার্কিং। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, বাথরুম, শিক্ষকদের অফিস ও কমনরুম করা হয়েছে স্যানিটাইজ। সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার করার ব্যবস্থা করা হয়।

রাধানগর সরকার প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের পঞ্চম  শ্রেণির ছাত্রী ঐশী সাহা বলেন, স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এক টানা এতো দিন স্কুল বন্ধ হয়নি। দীর্ঘদিনের বন্ধের কারণে আমাদের পড়াশুনা অনেকটা গরমিল হয়ে গেছে। টানা দেড় বছর পর সবাই একসঙ্গে মিলিত হতে পেরে স্কুলে খুবই আনন্দ লাগছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরসহ উপজেলায় ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮টি মাদরাসা ও ২টি কলেজ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা পেয়েই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী জান্নাতুল মাওয়া ও কাজী আমরিন হাসান বলেন অনেকদিন পর স্কুলে আসতে পেরে তাদের খুবই আনন্দ লাগছে। এখন থেকে প্রতিদিন আগের মতো আমরা আবার স্কুলে আসবো, পড়ার টেবিলে বসবো, সবার সাথে দেখা হবে, খেলাধুলা করতে পারবো এযে কী আনন্দ।

 রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক    মোঃ জাকির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় বিদ্যালয়ের গেটে টেবিলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ বিভিন্ন উপকরণ রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের গেটে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করানো হয় এছাড়া শিক্ষার্থীদের কুশলাদি বিনিময় করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। তিনি আরও বলেন রোলকলে অনেকটাই মুখরিত শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষকদের মনেও ফিরেছে আমেজ। শিক্ষার্থিরাও আপ্লুত হয়ে উঠেন।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ