শনিবার , ২৩ অক্টোবর ২০২১ |

ভিক্ষুক বেড়েছে সোনারগাঁওয়ে

অনলাইন ডেস্ক   রবিবার , ১০ অক্টোবর ২০২১

হীরালালবাদশা,সোনারগাঁও থেকে:

কাজকর্ম করতে অক্ষম, অতি দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী যারারয়েছে মূলত তাদের ভিক্ষা করার কথা থাকলেও সংসারে স্বচ্ছলতা ও সক্ষমতা আছে এমনপরিবারের লোকেরাও ভিক্ষা করতে নেমে এসেছে রাস্তায়। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নতজেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে অধিক হারে বাড়ছে ভিক্ষাবৃত্তি। যার মধ্যে রয়েছে শিশু,কিশোর, তরুণ, যুবকও মধ্য বয়সী মহিলারা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় শিল্প-কারখানাপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এ অঞ্চলে ভিক্ষুকদের উপদ্রব বেড়েছে অত্যাধিক। ভিক্ষুকরা নানাকৌশলে ও ধর্মীয় কথাবার্তা বলে ভিক্ষা চাওয়ার পরিবর্তে সাহায্যের কথা বলে নিজেদেরউপস্থাপন করে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। এক সময়ভিক্ষুকরা প্রতিটি ঘরের সামনে এসে আল্লাহর ওয়াস্তে ভিক্ষা চাইতো, এখন তারা ভিক্ষা না চেয়ে সুকৌশলে সাহায্যের কথা বলে ভিক্ষাবৃত্তি করেঅধিক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

 

উপজেলারমোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ভিক্ষুকদের শংখ্যা ছিল হাতেগোনা কয়েকজন। সম্প্রীতিওই এলাকায় বিক্ষুকের সংখ্যা বেড়েছে অধিক হারে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর থেকে শুরুকরে সোনারগাঁও উপজেলায় প্রতিনিয়ত ভিক্ষুকের উপদ্রব বেড়েই চলেছে। ১৯৯০ থেকে ২০০০সাল পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক দেখতে পেলে তাদেরকে ২৫ থেকে ৫০ পয়সা করে সবাইভিক্ষা দিত। কালের বিবর্তনে ভিক্ষুকদের ভিক্ষাও বেড়েছে একের অধিক। উপজেলারমোগরাপাড়া চৌরাস্তা, মেঘনা ঘাট, কাচপুর শিল্পাঞ্চল ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা যায়, ভিক্ষা করাটা হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। বর্তমানে এটিপেশায় পরিণত হয়েছে অনেকের কাছে। হাত-,পা চোখ-মুখ ঠিকইআছে, তবুও অনেক লোক নেমে এসেছে ভিক্ষাবৃত্তির পেশায়।যারা অতি দরিদ্র ও বৃদ্ধ কিংবা যাদের অঙ্গ বিকল, কাজ করারসামর্থ্য নেই তাদেরই বরং ভিক্ষা করার কথা। কিন্তু এ ভিক্ষাবৃত্তির সাথে যুক্তহয়েছে সচ্ছল পরিবারের কিছু অলস প্রকৃতির লোক। শারীরিক পরিশ্রম নেই, পুঁজি বিনিয়োগ ছাড়াই ইচ্ছেমত হাত বাড়ালেই অর্থ মেলে তাদের। তাহলেকোন কারণে তারা কাজকর্ম করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ‌ করবে।

 

এখানেইশেষ নয় তাদের মধ্যেও এসেছে ব্যাপক কায়দা-কৌশল। আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েগৃহকর্তীর কাছে দুটি চাল ভিক্ষা দেন গো 'মা' বলে ভিক্ষা চাইতো, এখন আর চাল ভিক্ষে চায়না,চায় সাহায্য। সাহায্য চাওয়ার নমুনাটাও একেবারে ভিন্ন।কম্পিউটারের ফটোশপ সফটওয়্যারের সাহায্যে একটি ছবিকে বিকল অঙ্গ তৈরি করে অস্পষ্টএকটি ছবি দেখিয়ে এবং ছবিটি তার বাবা, মা, ভাই, স্বামী ও সন্তানের পরিচয় তুলে ধরে কিংবাইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি অসুস্থতার সনদ দেখিও মানুষের কাছেসাহায্যের আহবান করছে। এছাড়াও শিশু-কিশোরদের দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ওয়াজমাহফিলসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার কথা বলে নিজেদের তৈরি করা রশিদকেটেভিক্ষা করছে, যার কোন সামাজিক ও ইসলামিক বৈধতা নেই।

ভিক্ষাবৃত্তিরমধ্যেও তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ-সিদ্ধির জন্যমাসোহারা হিসেবে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে কিংবা বিকলাঙ্গের লোকদের সংগ্রহ করে গ্রাম ওশহরে ভিক্ষা করাচ্ছে। ঠিকমতো ভিক্ষা তোলে কিনা তার জন্য রয়েছে ওই ব্যক্তিরমনিটরিং টিম। একাধিক গৃহকর্ত্রীরা জানান, ভিক্ষুকরা উঠানেএসে এক মুঠো চাল ভিক্ষা চাইতো, এখন আর ভিক্ষা চায় না,তারা চায় সাহায্য। কারণ ভিক্ষা দিলে তারা পাবে এক মুঠো চাল।কিন্তু সাহায্য চাইলে একের অধিক অর্থ। আর ভিক্ষা দেওয়া কম হলে গৃহকর্ত্রীর উপরেআসে ভিক্ষুকের অপবাদ।

কিছুঅসাধু ব্যক্তিরা নিজেদেরকে দারিদ্রতায় আবদ্ধ করে সমাজে নিজেকে অসহায় মানুষ  হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিজেরা এবং নিজেদেরছেলে-মেয়েকে ভিক্ষাবৃত্তি শেখাচ্ছে। সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতেলক্ষ করা যায়, অনেক শিশু ভিক্ষুক। যে সময়ে শিশুরা পুস্তকেরশিক্ষা লাভ করবে, ন্যায় অন্যায় বিচার বিশ্লেষণ করাশিখবে, সেখানে তাদেরকে শেখানো হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তির মত এ নোংরাপেশা। ফলে এক সময় এরা সমাজের নানা সমস্যা সৃষ্টি করার কাজে নিজেকে তৈরি করবে।অন্যদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার লোক কিছু অসাধুব্যক্তি নিজেদের সহায় সম্পদ নদীভাঙ্গনে চলে গেছে দাবি করে মানুষের কাছে সহায়তারনামে ভিক্ষা করছে। সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকার নুরুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ভিক্ষা করে আসছেন, তারএকটি পা বিকল।মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ভিক্ষা করে তার প্রতিদিন আয় হয় ৪ থেকে ৫ শতটাকা।

 

সপ্তাহজুড়েভিক্ষা করতে জান উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে। সপ্তাহের শুক্রবার দিনটি আসলেতাদের আয়ের উৎস বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার থেকে ১২শত টাকায়। সপ্তাহের বাকিদিনগুলোতে কোনদিন ৪ শত  থেকে ৬ শত টাকার মতআয় হয়। বর্তমানে ভিক্ষা করা তিনি পেশা হিসেবে নিয়েছেন। তবে, তিনি এ ভিক্ষাবৃত্তির মত পেশা থেকে বেরিয়ে ভালো কিছু কাজ করতে চান।পাশাপাশি তিনি দাবি করেন কিছু চোর-বাটপার ও অলস প্রকৃতির লোক দিনের বেলায়ভিক্ষুকের বেশে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করে এবং সুযোগ পেলে মানুষেরবাড়িতে চুরি করে, এ ধরনের মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসেপরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ভালো কিছু করার আহ্বান জানান তাদেরকে, এবং যাদের কাজ করার শক্তি ও বল থাকার পরও ভিক্ষা করছে তাদের শাস্তিহওয়া দরকার মনে করেন তিনি।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ