শনিবার , ২৩ অক্টোবর ২০২১ |

আখাউড়ায় এক বৃদ্ধা নারীকে ইউপি চেয়ারম্যানের মারধর, থানায় অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ১২ অক্টোবর ২০২১

আশীষ সাহা,আখাউড়া থেকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একবৃদ্ধা নারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনাঘটেছে। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার প্রতিবাদ করায় ওই নারীকেমারধর করেন চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন। ভূক্তভোগী ওই নারী হলেন উপজেলার মোগড়াইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের আলমগীর চৌধুরীর স্ত্রী আসমা বেগম (৫৮)। বিষয়টির প্রতিকারচেয়ে সোমবার রাতে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

লিখিত অভিযোগ ও ভূক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসমাবেগম গত ৩ মাস ধরে তার বিদেশগামী ছেলের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য চেয়ারম্যানেরদ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চেয়ারম্যান তার কাজটি করে দিচ্ছেনা। এজন্য তিনি ছেলেকে বিদেশেও পাঠাতে পারছেন না। সোমবার দুপুরে আসমা বেগম আবারওছেলেকে নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যান।  জন্মনিবন্ধনটি সংশোধন করে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন। এসময় চেয়ারম্যান তারকাছে ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। আসমা বেগম এত টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলেচেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্তহয়ে চেয়ারম্যান আসমা বেগমকে স্বজোরে থাপ্পর দিলে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরেচেয়ারম্যান তাকে কয়েকটি লাথি মেরে ডান পায়ে ও কোমরে আঘাত করে। এসময় উপস্থিত লোকজনতাকে চেয়ারম্যানের কবল থেকে রক্ষা করে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে আসমা বেগম বলেন, ছেলেরজন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য ৩ মাস ধরে মনির চেয়ারম্যানের পেছনে ঘুরতেছি। তিনি আজ নাকাল বলে আমাকে ঘুরাইতেছে। একদিন আমাকে হাতের ৫ আঙ্গুল দেখিয়ে ইশারায় টাকা দাবীকরেন। আমি তাকে ৫ শ টাকা দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে টাকা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আমাকেতাড়িয়ে দেন। সোমবার দুপুরে আবারও আমি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। তখন তিনি আমার কাছে ৫হাজার টাকা চায়। আমি বলি এত টাকার কি দরকার। লোকজন তো দেখি ৪/৫ শ টাকা দিয়েনিবন্ধন করে নেয়।  এ কথা বলার সাথে সাথেচেয়ারম্যান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকেথাপ্পর মেরে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকেন। পরে লোকজন আমাকে উদ্ধার করে। তিনিবলেন, লাথির আঘাতে কানে ও বুকে ব্যাথা পেয়েছি। কোমরের ব্যাথায় উঠতে বসতেপারি না।

আসমা বেগমের ছেলে সাব্বির চৌধুরী বলেন, আমিআম্মার সাথে চেয়ারম্যান অফিসে গিয়েছিলাম। আম্মা কথা বলার জন্য চেয়ারম্যানের রুমেযান। আমি পাশের রুমে বসে ছিলাম। হঠাৎ আম্মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখিচেয়ারম্যান আম্মাকে এলোপাথারি লাথি মারতেছে। পরে আম্মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালেনিয়ে চিকিৎসা দিয়েছি।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ মোরশেদ আলম বলেন, আমিঅফিসে গিয়ে দেখি আসমা বেগম সচিবের রুমে বসে কাঁদতেছে। আমাকে দেখে তিনি জানানচেয়ারম্যান তাকে মারধর করেছে।  এ ব্যাপারেজানতে চাইলে মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেআর কোন কথা না বলে ফোন রেখে দেন। 

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগপেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তারবলেন, আসমা বেগম অফিসে এসে আমাকে জানিয়েছেন মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদেরচেয়ারম্যান তাকে মারধর করেছে। আমি সাথে সাথে চেয়ারম্যান সাহেবকে ফোন করে বলেছি ওইমহিলার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। কোন সেবা প্রত্যাশির সাথে তিনি এরকম আচরণ করতেপারেন না। ওনি এটা ভুল করেছেন। কাউকে আঘাত করার অধিকার তার নাই। কাজটি তিনি ঠিককরেনি।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ