বৃহস্পতিবার , ০২ ডিসেম্বর ২০২১ |

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদএবাদুল করিম বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশেহিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকলেরই সমানভাবে ধর্ম কর্ম করার অধিকার রয়েছে। আমরাবার বার প্রমাণ করেছি বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবর রহমান এদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতা চালু করেছিলেন। তিনি গত ১৬ অক্টোবর শনিবারব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা সদরে আয়োজিত কুমিল্লায় অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষাপটেআয়োজিত মানববন্ধন ও  সম্প্রীতি সমাবেশেপ্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সম্প্রীতি সমাবেশে হিন্দু, মুসলিমসম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সাংসদ মোহাম্মদ এবাদুল করিম বলেন, আমারনির্বাচনী এলাকা এই নবীনগরে ১২৬টি পূজা মন্ডপে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে হিন্দুসম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দূর্গোৎসব কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াসুন্দরভাবে শেষ হয়েছে। আজকে এই মঞ্চে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিতহয়ে সংহতি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য আরও সুদৃঢ হলো।

তিনি বলেন,সমাবেশে বিভিন্ন আলেম ওলামা, পূজাউদযাপন পরিষদ সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাগণ উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করেলেন-আমরাশান্তির পক্ষে। আমরা কোন ধরনের বিশৃঙ্খলাকে সাপোর্ট করি না। আজকের এই মঞ্চ এরইসাক্ষ্য দেয়। এ সময় সবাই হাততালি দিয়ে সার্পোট করেন। সাংসদ মোহাম্মদ এবাদুল করিমবলেন, যখন কুমিল্লায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার খবর পাই, তখনআমি এক মুহূর্তও বসে থাকিনি। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার উপজেলা প্রশাসন, টিএনও, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী, মেয়র, ¯স্থানীয় জন প্রতিনিধি, আলেম-ওয়ালা, হিন্দুসম্প্রদায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে ফোন করে প্রয়োজনীয়নির্দেশনা দিই। শুধু তাই নয় সবাইকে বিশেষ করে আলেম-ওলামাদের ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেবুঝতে সক্ষম হই সনাতনী সম্প্রদায়-কে নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

 

সাংসদ উপস্থিত সম্প্রীতি সমাবেশে হাজার হাজার জনতারউদ্দেশ্যে বলেন, আমি পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা জোরদার ও সবগুলো পূজা মন্ডপেটহল বাড়ানোর ব্যবস্থা করি। বিশেষ করে আলেম-ওলামা ও পূজা উদযাপন পরিষদেরউপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বস্তরের সুশীল সমাজেরপ্রতিনিধিদের গাড়ির ব্যবস্থাকরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনওহিন্দু সম্প্রদায়কে অভয় দিতে বিশেষ টিম পাঠাই-যার ফলশ্রতিতে আলেম ওলামাগণপ্রথমবারের মতোন নবীনগরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন সম্প্রদায় কেআশ্বস্ত করে নবীনগরের মানুষ সনাতন সম্প্রদায়ের পাশে আছে ও থাকবে। সাংসদ মোহাম্মদএবাদুল করিম বুলবুল বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে নবীনগরে আমরা সকলেহিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ। আমরা কোন অবস্থাতেই নবীনগরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়েরঐক্য বিনষ্ট হতে দেব না।  

সাংসদ মোহাম্মদ এবাদুল করিম বলেন আরো বলেন কুমিল্লারঘটনার প্রেক্ষাপটে নবীনগরে আলেম সমাজ মানবিকতা দেখিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়েরপূজামন্ডপগুলো পরিদর্শন করে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন এখানে কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটবেনা। আলেম সমাজ নবীনগরে মানবিকতার প্রমান দিয়েছে। হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেঐক্য ধরে রাখতে আলেম সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যার প্রমান নবীনরেআলেম সমাজ বহুবার দিয়েছে। নবীনগরের মত হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের গড়ে উঠা ঐক্যেরমডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিলে সম্প্রীতির বন্ধন আরো জোরালো হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরাসবাই ঐক্যবদ্ধ আছি ও থাকবো ইনশাল্লাহ।

সম্প্রীতি সমাবেশে নবীনগরের আলেম ওলামাগণ, পূজাউদযাপন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যগণ এবংজনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ