বুধবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২১ |

ভিক্ষুক পুনর্বাসন!

  মঙ্গলবার , ০২ নভেম্বর ২০২১

ডাঃ মোঃ শাহআলম

সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ । মহানবী (সা:)এই পেশাকে অত্যন্ত ঘৃণা করতেন । উনি উপদেশ দিয়েছেন কর্মকরে জীবিকা নির্বাহ করারজন্য । একটি শ্রেণী বাংলাদেশে ভিক্ষাবৃত্তি পেশাকে পুঁজি করে অকর্মন্য জনগোষ্ঠিতৈরী হয়েছে । রাজধানী সহ কিছু শহরে সিন্ডিকেটের আওতায় ভিক্ষাবৃত্তি চলিতেছে । অল্পপরিশ্রমে বেশি টাকা আয় এবং ধর্মীয় অনুভুতিকে ব্যবহার করে ভিক্ষাবৃত্তি পেশার পরিধিবাড়িয়ে চলেছে । বর্তমানে সমাজে দারিদ্রের হার দ্রুত কমছে কিন্তু এই পেশা কমার কোনপরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না । অর্থ মন্ত্রী কয়েক বার ঘোষণা দিয়েও ভিক্ষুক জরিপএবং পুনর্বাসন সঠিক ভাবে করতে পারছেন না । সরকার বয়স্ক ভাতা , বিধবাভাতা, মাতৃত্ব ভাতা, দুগ্ধ ভাতা,হরিজন ভাতা, জেলেভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, হিজড়া ভাতা সহ আরও অন্যান্য ভাতা দিয়ে আসছে  এবংএগুলোকে কিভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায় এবং দারিদ্র বিমোচনে এগুলো কোন পদ্ধতিতে সুফলবয়ে আনতে পারে তার পরিকল্পনা করছেন । ভিক্ষুক বিড়ম্বনা বাংলাদেশে রেলওয়ে পথেসবচেয়ে বেশি । ভিক্ষাবৃত্তি কিছু পেটের দায়ে বাকী সিংহ ভাগ পেশাদারী । বর্তমানেকৃষিকাজে , বাসার কাজে লোকের আকাল । যারা এই ভিক্ষাবৃত্তি পেশায়জড়িয়ে গেছে তারা রাষ্ট্রের জাতীয় উৎপাদনে অংশীদারী হচ্ছে না । বরং রাষ্ট্রের চরমবোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

আমার একটি চিন্তা চেতনা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই ।প্রতিটি জেলায় সমাজ কল্যণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পতিত  খাস জমিতে এবং প্রয়োজনে ভুমি দস্যুদের দখলেথাকা খাস জমি উদ্ধার করে ভিক্ষুকদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে উঠবে যেখানে তারাতাদের মতো কাজ করবে । যেমন- কুটির শিল্প,সেলাইয়ের কাজ, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগী পালন, নকশার কাজ ইত্যাদি । এদের মৌলিক চাহিদা পুরণ করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রশাসন । ইসলাম ধর্মের লোকজন দুই ঈদে প্রচুর টাকা খরচকরেন । সেই সময়ে ফিতরা , যাকাত এবং কোরবানীর চামড়া এগুলো থেকে ৫০ ভাগ টাকা যারযার জেলায় ব্যংকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবে পুনর্বসন কেন্দ্রে । আমারা ভ্যাট, আয়করদেওয়া শুরু করেছি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে । এধরনের উদ্যোগে সবাই এগিয়ে আসবে আমার দৃঢ়বিশ্বাস ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জে নিজস্ব অর্থায়নেপদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান । এখন দরকার আমাদেরকে পথ দেখিয়ে দেওয়া । এখন বাংলাদেশউন্নয়নের রোড ম্যাপে চলছে । সেক্ষেত্রে ভিক্ষাবৃত্তি পেশা আমাদেরকে  হতবাক করে দেয় । বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব দরবারেএকটি সম্মানজনক অবস্থায় পৌঁ ছেছে । অনেকেই আলোচনা সমালোচনা করবেন কিন্তু আমাদেরকেউ না কেউ শুরু করতে হবে ।

আমার প্রত্যশা বাংলাদেশ অচিরেই সমৃদ্ধশালী এবং উন্নতবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে এবং জাতি ভিক্ষাবৃত্তি পেশার লাগাম শক্ত ভাবেটেনে ধরবে ইনশাআল্লাহ |

       

লেখক : বিভাগীয়পরিচালক, ময়মনসিংহ,

সাধারণ সম্পাদক,স্বাচিপ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ