বৃহস্পতিবার , ০২ ডিসেম্বর ২০২১ |

বিএলআরআই নিয়ে আমি গার্বিত: ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা

নিজস্ব প্রতিবেদক   বুধবার , ১৭ নভেম্বর ২০২১

আমার জন্য অতি প্রিয় একটি ইনস্টিটিউট বিএলআরআই। এই জাতীয় ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়ায় আমরা সবাই গর্বিত। আমার কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী এই ইনস্টিটিউটে সেবা করে আসছেন। আমি তাদের জন্য এবং এই ইনস্টিটিউটের জন্য গর্বিত।

বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ক্ষেত্রের প্রবাদপ্রতিম অগ্রপুরুষ এমেরিটাস বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সভাপতি ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা অদ্য ১৬/১১/২০২১ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি প্রকল্পের এওয়ারনেস ওয়ার্কশপ ও দলবদ্ধ আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে কথাগুলো বলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি সশরীরে অনুষ্ঠান উপস্থিত থাকতে না পারায় পত্রযোগে বক্তব্যটি প্রেরণ করেন।

বিএলআরআই প্রতিষ্ঠার পিছনে তাঁর প্রচেষ্টার দিনগুলো এবং বিএলআরআই-এর গুরুত্বের কথা স্মরণ করে ড. বদরুদ্দোজা আরও বলেন, এই ইনস্টিটিউটটি গড়ে তুলতে প্রথম দিকে বেশ কষ্ট পাই, পরে দেখতে পাই যারা ইনস্টিটিউট করতে বাঁধা দেয়, পরে তারা সবাই পা ধরে সালাম করতো। বিশেষ আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিএলআরআই পরিদর্শনে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর পক্ষ থেকে বক্তব্যটি পাঠ করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম আবদুল মাজিদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি তিনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনাও করেন।

বক্তব্য পাঠের পরে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে অসামান্য অবদান রাখায় বিএলআরআই-এর পক্ষ থেকে ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা-কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ড. বদরুদ্দোজার পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আনোয়ারুল কাদের শেখ।

এরপর প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের ফেলো এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক পরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ। তিনি এই প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় তিনি তাঁর উপস্থাপনায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্পের প্রেক্ষাপট, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মদায়িত্ব. প্রকল্পের মডিউল, প্রকল্প গাইডলাইন ইত্যাদি তুলে ধরেন।

বিপননমুখী এবং শিল্পবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আনোয়ারুল কাদের শেখ বলেন, প্রকল্পে গবেষণার চেয়ে সম্প্রসারণের কাজ বেশি হলেও শিল্পমুখী গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে কাজ শুরু করতে হবে। সে ধরনের প্রকল্প নিতে হবে, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। ডেভেলপমেন্ট অব লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রি ডিভিশন গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিএলআরআই এগিয়ে আসতে পারে। এই বিভাগে ম্যানেজমেন্ট ও ইকোনমিকসে দক্ষ লোক রাখতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রসারণ কর্মীদের জন্য বিবিধ বিষয়ের উপর বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ)-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিচালক (প্রাণিসম্পদ) এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার বক্তব্য সমর্থন করে নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব আরোপ করে তার বক্তব্যে বলেন খামারি থেকে শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি খামারী যেন শিল্প উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। মাঠপর্যায়ের খামারিদের কাজে লাগবে এমন ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করতে হবে। সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের কৃষিতে কেজিএফ-এর ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কেজিএফ সব সময় দেশের উন্নয়নের, কৃষির উন্নয়নে গবেষণামুখী কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। এই প্রকল্প খামারীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। সম্পদের সর্বোচ্চ সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিল। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বিএলআরআই প্রতিষ্ঠায় ড. কাজী এম বদরুদ্দোজার ভূমিকা স্মরণ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি এসময় আরও বলেন, প্রতিটি আয়োজনে কেজিএফ-এর প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে কৃষি গবেষণার প্রতি কেজিএফ কতটুকু আন্তরিক। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে যেতে পারলে দেশের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভবপর। একই সাথে তিনি প্রকল্প মডিউলে বিএলআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রযুক্তি প্যাকেজ যুক্ত করার অনুরোধও জানান। প্রকল্পটির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

কেজিএফ-এর অর্থায়নে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর সাম ফিল্ড লেভেল এক্সটেনশন ওয়ার্কারস অব ডিএই, ডিওএফ এন্ড ডিএলএস এন্ড সাম প্রোগ্রেসিভ ফার্মারস অফ সাম সিলেক্টেড এরিয়াজ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার। ১৬১.৬০ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের কিছু নির্বাচিত এলাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কিছু নির্বাচিত সম্প্রসারণ কর্মী ও নির্বাচিত খামারীদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে কৃষি খাতের ১০টি, মৎস্য খাতের ৭টি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের ৩টি বিষয়ের প্রযুক্তি নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি সম্পর্কে কিভাবে খামারি এবং সম্প্রসারণ কর্মীদের উৎসাহিত করা যায়, ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা যায় এবং দেশব্যপাী ছড়িয়ে দেওয়া যায় সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য এই এয়ারনেস ওয়ার্কশপ ও দলবদ্ধ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ