বৃহস্পতিবার , ০২ ডিসেম্বর ২০২১ |

শিক্ষার্থীরা কেন অর্ধেক ভাড়ার সুবিধা পাচ্ছে না?

অনলাইন ডেস্ক   বৃহস্পতিবার , ১৮ নভেম্বর ২০২১

রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাসে অর্ধেক ভাড়া নেয়া নিয়ে কয়েকটি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর বাসের ভাড়াও বেড়ে যায়। এর ফলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলেও মানছে না বাস কর্তৃপক্ষ। আর নিয়ে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের থেকে অর্ধেক বাস ভাড়া বা হাফ পাস নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় মিরপুর রোড অবরোধ করে করে বিভিন্ন স্লোগানও দেন তারা। তারা শনিবার পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া নিশ্চিতের আল্টিমেটাম দেন।

এ সময় নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপারেশনস মনিরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি বাস ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরো ভাড়া আদায় করছে কথিত সিটিং সার্ভিস ও গণপরিবহনগুলো। সিটিং সার্ভিস বন্ধে বাস মালিকদের নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তেলের দাম ও ভাড়া বাড়ানোর সঙ্গে তাদের হাফ ভাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরও অর্ধেক ভাড়া তো নেয়ই না উল্টো খারাপ ব্যবহার করে বাসের স্টাফরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী লতিফুল ইসলাম জানান, তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে সদরঘাট যেতে বাহাদুরশাহ পরিবহনের বাসে ওঠেন। হেলপার ভাড়া চাইলে শিক্ষার্থী পরিচয়ে তিনি হাফ ভাড়া দেন। এতে হেলপার তাকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। বাধ্য হয়েই তাকে পুরো ভাড়া দিতে হয়।

কবি নজরুল কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফরিনা আঁখি বলেন, আমি খিলক্ষেত থেকে আসি। ‘আজমেরী গ্লোরী’ বাসের কিছু হেলপার আছে হাফ ভাড়া দিতে চাইলে যা-তা ব্যবহার করে। ‘ভিক্টর ক্ল্যাসিক’ তো শিক্ষার্থী বুঝতে পারলে বাসের দরজা বন্ধ করে দেয়। তারা শিক্ষার্থীদের নিতে চায় না।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেল হাসান জানান, শ্যামলী থেকে কলেজে আসতে সাভার পরিবহনের বাসে যাতায়াত করি। শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়ার পরও স্টাফরা হাফ ভাড়া তো রাখেই না আরো খারাপ ব্যবহার করে।

একাধিক বাস চালক ও হেল্পারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, শিক্ষার্থীরা তো আমাদের শত্রু না। অর্ধেক ভাড়া রাখতে আমাদের কোনো সমস্যানেই। কিন্তু বাসের মালিক নিষেধ করলে আমাদের কিছু করার থাকে না।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বলেন, হাফ পাসের নিয়ম রয়েছে সরকারি বাসে (বিআরটিসি) । কারণ সরকারি বাসগুলোতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। বেসরকারি বাসে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। তাই বেসরকারি বাসে হাফ ভাড়া নেয়ার সুযোগ নেই।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমেনা বেগম এ বিষয়ে বলেন, অনেকে শিক্ষার্থী না হয়েও হাফ ভাড়ার সুযোগ নিতে চায়। সেক্ষেত্রে কখনো আইডি কার্ড দেখানোর প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীরা তা দেখালেই ভালো হবে।

যদি হেলপার হাফ ভাড়া না নেয় সেক্ষেত্রে ঝগড়ায় লিপ্ত না হয়ে বিষয়টি পুলিশ ফাঁড়ি অথবা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,রা জধানীর অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত আবাসন-পরিবহন ব্যবস্থা নেই। আর আমরা তো চাকরি বা ব্যবসা করি না। টিউশনি, পার্ট টাইম জব করে নিজেদের খরচ চালাতে হয়। আর হাফ ভাড়া দেওয়ার নিয়ম তো শুধু বাংলাদেশ না, প্রতিবেশী দেশ ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামসহ আফ্রিকা-ইউরোপের অনেক দেশে চালু রয়েছে শিক্ষার্থীবান্ধব এ প্রথা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতিও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিতের দাবি জানায়। জানা যায়, সাভার-সদরঘাট রুটের সাভার পরিবহন, মিরপুর-সদরঘাট রুটের বিহঙ্গ; গাজীপুর-সদরঘাট রুটের আজমেরী গ্লোরী, ভিক্টর ক্ল্যাসিক; যাত্রাবাড়ী-সদরঘাট রুটে বাহাদুরশাহ পরিবহনসহ অন্যান্য লোকাল বাসেও নানা সময়ে হাফ ভাড়া নিয়ে হেনস্তা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও মহানগর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে হাফ ভাড়ার তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৬৪ সালে বিআরটিসি চারটি বাস দিয়ে সরকারিভাবে গণপরিবহন সেবা দেয়া শুরু করে। তখন থেকে সরকারের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়া হতো।তখন এটা ছিল সম্পূর্ণ সরকারি সেবা। পরবর্তীতে যখন সরকারি বাসের সাথে বেসরকারি বাসও গণপরিবহনের সেবা দেয়া শুরু করে। তখন সরকারি বাসের নিয়মে বেসরকারি বাসেও ছাত্রদের হাফ ভাড়া নেয়া হত। কিন্তু এ বিষয়ে যেহেতু কোনও লিখিত নিয়ম নাই। তবে এটা প্রথা হিসেবে অনেক রুটেই চালু আছে।

 রাজধানী থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ