সোমবার , ২৪ জানুয়ারী ২০২২ |

ফেলে আসা দিনগুলো

  শুক্রবার , ৩১ ডিসেম্বর ২০২১


প্রকৃতির নিয়মে আবার সেই দিনটি এসে গেল। ২৯শে ডিসেম্বর, দুবছর আগে  এই দিনটিতে আমার বাবা চলে গেলেন। সব ছেড়ে গেলেন, তবু রেখে গেল স্মৃতি। অজস্র স্মৃতি।

ডায়বেটিক রোগী  ছিলেন, তাই হয়তো মিস্টি খুব ভালবাসতেন। বিশেষ করে বালুশাহী আর ছোলার ডাল দিয়ে বানানো মনসুরী।

বাবা অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি  ছিলেন। আমি তখন বাবার বাসায় ছিলাম। মা  বাবার সাথে সবসময়ই হাসপাতালেই থাকতো।  ভাই থাকতো রাতে। ভাই একজন ডাক্তার।

আমি অফিস যাবার আগে জিজ্ঞেস করতাম কি আনবো? শিশু সুলভ হাসি মুখে আবদার করেছেন।

একদিন বালুশাহী এনে জিজ্ঞেস করলাম কি মিস্টি খাবেন? আমাকে কাগজে লিখে দেখালেন বালুশাহী।

আমি একটা পিরিচে বালুশাহী দিলাম। তাঁর মুখের সেই খুশিটা ভুলতে পারি না।

প্রথমবার হাসপাতাল থেকে বাসায় আসলেন, আগের চেয়ে ভালো। আমরা আশাবাদী বাবা সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কিছু দিন পর আবারও সমস্যা দেখা দিল। শরীরে পটাশিয়াম বেড়ে গেছে। কলা খাওয়া নিষেধ। আবদার করেছেন কলা খাবার জন্য।দিতে পারিনি!

আমার হাসবেন্ড দেশের বাইরে যাবার আগে জিজ্ঞেস করতো, বাবা আপনার জন্য কী আনবো?

খুব সামান্য ছিল তাঁর  চাহিদা - একটা বডি স্প্রে।

সদা হাস্য মানুষটা ধীরে ধীরে পাল্টে গেল। ব্রান্ড সোপ পছন্দ করতেন। সবসময় পরিপাটি থাকা মানুষটা সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকতেন। মা গোসল করিয়ে দিতো।

সেবার খুব শীত পড়ে ছিল। একটানা কয়েক দিন রোদ ছিল না।  আমি একটা ফুলহাতের সোয়েটার এনে দিলাম। এরপর আর কিছুই করতে পারি নাই!

সেই দিনটি ছিল  ২৮ শে ডিসেম্বর ২০১৯।

গোরস্তানে যাই, ফিরে আসি। কাজ করি, ঘরে থাকি। সেই কন্ঠ স্বরটা  আর শুনতে পাইনা।  সেই মুখখানা আর দেখতে  পারি না।

সব কিছু কেবলই স্মৃতি!

মারুফা মাজহার একজন লেখিকা।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ