শুক্রবার , ১৯ আগষ্ট ২০২২ |

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা   মঙ্গলবার , ২৪ মে ২০২২

ছবি : ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

ঢাকা : বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতু আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ মে) গণভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন বলে সম্মতি দেন। আর এ সেতুর নাম পদ্মা নদীর নামেই হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। 

এর আগে পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং নামকরণের সারসংক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গণভবন যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

পদ্মা সেতু পারাপারের জন্য টোল হার নির্ধারণ করা হয়। ১৭ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিবহনের জন্য আলাদা আলাদা টোল হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে, পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং মাঝারি ট্রাকে লাগবে ২ হাজার ৮০০ টাকা। 


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা, কার বা জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপে এক হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে এক হাজার ৩০০ টাকা, ছোট বাসে (৩১ আসন বা এর কম) এক হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে (৩২ আসন বা এর বেশি) ২ হাজার টাকা, বড় বাসে (৩ এক্সেল) ২ হাজার ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া, ছোট ট্রাকে (৫ টন পর্যন্ত) এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (৫ টনের বেশি থেকে ৮ টন) ২ হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৮ টনের বেশি থেকে ১১ টন পর্যন্ত) ২ হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত) ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (৪ এক্সেরল পর্যন্ত) ৬ হাজার টাকা ও ট্রেইলার (৪ এক্সেলের বেশি) ৬ হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলে এক হাজার ৫০০ টাকা করে যোগ করে টোল দিতে হবে। 

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একইসঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। 

সেতুর মূল আকৃতি দোতলা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। 


এদিকে প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে দেশি-বিদেশি অতিথিদের পাশাপাশি বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে যারা বেশি বিরোধিতা করেছিল আগে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। আগামী ২৫ জুন যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হবে। সেদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকেই তুমুল আলোচনা শুরু হয় পদ্মা সেতু নিয়ে। ক্ষমতায় আসার দুই বছর পর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি করার পর থেকে এক দিনে যেমন আশাবাদ তৈরি হয় তেমনি বিশ্বব্যাংক দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ তোলার পর শুরু হয় রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। 

বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না। সরকার পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক আলোচনায় বিএনপি নেত্রীর দেওয়া বক্তব্য তুমুল সমালোচনার জন্য দেয়। 

সেদিন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে।’ এরপর বিভিন্ন সময় পদ্মা সেতু হবে না বলে আলোচনায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতারা। 

দৈনিক দেশকাল/এসএকে/বিডি/জেডআরসি/ ২৪ মে, ২০২২

 বাংলাদেশ থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ