শুক্রবার , ১৯ আগষ্ট ২০২২ |

অজ্ঞান করে লুট করাই তাদের পেশা!

দেশকাল অনলাইন   মঙ্গলবার , ২৮ জুন e ২০২২

ঢাকা : কখনো ডাব অথবা কোমল পানীয় আবার কখনও নাকের কাছে চেতনানাশক ওষুধে ভেজানো রুমাল দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করতো একটি চক্র। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব অভিযোগে ২৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। এছাড়াও আরেকটি চক্র রাজধানীতে আসা সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব কেড়ে নিত।

র‌্যাবের ভাষ্য মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। সহজ সরল যাত্রীদের টার্গেট করে কখনও তাদেরকে ডাব, কোমল পানীয় কিংবা পানির সঙ্গে বিষাক্ত চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। 

আবার কখনও যাত্রীবেশে বাস ও ট্রেনে চড়ে যাত্রীদের পাশে বসে তাদের নাকের কাছে চেতনানাশক ওষুধে ভেজানো রুমাল দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করে থাকে। ওই বিষাক্ত পানীয় সেবন করার বা বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণ নেওয়ার পর ওই যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সর্বস্ব কেড়ে নেয় চক্রের সদস্যরা। এরপর তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। 

এছাড়াও কখনও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মুখে বিষাক্ত মলম বা মরিচের গুড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে যাত্রীদের যন্ত্রণায় কাতর করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়।


এরপর কোনো সহৃদয় ব্যক্তি ওই অজ্ঞান বা অসুস্থ যাত্রীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। চেতনানাশকের পরিমান বেশি হলে ওই ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে থাকে।

র‌্যাব জানায়, অজ্ঞানপার্টির শিকার ব্যক্তি শারীরিকভাবে দুর্বল ও বয়স্ক হলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর চোখে-মুখে বিষাক্ত মলম লাগানোর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর আশঙ্কা থেকে যায়। এসব অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা নির্বিঘ্নে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মুগদা, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, মতিঝিল এবং হাতিরঝিল এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের মোট ২৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে তিনটি এন্টিকাটার, ১১টি ব্লেড, ১০টি বিষাক্ত মলম, একটি চাকু, ৯টি মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার ২৯০ টাকা জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস।


আটক ব্যক্তিরা হলেন- মো. পাপ্পু, মো. জীবন, মো. সজীব, মো. শহিদ শেখ, আলাউদ্দিন, মো. শফিক, আবদুল হক হৃদয়, মো. রানা, মো. অন্তর, মো. মেহেদী হাসান, মো. শাকিল, মো. রাব্বী আপন, মো. আলমগীর, মো. ফাইম, মো. মামুন শেখ, মো. সজল , মো. ফেরদৌস, মো. রুবেল মাতবর, মো. হানিফ ব্যাপারী, জাকির হোসেন, মো. সোহেল, মো. মাহাবুব ইসলাম রিয়ন, মো. আবদুল মান্নান, মো. হাবীব মিয়া, মো. হৃদয় ওরফে মুজিবর এবং মো. রিফাত উদ্দিন চেধুরী ওরফে দুঃখু।

আটক ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলি গলিতে ওঁৎপেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের ছিনতাইকাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতে দ্বিধা বোধ করে না।


খিলগাঁও মালিবাগ রেইল গেইট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং পল্টন মোড়, গোলাপ শাহর মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৩ এর পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস বলেন, এ সব অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার ফলে পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানীবাসী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে রাজধানীতে আসা যাত্রীরা যাতে নিরাপদে দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করে নির্বিঘ্নে স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন তার জন্য সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাড়াঁশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক দেশকাল/জেডইউ/২৮ জুন, ২০২২

 আইন-অপরাধ থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ