শুক্রবার , ১৯ আগষ্ট ২০২২ |

চট্টগ্রাম থেকে শিশু অপহরণ তিন বছর পর ঢাকা থেকে উদ্ধার

দেশকাল ডেস্ক   বুধবার , ০৩ আগষ্ট ২০২২

চট্টগ্রাম থেকে অপহরণের তিন বছর পর এক শিশুকে ঢাকারকেরাণীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পোস্টারেশিশুটির ছবি দেখে প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উত্তরপানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল এলাকা থেকে ২ জুলাই তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়ামো. সিয়াম (১১) চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার বগারবিল সংলগ্ন বাদামতল এলাকারকাতার প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

 

এর আগে অপহরণের পর জড়িত একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করতেপারলেও তিন বছর ধরে শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের পর শিশুটিকে আজবুধবার দুপুরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৫ জুন আট বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্র সিয়ামঅপহরণের শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় তার মা ইয়াছমিন বেগম বাদি হয়ে বাকলিয়া থানায় একটিমামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইমামলার তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শকমো. মোজাম্মেল হক জানান, বয়সের তুলনায় সিয়ামের মানসিক পরিপক্কতা কম। নাছির নামেএক প্রতিবেশি মার্বেল কিনে দেয়ার কথা বলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এনে ট্রেনে করেপ্রথমে কুমিল্লা এবং সেখান থেকে নারায়নগঞ্জ হয়ে ঢাকায় কেরাণীগঞ্জে নিয়ে যায়।সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে সিয়াম নাছিরের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।

 

সিয়ামকেহারিয়ে নাছির চট্টগ্রামে ফেরত আসে। সিয়ামের মাকে ফোন করে তিন লাখ মুক্তিপণ দাবিকরে অন্যথায় ছেলেকে খুনের হুমকি দেয়। সিয়ামের মা ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। সেইমোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ নাছিরকে গ্রেফতার করে। তবে সিয়ামের বিষয়ে সে কোনোতথ্য দিতে পারেনি। এর ফলে সিয়ামও উদ্ধার হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে নাছির জানিয়েছিল, ঋণপরিশোধের জন্য সিয়ামকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তার।ওইমামলায় নাছির গ্রেফতারের পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। আড়াই বছরকারাভোগ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে নাছির ছাড়া পায় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শকমোজাম্মেল।

 

 

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানাজানান, নাছিরের হাত থেকে পালিয়ে সিয়াম কেরানীগঞ্জ পানগাঁও কন্টেইনারটার্মিনাল এলাকায় আল আমিন রেস্টুরেন্টনামে একটি দোকানের সামনেঘোরাঘুরি করতে থাকে। দেখতে দোকান মালিক তার পরিচয় ও অভিভাবকের ফোন নম্বর জানতেচান। কিন্তু সরল প্রকৃতির সিয়াম কিছুই জানাতে পারেনি। তখন মালিক তাকে দোকানে আশ্রয়দেন।

সিয়ামের খোঁজে দেশের প্রত্যেকটি থানা, রেলস্টেশন, আদালত ভবনে পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। গত কোরবানির ইদে আলআমিন রেস্টুরেন্টের মালিক সিয়ামকে তার নিজের বাড়ি চাঁদপুরে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন।মালিকের প্রতিবেশি এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় সিয়ামদের বাসারকাছে। তার মা সিয়ামকে দেখেন।

পিবিআই কর্মকর্তা নাইমা সুলতানা বলেন, ‘সম্প্রতিওই মহিলা চট্টগ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পোস্টারে সিয়ামের ছবি দেখে চিনতেপারেন। তখন তিনি স্থানীয়দের জানান যে,সিয়ামকে তিনি চাঁদপুরে দেখেছেন। এরসূত্র ধরে কেরানীগঞ্জে আল আমিন রেস্টুরেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। তখন সিয়ামেরপরিবারের সদস্যদের সেখানে পাঠানো হয় বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করতে। তারা কেরানীগঞ্জেগিয়ে সিয়ামের সেখানে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে পিবিআই টিম গিয়ে তাকে সেখানথেকে উদ্ধার করে।

দৈনিক দেশকাল /আরএ/ ৩ আগষ্ট ,২০২২ 

 

 

 

 

 গ্রাম বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ