মঙ্গলবার , ২৯ নভেম্বর ২০২২

কমলা চাষ করে সাফল্য কৃষক আলমগীর

দেশকাল ডেস্ক   মঙ্গলবার , ২২ নভেম্বর ২০২২

আশীষ সাহা , বিজয়নগরথেকে 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলায় লিচু, কাঁঠাল, মাল্টা, পেয়ারা, পরএবার প্রথম বারের মতো বাণিজ্যিক ভাবে চায়না-থ্রি-জাতের কমলার আবাদ করে তাক লাগালেন বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের প্রবাস ফেরতযুবক মো: আলমগীর মিয়া। প্রথমবারের মতো ফলন ভাল হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টিহয়েছে। তার বাগানে কমলার ফলন দেখে ক্ষুদ কৃষি কর্মকর্তারাই গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাগানের ছবি ছড়িয়ে পরলে প্রতিদিন ভ্রমন পিপাসু মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদেরনিয়ে ভীর করছেন কমলা বাগানে। এদিকে এলাকার বেকার যুবকেরা বলছেন,“ কৃষিবিভাগের সহযোগীতা পেলে তারাও অনাবাদি জমিগুলোতে কমলার আবাদ করবেন। এ অবস্থায় কৃষিবিভাগ বলছে,“ আলমগীরের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কমলা চাষে এলাকার অন্যচাষিদের উৎসাহিত করাহবে।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখাযায়  গাছে-গাছেঝুলছে পাকা রসালো টকবগে কমলা আর কমলা। খেতেও বেশ সুস্বাদু।  বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের প্রবাসফেরত আলমগীর মিয়া। দীর্ঘ দুই দশক প্রবাসে থাকার পর,“কয়েক বছর পূর্বে দেশে ফিরেআসেন।  কৃষকআলমগীর জানান,"এর পর ইউটিউবের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার এক কমলা আবাদেরভিডিও দেখে ওই চাষীর সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে ওই বাগান পরিদর্শনকরে ওই চাষীরকাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সেখান থেকে চায়না থ্রি-জাতের কমলার চারা নিয়ে আসেন।

বিদেশ থেকে এসে তার চাচার কাছথেকে ৬৫ শতাংশ জমি লিজনেন। শুরু করেন কমলার আবাদ। মাত্র দুই বছরের মাথায় তারবাগানে চোখ ধাঁধানো কমলার ফলন পেয়ে অনকেটাই খুশি চাষী আলমগীর মিয়া। চাষী আলমগীরমিয়া আরো বলেন, আমি ১৮৫ টি চারা এখানে রোপন করেছি। এখন পর্যন্ত ১ হাজারথেকে ১২শ কেজি কমলা বিক্রি করেছি ১৭০ টাকা কেজি দরে। এখন পর্যন্ত বাজারে নিয়ে যেতেহয়নি। দর্শনার্থীরা এসে দেখে বাগান থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগান করার সময়গ্রামের অনেকেই বলেছিলেন এই এলাকায় কমলার চাষ হবে না। আমি মানুষের কথায় কান নাদিয়ে নিজের মত করে চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করে এখন আমি সফল হয়েছি।

 

আলমগীরের এমন সাফল্য দেখেআসপাশের এলাকার চাষীরা বলছেন,“ সরকারী সহযোগিতা পেলে তারাও অনাবাদি জমি গুলোতে কমলারবাগান তৈরী করবেন। রাজু মোল্লা নামে এক চাষী বলেন, আমরা এখন বুঝতে পেরেছি যে এইএলাকায় কমলার চাষ লাভজনক এবং ফলনও খুব ভাল হয়। যদি সরকার আমাদেরকে একটু সহযোগিতাকরে তাহলে আমরা আমাদের আশে পাশের খালি জমিগুলোতে কমলার চাষ করতে আরো বেশি আগ্রহীহব।

এদিকে আলমগীরের কমলা বাগানেকমলার ভাল ফলন দেখে অকেটাই তাজ্জব বনেযান ক্ষুদ এলাকার কৃষি কর্মকর্তারা।  বিজয়নগরউপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মো: আব্দুল ওয়াদুদ ও হাদিউল ইসলাম বলেন, তারা,“একাধিকবার পরিক্ষামূলক ভাবে এই অঞ্চলে কমলার চাষ করেও সুফল পায়নি। তবে সফল চাষী আলমগীরেরকাছ থেকে এবার পরামর্ম নিয়ে এই অঞ্চলে কমলার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেজানান, তারা। এছাড়া সরকারীভাবে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এই কমলার চাষ বৃদ্ধিতেএই অঞ্চলে কমলার আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রর্দশনী দেয়া হবে বলে জানান তারা।

 

মো: মুসা মিয়া নামে আরেক চাষীবলেন, অল্প জায়গাতে কমলার চাষে প্রমানিত হল যে এই এলাকা কমলা চাষের জন্যউপযোগী। আমরা কমলার বাগানটি ঘুরে দেখেছি। দেখে আমাদের কাছে খুব ভাল লাগল। আগামীতেআমরাও আমাদের অনাবাদি জমিতে কমলার চাষ করতে আগ্রহী হয়েছে। সরকার যদি এই ব্যাপারেআমাদের সহযোগিতা করেন তাহলে বৃহৎ পরিসরে আমরা কমলার চাষ করবো। এতে বিজয়নগর এলাকাআরো ফল সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামজানান, কমলা চাষী আলমগীর মিয়া চাইলে তিনি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতেপারেন। আমরা তাকে সহযোগীতা করবো।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকেবাগানে ঘুরতে আসা কাজী নূরজাহান বলেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে কোথাও খোলামেলাজায়গা নেই। বাচ্ছাদের বিনোদনের জন্যও তেমন জায়গা নেই। তাই আমি আমার ছেলে মেয়েদেরনিয়ে এই বাগানে এসেছি। এইখানের পরিবেশটাও অনেক সুন্দর। সেই সাথে গাছে গাছে কমলা ঝুলে আছে দেখতেই খুব ভাল লাগে। আমি আশাকরি সবাই তাদের সন্তানদের নিয়ে এই এলাকায় ঘুরতে আসবে।

 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেকমলা বাগানের ছবি ছড়িয়ে পরলে ভ্রমন পিপাসু মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদের নিয়েবাগানে আসছেন। তারা ছবি তুলে এবং বাগান থেকে কমলা ক্রয় করে অনেকটাই উচ্ছাস প্রকাশকরেছেন।  বিজয়নগরউপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক মো: আলমগীর মিয়াআরও বলেন প্রথমবারের মতো ফলন ভাল হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।আমি নিজেওএতোটা আশাবাদী ছিলামনা যে আমার  এই বাগানেএতো লোকের সমাগম হবে, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব প্রতিবছরই যেন এই বাগানে কমলারচাষ করে সাফল্য অর্জন করতে পারি সেই দোয়া ও আশীর্বাদ আমার জন্য করবেন সকলে।

খরচ বাদদিয়ে আমার এই বাগানথেকে অন্তত ৫লাখ টাকা কমলা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

দৈনিক দেশকাল / আরএ / ২২ নভেম্বর,২০২২

 গ্রাম বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ