মঙ্গলবার , ২৯ নভেম্বর ২০২২

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন সফল হয় না : সিইসি

দেশকাল অনলাইন   বৃহস্পতিবার , ২৪ নভেম্বর ২০২২

ঢাকা : কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সফল হয় না উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইস) কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীদের সমর্থক ও এজেন্টদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এতে পুলিশের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সিইসির নেপাল সফর নিয়ে তার এই সংবাদ সম্মেলন।

সিইসি বলেন, পুলিশ দিয়ে কিন্তু আমি ব্যালেন্স (সমতা) তৈরি করব না। ব্যালেন্সটা তৈরি হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রার্থীদের ইলেকশন এজেন্টরাই প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালেন্স তৈরি করবে।


কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, তারা (রাজনৈতিক দল) যদি সেই ভারসাম্য তৈরি না করে তাহলে পুলিশ-মিলিটারি দিয়ে সব সময় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাভাজনভাবে উঠিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ডায়লাগ অপরিহার্য জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি মোটাদাগে মতৈক্য না থাকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন সুন্দর নির্বাচন তুলে দিতে পারবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা লাগবে। তাদের মধ্যে একটা সমঝোতা লাগবে। নির্বাচন আয়োজনে একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য হবে।

সিইসি বলেন, সরকারের একটা ভিন্ন সত্ত্বা আছে। তার যে মিনিস্ট্রিগুলো আছে, ডিপার্টমেন্টগুলো আছে। যাদের আমাদের সহায়তা করতে হবে। তাদের তরফ থেকে আন্তরিক এবং সদিচ্ছাভিত্তিক সহয়তা না থাকে তাহলে নির্বাচনটাকে কাঙ্খিত মাত্রায় সফল করা সম্ভব হবে না। তাদের সহযোগিতা থাকলে নির্বাচনটা আরও বেশি সুন্দর ও সফল হবে।


এছাড়া গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নাই তিনি।

আরপিও সংশোধনে আইন মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে সিইসি বলেন, এখনো আসেনি। এটা ঠিক। তবে আসবে না এটা না। আমরা একটু অপেক্ষা করি। আমার বিশ্বাস সরকার সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। আমরা মনে করি যৌক্তিকভাবেই কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেটি সরকার অগ্রাহ্য করবে বিষয়টা এমন না। আমরা আরও কিছুদিন দেখি।

নির্বাচনে আগে নেপালের মতন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার সংলাপে বসবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই নাই। আমি মনে করি ডায়ালগ (সংলাপ) যত করা যায় সেটা ভালো।


রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ডায়লগ একেবারেই হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা হওয়া খুব প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। রাজনীতিতে আমরা জড়িত হতে চাই না। কিন্তু রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আমরা আমাদের আবশ্যক সহায়তা সেটা প্রত্যাশা করি। 

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রজ্ঞা আছে উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ওনারাও একটু চিন্তা করবেন। রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। সবদলগুলোই বলতে চাচ্ছে রাজপথে দেখা হবে। রাজপথে শক্তি পরীক্ষা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি বলব রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করে শক্তি দেখিয়ে সত্যিকারের যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সেটা হবে না। আপনাদেরকে নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচনের মাঠে নির্বাচনের যে নীতি বিধি আছে সেই অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

দৈনিক দেশকাল/জেডইউ/ ২৪ নভেম্বর, ২০২২

 বাংলাদেশ থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ