বুধবার , ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আশীষ সাহা , বিজয়নগরথেকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ারবিজয়নগর উপজেলা  পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি মাঠে ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশের আয়োজন করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। এতেবিঘ্নিত হয়েছে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম। রোববার এ কর্মী সমাবেশেরউচ্চশব্দে মাইক বাজানোর কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে পাঠদান করতে হয়েছে প্রাথমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের।

রোববার দুপুরে উপজেলারচম্পকনগর ইউনিয়নের চম্পকনগর উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর কলেজ, চম্পকনগর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ও ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একই মাঠে সম্মেলনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।কর্মী সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগেরসভাপতি স্থানীয় আসনের সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর এমপি। কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্বকরেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা ছাত্রলীগেরসাধারন সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শুভন। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালউদ্দিন, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়া, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকরাসেল খাঁন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপির নামে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানখোলার দিনে এমন কর্মী সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়ায় আশপাশে উপস্থিত অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশকরেন।।

 

এদিকে সমাবেশ ঘিরে মাঠেরশব্দদূষণ ও কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বিঘ্নিত হয় শিক্ষার্থীদের পাঠদান। মারাত্মকশব্দদূষণের কারণে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিবোধ করছিলেন। উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কলেজেরকয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, শব্দদূষণের কারণে আমরা ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারেনি। বেশি শব্দদূষণেরকারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে স্যারেরা ক্লাস করিয়েছেন। উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কলেজেরকয়েকজন শিক্ষক বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরমাঠে হওয়া ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশে যোগদান করেন। এ ছাড়া কলেজের অদূরে মাইকের হর্নথাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্ন ঘটে।

 

বিদ্যালয় দুটির শিক্ষকেরাবলছেন, মাঠে সম্মেলন হবে জানা ছিল তাঁদের। আয়োজক কমিটি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি ভাবেননি।সরকারি দলের সম্মেলন হওয়ার কারণে তাঁরা ছিলেন অসহায়। তবু নিয়ম রক্ষার কারণে বিদ্যালয়খোলা রাখতে হয়েছে। শব্দদূষণের মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। তবে ফতেহপুর সরকারীপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান দস্তগীর দাবী করেন, ক্লাস নিতে ওনারস্কুলের কোন সমস্যা হয়নি।চম্পকনগর উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর কলেজের অধ্যক্ষ আবদুসাত্তারসরকারকে কলেজ খোলা অবস্থায় মাঠে কর্মী সমাবেশের অনুমদন নিয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলেতিনি বলেন, আপনি সাংবাদিককে ফোনে এব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। আপনি সরাসরিএসে দেখা করেন বলে তিনি কল কেটে দিলে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

চম্পকনগর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়েরভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাহেলা বেগম বলেন, হাই স্কুলের সামনে কর্মী সমাবেশ করবে এধরনেরকোন অনুমদন নেওয়া হয়নি। আমরা স্কুলের গেইট দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিয়েছি। উপজেলাউচ্চ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুনকে স্কুল খোলা রেখে সমাবেশ করতে পারেনকিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রধান হিসেবে আমি বক্তব্য দিতেপারিনা আপনি প্রধানকে কল দেন। স্কুল খোলা অবস্থায় সমাবেশ করতে পারেন কিনা সেই বিষয়েএকটু বলেন এই অনুরোধ করলেও তিনি এরিয়ে যান। তবে উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাআবদুল জলিলের মোবাইলে কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়াকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা অবস্থায় ছাত্রলীগের কর্মীসমাবেশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আজ শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলা নলেজে ছিলোনা। তিনি বলেন, আমারা নিজেই শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলা রেখে কোন প্রোগ্রাম করতে দেয় নাকিন্তু এটা হয়ে গেছে। এই ব্যপারটি ইগনোর করতে সাংবাদিককে অনুরোধ করেন তিনি। বিজয়নগরউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহম্মেদ এর মোবাইলে একাবিকবারকল দিলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তামো: জুলফিকার হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে পাঠদান অবস্থায় মাঠে রাজনীতিককোন প্রোগ্রামের অনুমদন দেওয়া ঠিক হয়নি। আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেখবর নিচ্ছি।

দৈনিক দেশকাল / আরএ / ২৩জানুয়ারি , ২০২৩

 গ্রাম বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ