শুক্রবার , ১৯ July ২০২৪

‘স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করেছে কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করলেও এ খাত সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা নেই দাওয়াতের তালিকায়। বিভিন্ন পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম তালিকায় দেখা গেছে। বুধবার রাজধানীর খামারবাড়িতে এআইএস কনফারেন্স রুমে এই সেমিনারের প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার। সভায় সভাপতিত্ব করবেন এআইএস পরিচালক সুরজিত সাহা রায়। বিশেষ অতিথি রাখা হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাসকে।

সেমিনারে ৮১ জনের দাওয়াতের তালিকায় কোনো কৃষি সাংবাদিকের নাম নেই। পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রতিনিধিদের নাম রয়েছে এই তালিকায়। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক সুরজিত সাহা রায় নিজে এই তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে  কৃষি সাংবাদিকদের কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি নিজের দায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও কৃষি তথ্য সার্ভিসের নতুন এক কর্মকর্তার উপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে থেকে সাংবাদিকদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিদেশে থাকায় তালিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে  উপায় না দেখে পরিচালক সুরজিত নতুন করে শুধু বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটিকে তালিকায় যুক্ত করেন ।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র  জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভুইয়া জানান, কৃষি সাংবাদিকদের তালিকা এআইএসকে দেয়া আছে। গতবছর সে তালিকা অনুযায়ী তারা দাওয়াত দিয়েছে। এবছর আমি দেশে না থাকায় সে তালিকা অনুযায়ী দাওয়াত দেয়ার কথা ছিল এআইএসের সঙ্গে। যাদের দাওয়াত দিয়েছে, তাদের তালিকা কোথায় পেয়েছে আমার জানা যাই। এআইএসের পরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে,  উনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে আমিও দুঃখিত।

এআইএস পরিচালক সুরজিত সাহা রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আছে । গণমাধ্যমে এ নিয়ে সম্প্রতি খবর প্রকাশের পর তিনি কৃষি সাংবাদিকের এড়িয়ে চলেন।

এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের কৃষিবিষয়ক সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিকদের জন্য সেমিনার অথচ সাংবাদিকদের নাম নেই। ৮১ জনের তালিকায় মাত্র ছয়-সাত জন গণমাধ্যমকর্মীর নাম আছে, তাও তাঁরা বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। সাংবাদিকের নামে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এরকম অনুষ্ঠান করে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে এআইএস পরিচালক সুরজিত সাহা রায় বলেন, আমাদের ভুল হয়েছে আমরা স্বীকার করছি। এখন যেসব সাংবাদিক আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাদের নাম নতুন করে তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। আমরা তালিকা সংশোধন করেছি। ভুলবশত বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রতিনিধিদের নাম তালিকায় এসেছে, তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ