মঙ্গলবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ |

গুণে-মানে সেরা নীলফামারীর আদা

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ২৬ নভেম্বর ২০১৯

নীলফামারীর জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা সম্প্রতি আদা চাষ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন। সমগ্র বাংলাদেশের আদার মোট উৎপাদনের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নীলফামারী জেলায় উৎপন্ন হয়। নীলফামারীতে মসলা জাতীয় ফসলের অন্যতম আদা। নীলফামারী জেলার উৎপাদিত আদা খুবই উন্নতমানের এবং গুণে ও মানের দিক থেকে দেশসেরা। এই আদা গোটা দেশে সরবরাহ করা হয়। সুফলের কারণে এই অঞ্চল জুড়ে আদার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) সূত্র জানা যায়, এ অঞ্চলের বায়ুমন্ডল, মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং মাটি আদাসহ বিভিন্ন মসলা জাতের ফসলের চাষের জন্য উপযোগী। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী এলাকার রমজান আলী জানান, তিনি গত ৫ বছরে আদা চাষ করে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। আগে তিনি গুরুতর আর্থিক সমস্যায় দিন কাটিছেন। তিনি অন্য ফসলের পরিবর্তে আদা চাষ শুরু করে সফলতা অর্জন করেছেন।

নীলফামারী সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের আদা উৎপাদক ওবায়দুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন বলেন, বেশি লাভের কারণে তিনি মসলাদার ফসলের চাষ পছন্দ করেন। তিনি এই মৌসুমে এক একর জমিতে আদা চাষ করেন।
নীলফামারীর কৃষকদের অভিযোগ, আদা গবেষণা কেন্দ্র না থাকায় উচ্চফলনশীল জাতের আদাবীজ পাওয়া যাচ্ছে না। উচ্চ ফলনশীল ও ভাইরাস নাশক আদাবীজ এ অঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘদিন দাবি করে আসছে। জেলার আদা চাষিরা আরও বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে এ অঞ্চল জুড়ে মসলা জাতীয় ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা যাবে। ডিএই সূত্র জানা যায়, স্থানীয় চাহিদা মেটাতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের মসলাদার ফসলের অন্যতম আদা উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ডিএই কৃষকদের মানসম্পন্ন বীজ ও সঠিক ফসলের বৈচিত্র্যকরণের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আসছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রচুর লাভের কারণে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্প্রতি বছরগুলোয় আদা এবং অন্য মসলাদার ফসল চাষে আগ্রহী হয়েছে।

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রশিদুল ইসলাম জানান, মার্চে জমি চাষ করে আদা রোপণ করা হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষেত থেকে আদা তোলা হয়। সাথী ফসল হিসেবে মরিচ ও বেগুন চাষ করা যায়।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান চাষের বদলে আদার চাষে ঝুঁকছেন। এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ১০০ কেজি আদা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। বিঘাপ্রতি আদা ১০০ থেকে ১৫০ মণ হারে উৎপন্ন হয়। এক মণের দাম ৪ হাজার টাকা হলে, প্রতি বিঘায় কৃষকের আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ