প্রকাশিত : সোমবার , ৩ আগস্ট ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:৪১।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬ , রাত ০৩:৫৫
রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার:

বিএনএস সেন্টার–আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারে আতঙ্ক: ছিনতাইকারীর কবলে ‘দ্য এশিয়ান এইজ’-এর সাংবাদিক


রিপোর্টার : Deshkal

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবীকে টার্গেট করছে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপরাধ দমনে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ছিনতাইকারীদের শিকার হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য এশিয়ান এইজ’-এর স্টাফ রিপোর্টার সুনীল দাস।

জানা যায়, অফিসের কাজ শেষে বনানী থেকে বাসায় ফেরার পথে উত্তরা বিএনএস সেন্টারের ওপর ফ্লাইওভারে সুনীল দাসকে বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি ফ্লাইওভারের ওপর বাস থেকে নেমে পড়েন। আর সেই সুযোগেই ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তার ওপর হামলে পড়ে।

ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে তার সামনে থামে। মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে দেশীয় অস্ত্রধারী দুই যুবক নেমে তাকে ঘিরে ফেলে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা তার কাছে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি এত অল্প সময়ে ঘটে যে তিনি আত্মরক্ষারও সুযোগ পাননি।

ঘটনার পরপরই সুনীল দাস উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সাংবাদিক পরিচয় জানালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে তাকে টহল টিমের দায়িত্বে থাকা এসআই নূরে আলমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে এসআই নূরে আলম জানান, ফ্লাইওভারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও টহল গাড়ির অভাবে দীর্ঘ সময় ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থান করা সম্ভব হয় না। এছাড়া ওই অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসি ক্যামেরা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের জন্যও টহল কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এসআই নূরে আলম আরও বলেন, ফ্লাইওভারের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা স্থাপনের বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে। তিনি জানান, নিচ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার কয়েকটি পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আগের তুলনায় সেখানে গাড়ি থামার ঘটনা কমেছে এবং অপরাধও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া জসিমউদ্দিন থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত এলাকায় রাতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচটি পুলিশ টিম দায়িত্ব পালন করলেও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তরা বিএনএস সেন্টার থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের একটি বড় অংশ রাতের বেলায় প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে থাকে। পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট ও সিসি ক্যামেরার অভাবে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকছেন।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিরাপদ করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হলে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।