রিপোর্টার : Deshkal একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে, পুনর্গঠনাধীন আগের পাঁচ ব্যাংক থেকে পর্যায়ক্রমে সব প্রশাসক সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক দীর্ঘ সভায় (সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত) এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগের দিন, রবিবার, গভর্নর উক্ত পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়েও আলোচনা করেন।
প্রধান আপডেটসমূহ: ধাপে ধাপে হস্তান্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, সবগুলো ব্যাংক থেকে একসাথে নয়, বরং ধাপে ধাপে প্রশাসক তুলে নেওয়া হবে। যে ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে, সেটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যাবে নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হাতে।
হস্তান্তরের শর্ত: নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে প্রতিটি ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থা, পরিচালনার প্রস্তুতি, প্রাতিষ্ঠানিক দায় এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে।
পৃথক বৈঠক ও মূল্যায়ন: কোন ব্যাংকের দায়িত্ব আগে নেওয়া হবে, তা নির্ধারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করবে। মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সময়সূচি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হবে।
আর্থিক অবস্থা উপস্থাপন: গভর্নরের সাথে সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পাঁচ ব্যাংকের বর্তমান চিত্র, চ্যালেঞ্জ ও পুনর্গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রশাসকরা।
আর্থিক সংকটে পড়া ৫টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক:
১. এক্সিম ব্যাংক
২. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
৩. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
৪. ইউনিয়ন ব্যাংক
৫. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংকটগ্রস্ত এই পাঁচ বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। অনুমোদিত মূলধন: ৩৫,০০০ কোটি টাকা (যার মধ্যে সরকার ইতোমধ্যেই ২০,০০০ কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে)।
লাইসেন্স অনুমোদন: ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক: গত ১৬ জুলাই মো. আবেদুর রহমান সিকদার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।