প্রকাশিত : শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , বিকাল ০৫:১১।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , রাত ০৯:১৮
রিপোর্টার : স্বপন কুমার সিং নিজস্ব প্রতিবেদক :

কৃষি ও জ্বালানিতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন -তাজওয়ার আওয়াল


রিপোর্টার : Deshkal

বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে জাতীয় বাজেট আর শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়—এটি এখন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বাজেট প্রণয়নে এখনো কাঠামোগত পরিবর্তনের বদলে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতাই বেশি। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান কৃষি ও জ্বালানি খাতে।

কৃষি খাতে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের পরিমাণকেই প্রধান সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদনের মাধ্যমে কতটা অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি হচ্ছে, সে প্রশ্নটি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের কৃষি উপকরণ আমদানি করে, যার বড় একটি অংশ উচ্চমূল্যের হাইব্রিড বীজ। একই সময়ে উৎপাদিত সবজি ও ফলের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাজারে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন বাড়লেও তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থনীতিতে কোনো মূল্য সংযোজন না করেই হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু সবজি খাতেই এই ক্ষতির পরিমাণ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে বাজেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মূল চ্যালেঞ্জ বরাদ্দ নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়ন। নতুন জাত উদ্ভাবন, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি এবং উচ্চফলনশীল বীজ উন্নয়নে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক বিনিয়োগ—যা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে, জ্বালানি খাত কৃষির ওপর এক নীরব চাপ তৈরি করছে। দেশের জ্বালানি আমদানি বিল ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে অবস্থান করছে। এর প্রভাব পড়ছে সেচে ব্যবহৃত ডিজেল, কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনা এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সহায়ক নীতির ঘাটতি স্পষ্ট।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বাজেটের মাধ্যমে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানিনির্ভরতা হ্রাস এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। তবে আগের মতো সীমিত পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষি ও জ্বালানি খাত একই চক্রে আবদ্ধ থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন মূল চ্যালেঞ্জ—বরাদ্দ বাড়ানো নয়, বরং কার্যকর ও টেকসই কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা।