প্রকাশিত : সোমবার , ১৮ মে ২০২৬ , বিকাল ০৪:১০।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬ , সকাল ০৯:১৪
রিপোর্টার : মো. লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ

জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টারে ভুলের পাহাড়: ফুকুরহাটী ইউনিয়নে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ


রিপোর্টার : Deshkal
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটী ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টারে চরম ভুল ও খামখেয়ালিপনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। জীবিত মানুষকে 'মৃত' লিখে রাখা, পিতা-মাতার নাম ও জন্মস্থান ওলটপালট হওয়াসহ নানা অসংগতির কারণে ক্ষুব্ধ জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—"এই ভুলের দায়ভার আসলে কার?"
জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টার লিপিবদ্ধ আছে রূপবান পিতা-জৈনুদ্দিন, মাতা-লালজান গ্রাম -গাছনগর,
আফরুজা আক্তার পিতা- জিন্নাহ, মাতা -সাফিয়া বেগম গ্রাম-বাউখন্ড,মৌসুমী আক্তার পিতা-আমেজুদ্দিন মাতা- সোহাগী গ্রাম-ভাসিয়ালী কৃষ্ণপুর কিন্তু সঠিক তথ্য হবে  রূপবান  পিতা ইয়াসিন  মাতা লালমন, আফরোজা আক্তার পিতা আজাহার উদ্দিন মাতা রুপবান, মৌসুমী আক্তার পিতা আজাহার উদ্দিন মাতা রূপবান সকলেরই গ্রাম হবে ভাসিয়ালী কান্দাপাড়া।শুধু নাম ছাড়া বাকি পিতার নাম মাতার নাম ও গ্রাম ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা।  রেজিস্টারে একই পাতায় দশজনের এমন অসঙ্গতি ভুলের তথ্য পাওয়া গেছে।  


​ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমার মা ও বোনদের ​"ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন আনতে গিয়ে দেখি  পিতা, মাতা কিংবা জন্মস্থানের নাম ভুল। এমন সব অদ্ভুত নাম লিখে রাখা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনকি অনেক জীবিত মানুষকে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। যারা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এমন খামখেয়ালিপনা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা উচিত।"
​ফুকুরহাটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রুবেল এই ভোগান্তির সূত্রপাত নিয়ে জানান, এই নিবন্ধন বইটি প্রথমত ২০০৭ সালে তৈরি এরপর ২০১৪ সালে যখন প্রথমবার এই তথ্যগুলো অনলাইনে এন্ট্রি করা হয়, তখন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের চরম অবহেলা ও খামখেয়ালিপনা ছিল দৃশ্যমান। সে সময় যদি প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা স্কুল সার্টিফিকেটের সাথে মিলিয়ে ডেটা এন্ট্রি দেওয়া হতো, তবে আজ হাজার হাজার মানুষকে এই হয়রানির শিকার হতে হতো না।

​বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ফুকুরহাটী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান,​"ভুলগুলো অতীতের হলেও মানুষ এখন আমাকে গালি দিচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে ছোট করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন—২০০৭ সালের ভুলের দায় কি আমার?"
​তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান উদ্যোক্তারা নিরলসভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সার্ভার সমস্যা, ওটিপি (OTP) জটিলতাসহ হাজারো টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নীতিমালা আরও সহজ করে, তবেই এই জটিলতা ও জনগণের ভোগান্তি কমবে। যেকোনো অনিয়ম বা সমস্যায় সরাসরি তাঁর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। 

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) 
কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।। 

​অতীতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খামখেয়ালিপনার মাশুল আজ দিতে হচ্ছে ফুকুরহাটী ইউনিয়নের হাজারো সাধারণ মানুষকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর ও সহজ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।