রিপোর্টার : Md Al-amin Chawdhury কোটি টাকার যন্ত্র পড়ে আছে, চিকিৎসা নিতে ছুটতে হচ্ছে জেলা শহরে।হাসপাতাল আছে, চিকিৎসকও আছেন। আছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিন। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় সবই যেন পড়ে আছে অচল অবস্থায়।বিজয়নগর উপজেলার দশ ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
চার বছর আগে আনা কোটি টাকার অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম। একই অবস্থা এক্স-রে মেশিনেরও।
অপারেশন কিংবা এক্স-রে করাতে বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে জেলা সদরে। অথচ জেলা শহরে যাওয়ার সড়কটির অবস্থাও ভালো নয়। এতে অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনবল সংকটের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এখনো চালু হয়নি অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে সেবা।
সরেজমিনে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পরিবেশ বেশ পরিপাটি। কোথায় কোন সেবা পাওয়া যায়, তা স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষার ফি-সংক্রান্ত তালিকাও টানানো আছে। হাসপাতালের মেঝে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দিতে ব্যস্ত।
প্রায় প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষেই ছিল রোগীদের ভিড়। তবে অপারেশন ও এক্স-রে সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন।
হাসপাতালে চিকিৎসক দেখানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কিংবা অপারেশনের কথা বলা হলে শেষ পর্যন্ত জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে।
পদ আছে ২৩টি, কর্মরত ১১ জন
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে সংযুক্তিতে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন ডা. দীপংকর ঘোষ।বিজয়নগর উপজেলায় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকট২০০৮ সালে হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকেই জনবল সংকট লেগে আছে। এরই মধ্যে ২০১০ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে ২০১৬ সালে উপজেলার চম্পকনগর বাজারের অদূরে তিন একর জায়গায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয়। অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চিঠির পর চিঠি, সমাধান নেই এমনটা বললেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের , অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল না থাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একই কারণে এক্স-রে মেশিনও পড়ে আছে।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় মূল্যবান এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
রোগীর স্বজন মো: জহিরুল ইসলাম বলেন , শুধু ভবন নির্মাণ কিংবা দামি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলেই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান, অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে সেবা চালু করা হলে বিজয়নগরের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাগাব হবে। আমরা আশাবাদী আপনাদের লেখনীয় মাধ্যমে যেনো এ সমস্যা টা দুর হয় এমনটা আশাবাদী।
বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সুমন ভূইয়া দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধিকে বলেন, “এ হাসপাতালে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা অপারেশন চালু করতে না পারা। আর অপারেশন চালু করতে যেসব চিকিৎসক প্রয়োজন, সেগুলো না থাকাটাও অন্যতম সমস্যা।”আর আমাদের লোকবল ও অপারেশন বিভাগ গুলো চালু করা হলে চিকিৎসকরা ঠিক ভাবে সেবা দিবেন এলাকার লোকজনরা চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না।