প্রকাশিত : শনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:২৭।। প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার , ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , সকাল ১১:৪৩
রিপোর্টার : শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:

শ্রীপুরে ১০০ পরিবারের ভিটেমাটি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন


রিপোর্টার : Deshkal

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেতজুরী গ্রামে শত বছর ধরে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির প্রতিবাদে নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষায় রাজপথে নেমে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেতঝুড়ি গ্রামে  আয়োজিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা উপস্থিত হয়ে দাবি করেন,  তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বহু প্রজন্ম ধরে এই ভিটেমাটিতে বসবাস করে আসছেন। এই জমির সঙ্গে শুধু বসতবাড়িই নয়, জড়িয়ে রয়েছে স্বজনদের কবরস্থান, মসজিদ-মাদ্রাসা, সমাজ ও জীবন-জীবিকা। প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র ও দখল থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, সাবেক এরশাদ সরকারের আমলে কর্নেল (অব.) রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নেন। তবে তাঁর সেই বরাদ্দকৃত জমি ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি স্কেচ ম্যাপ পরিবর্তন করে মহাসড়কের পশ্চিম পাশের বেতজুরী গ্রামের বসতবাড়ির জমি গ্রাস করার চক্রান্ত শুরু হয়। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওমর ফারুক  প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এমনকি  ভুক্তভোগীদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তাঁরা। বর্তমানে এমপি রনির ফুফাতো ভাই ওমর ফারুককে 'আম-মোক্তার' (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) সাজিয়ে ডিবি অফিসে মিথ্যা অভিযোগ ও আদালতে একাধিক হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন।

ভুক্তভোগিদের একজন মো. এনামুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বংশপরম্পরায় জমিটি ভোগদখলে আছেন। হঠাৎ এই জমির উপর চোখ পড়েছে প্রভাবশালীদের। এর ফলে প্রতিনিয়ত তারা উচ্ছেদ আতঙ্কে ভোগছেন। তিনি বলেন, হয়রানি করতে প্রতিপক্ষের লোকজন তিনি সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন  ও অশালীন কার্যক্রম পরিচালনা করার মিথ্য অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন । পুলিশ মামলা তদন্তে এসে দেখেনে এখানে মাদ্রাসা পরিচালানা করা হচ্ছে, কোনো নারী সংক্রান্ত বিষয় নেই । এর পর প্রতিপক্ষ এখন রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করার চেষ্ঠা করছেন।

মারহুমা আক্তার হেলেনা নামের এক নারী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, “ আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদেরে উচ্ছেদ করলে আমার যাবো কোথায়? আমাদের নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেলে আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই। প্রতিপক্ষরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ করছে । 

এ বিষেয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।