রিপোর্টার : Deshkal শেরপুরের নকলা থানায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তাই এখন চরম হুমকিতে পড়েছে। জরাজীর্ণ মূল ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টারের বেহাল দশায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়েই মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে দিনরাত দায়িত্ব পালন ও বসবাস করছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, থানার মূল ভবনের প্রায় প্রতিটি বিম, কলাম ও ছাদে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দেয়ালজুড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব, ড্যাম্পনেস ও শ্যাওলা জমে আছে। কোথাও কোথাও গজিয়েছে আগাছা। সিঁড়ি ও বারান্দার কলামের পলেস্তারা খসে গিয়ে ভেতরের মরিচা ধরা রড বেরিয়ে ঝুলছে।
অন্যদিকে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরদের (এএসআই) বসবাসের একমাত্র টিনশেড ঘরগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। চালের টিনে ছোট-বড় অসংখ্য ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি পড়ে। থানার আবাসিক ভবন এবং অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বাসভবনও পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানি পলিথিনে জমে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জরাজীর্ণ এই ভবনে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃষ্টির দিনে সেবাগ্রহীতাদের বসার মতো কোনো পরিবেশ থাকে না।
থানায় কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্য তাদের আতঙ্কের কথা তুলে ধরেন। কয়েকজন এএসআই জানান, "সারাদিনের ক্লান্তিকর ডিউটি শেষে যখন একটু বিশ্রাম নিতে যাই, তখন ঘুম তো দূরের কথা, আতঙ্কে মন ছটফট করে। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি ভবনটি আমাদের ওপর ধসে পড়ল। মাঝারি মাত্রার কোনো ঝড় বা আঘাত এলেই এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
আরেক এসআই বলেন, "প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আমরা ফ্যান চালাতে পারি না। এর আগে কয়েকবার ছাদের পলেস্তারা ও সিলিং ফ্যান খুলে নিচে পড়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সেই আতঙ্কে এখন ফ্যান বন্ধ করেই গরমের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।"
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, "নির্মাণের সময় হয়তো মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই ভবন ও টিনশেড ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সবাই প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। তবে শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।"
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা পুলিশ সুপারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ভবনটির ভগ্নদশার ব্যাপারে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
নকলা উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের আইনি সেবা ও নিরাপত্তা প্রদানকারী এই থানাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় সচেতন মহলও। তাদের দাবি, পুলিশ সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এবং সেবার মান উন্নত করতে জরুরি ভিত্তিতে রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নকলা থানায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে পুলিশ সদস্যরা যেমন নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্বিঘ্নে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।