প্রকাশিত : বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬ , বিকাল ০৪:১৬।। প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬ , বিকাল ০৪:৪০
রিপোর্টার : অনলাইন ডেস্ক:

কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তানসহ বাংলাদেশি সাংবাদিক নিহত


রিপোর্টার : Deshkal

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লেগে স্ত্রী ও সন্তানসহ কুষ্টিয়ার একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন।

ওই সাংবাদিক হলেন দেবাশীষ দত্ত। তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তও নিহত হয়েছেন বলে তারা জানাচ্ছেন। কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের পারিবারিক বন্ধু ও দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান বলছেন, “গত ৩ অগাস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চেন্নায় যান দেবাশীষ। তাদের সাথে কুষ্টিয়ার আরও দুজন গিয়েছিলেন। সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে এয়ারে কলকাতায় আসেন তারা।

“সেখানে একটি হোটেলে উঠেছিলেন তারা। সারাদিন ঘুরেছেন। আজকে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম সেই হোটেলে আগুন লেগে তাদের তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে।”

বুধবার বেলা ৩টার দিকে ফোনে কথা বলার সময় দেবাশীষের কুষ্টিয়ার বাড়িতে ছিলেন তৌহিদী। স্বজন, বন্ধুদের কান্নার রোল উঠেছে সেখানে। এ বিষয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক (ন্যাশনাল ডেস্ক) সৈয়দ মঈনুল হক বলছেন, “কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমরা তার মৃত্যুর খবর জেনেছি। এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত খবর সংগ্রহ করছি।”

তিনি বলেন, “দেবাশীষ ছুটি নিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। তার বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছে।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বুধবার রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই প্রথমে জানিয়েছিল, নিহত ৯ জনের সবাই বাংলাদেশি। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সেই তথ্য সংশোধন করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, নিহত একজনকে ভারতে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আর আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, নিহতদের ‘অধিকাংশিই’ বাংলাদেশি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি বলে আমরা শুনেছি।

“এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনও বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।” পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদপত্র/মিডিয়াসূত্রে জানা গিয়েছে। এ খবর জানার সাথেসাথেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশন থেকে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ও আহতদের সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করার চেষ্টা করেছেন।

“স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, এ যাবৎ এ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “উপ-হাই কমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনই এক পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। এছাড়াও আহত ছয় জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশিদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিতে উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্প লাইন চালু করেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।