প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬ , দুপুর ০২:৫৮।। প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬ , বিকাল ০৪:১১
রিপোর্টার : অনলাইন ডেস্ক:

যেভাবে বদলে গেল ব্ল্যাকপিংক


রিপোর্টার : Deshkal

দশ বছর আগে চার তরুণীর হাতে শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্নের যাত্রা। সেই স্বপ্ন আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে, কোটি ভক্তের হৃদয়ে। জিসু, জেনি, রোজে ও লিসাকে নিয়ে গড়া ব্ল্যাকপিংক এখন শুধু একটি কে-পপ গার্ল গ্রুপের নাম নয়; এটি এখন পপ সংগীতের এক শক্তিশালী ব্র্যান্ড।

২০১৬ সালের আগস্টে ‘হুইসেল’ ও ‘বুমবায়াহ’ দিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটি দেখতে দেখতে পূর্ণ করেছে এক দশক। এই সময়ে গান, মঞ্চ, ফ্যাশন ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নিজেদের আলাদা একটি জায়গা তৈরি করেছে ব্ল্যাকপিংক।

আত্মপ্রকাশের পর থেকেই একের পর এক হিট গান দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে তারা। ‘ডিডু-ডু ডিডু-ডু’, ‘কিল দিস লাভ’, ‘হাউ ইউ লাইক দ্যাট’, ‘লাভসিক গার্লস’ কিংবা ‘পিঙ্ক ভেনম’– প্রতিটি গানই পেয়েছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা। তাদের মিউজিক ভিডিও, স্টেজ পারফরম্যান্স ও ফ্যাশন স্টাইলও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। চার সদস্যের আলাদা ব্যক্তিত্বই যেন দলটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে। 

২০২২ সালে প্রকাশিত ‘বর্ন পিংক’ অ্যালবাম ব্ল্যাকপিংকের ক্যারিয়ারে মাইলফলক হয়ে আসে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড তালিকার সেরা ২০০-এর শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অফিসিয়াল অ্যালবাম তালিকাতেও শীর্ষস্থান দখল করে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে দলীয় প্রকল্প হিসেবে আসে তৃতীয় ইপি ‘ডেডলাইন’। তিন বছরের বেশি সময় পর চার সদস্যকে আবার একসঙ্গে পাওয়ার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-তে আট নম্বরে জায়গা করে নেয়। 

তবে ব্ল্যাকপিংকের সাফল্য শুধু সংগীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফ্যাশন ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সঙ্গেও চার সদস্য তৈরি করেছেন শক্ত অবস্থান। প্রত্যেকেই হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ফলে ব্ল্যাকপিংক নামটি ধীরে ধীরে একটি সংগীত দলের পাশাপাশি পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে। 

২০২৩ সালের শেষে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। দলীয় কার্যক্রমের জন্য ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য আলাদা পথ বেছে নেন চার সদস্য।

জেনি শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠান অড অ্যাটেলিয়ার। লিসা গড়ে তোলেন লাউড। জিসু শুরু করেন ব্লিসু। আর রোজে যুক্ত হন দ্য ব্ল্যাক লেবেলের সঙ্গে। এরপর চারজনের একক ক্যারিয়ারও পেয়েছে আলাদা গতি। রোজে ব্রুনো মার্সের সঙ্গে ‘এপিটি.’ গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। গানটির জন্য ২০২৫ সালের এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জেতেন তিনি। জেনি নিজের প্রথম একক অ্যালবাম ‘রুবি’ দিয়ে শিল্পী হিসেবে নিজের পরিসর আরও বড় করেন। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও মনোযোগী হয়েছেন জিসু। অন্যদিকে লিসা সংগীতের বাইরে অভিনয়ে পা রাখেন ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর মাধ্যমে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। চার তারকার পথ এখন অনেকটাই আলাদা। কেউ গানে, কেউ অভিনয়ে, কেউ ব্যবসা ও ফ্যাশনে। নিজ নিজ পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করছেন। কিন্তু যখন তারা চারজন একসঙ্গে মঞ্চে ওঠেন, তখন সেই পুরোনো নামটিই ফিরে আসে– ব্ল্যাকপিংক।

এক দশকের এই পথচলা তাই শুধু চার তারকার জনপ্রিয়তার গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, পরিশ্রম, সাফল্য ও নিজেদের পরিচয়কে নতুন করে নির্মাণের গল্প। ২০১৬ সালের সেই দুই গান থেকে শুরু করে ব্ল্যাকপিংকের প্রথম দশক যেন চার তারকার চারটি আলাদা গল্পকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা দীর্ঘ সংগীতযাত্রা।