প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ২ এপ্রিল ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:৫৫।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , সকাল ০৭:৩৪
রিপোর্টার : মোঃ আল-আমীন চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি

শিশু টিকাদান কার্যক্রমের অবনতি রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে ওয়াই ডাব্লিউ ডি আর সি


রিপোর্টার : Deshkal

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে সাম্প্রতিক অবনতি, বিপুল সংখ্যক শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে ইয়াং উইমেন ফর ডেভলপমেন্ট রাইটস এন্ড ক্লাইমেট (ওয়াই ডাব্লিউ ডি আর সি)।


উক্ত সভায় সহায়তা প্রদান করে নারী উন্নয়ন শক্তি এবং  ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, পিপুল হেলথ মুভমেন্ট, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ারস অ্যাসোসিয়েশন, শিলিড।


সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম সরকারের গাফিলতির কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। টিকা সরবরাহে বিঘ্ন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার সীমিত পৌঁছানোর ফলে প্রায় ৪ লাখ শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার শিশু একটিও টিকা পায়নি।


এছাড়া, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান ঘটছে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে প্রতি বছর প্রায় ৯৪,০০০ শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব—যা বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।


সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াই ডাব্লিউ ডি আর সি-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সুলতানা নুসরাত আফরোজ। তিনি বলেন, “টিকাদান কার্যক্রমে এই ধরণের ভাঙন একটি ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশু মৃত্যুর হার বহুগুণ বেড়ে যাবে। জাতীয় বাজেটে মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।"


সভায় নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভিন বলেন, "বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাই, শতভাগ শিশুর সকল টিকা নিশ্চিত করতে হবে"। পিপুল হেলথ হেলথ মুভমেন্টের নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, "যারা শিশুদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে"। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ডঃ সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, "শিশুর জন্মের পর থেকে সকল টিকা প্রতিটি শিশুর অধিকার, সরকারকেই এই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে"। ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট-এর সভাপতি শাহেদা ওয়াহাব বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব"। ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লোয়ার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা হক বলেন, "শিশু স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে"। সিলিডস-এর সদস্য সেলিনা আক্তার বলেন, ই পি আই প্রোগ্রাম পুনরায় চালু করতে হবে। সভায় আরো অনেকে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, শহরের বস্তি, দুর্গম এলাকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরি।


বক্তারা সরকারের প্রতি নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য লিখিত দাবি জানানঃ

১. জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বাজেট বৃদ্ধি ও টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

২. মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা।

৩. বস্তি, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।

৪. টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার (cold chain) উন্নয়ন করা।

৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকা বিষয়ে ভুল ধারণা দূরীকরণে কার্যকর প্রচারণা চালানো।

৬. আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করে টিকাদান কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা।


সভা থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের শিশুদের জীবন রক্ষা এবং একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।