রিপোর্টার : Deshkal নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী একটি দেশের স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক ‘জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ’ ব্যবহারের অনুমতি
৫ জুলাই (২০২৬) রবিবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সিপিবি’র সভাপতি কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবদুল্লাহ কাফি রতন এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন আমাদের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী বিভিন্ন বৈষম্যমূলক বাণিজ্যচুক্তি চাপিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি 'করদ রাজ্য'-তে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত, ঠিক তখন সরকারি দল ও সংসদের তথাকথিত বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর।
সিপিবি নেতৃদ্বয় আরও উল্লেখ করেন, উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিক আহমদ কর্তৃক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের 'পরীক্ষিত বন্ধু' হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই বক্তব্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক ও বৈরী ভূমিকাকে আড়াল করার অপচেষ্টা মাত্র।
বিবৃতিতে ঐতিহাসিক সত্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎকালীন গণহত্যাকারী পাকিস্তান সরকারকে প্রত্যক্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছিল এবং বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়কে নস্যাৎ করতে বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর দোসর হিসেবে দালালি করেছিল এবং আল-বদর, আল-শামস বাহিনী গঠন করে দেশের আপামর বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং নারীদের নির্যাতনে সরাসরি সহযোগিতা করেছিল। ফলশ্রুতিতে, কমিউনিস্ট পার্টি জামায়াত আমিরের এই চাটুকারিতাপূর্ণ বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।
জাতীয় সংসদের পবিত্র প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে এমন উৎসব আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, যাদের সম্মতি ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই উৎসবের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে, তাদেরকে অনতিবিলম্বে দেশের সাধারণ মানুষ ও বীর শহীদদের স্মৃতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।