প্রকাশিত : শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:৩৯।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬ , রাত ১২:৪৭
রিপোর্টার : অনলfইন ডেস্ক:

রয়টার্সকে শেখ হাসিনা: ডিসেম্বরে দেশে ফিরে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা


রিপোর্টার : Deshkal

প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার ঝুঁকিও রয়েছে—এ কথা জেনেই তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, "নেতাকর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই হোক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরেছে।"

দেশে ফিরেই আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগের প্রায় সব স্তরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একযোগে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।

তার ভাষ্য, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমান আদালত কতটা "প্রহসনমূলক"—তা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। তবে কবে বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।

বিদেশি সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। তার দাবি, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার কিংবা ন্যায়বিচারের মতো বিষয় নিয়ে কোনো গোপন সমঝোতা হতে পারে না।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। তবে সেই ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার একমাত্র জনগণের এবং সেই বিচার জনগণের হাতেই ছেড়ে দিতে চান তিনি।

ভারতে বসেই দল পুনর্গঠনের কাজ

বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ করছেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি তার বিরুদ্ধে সাজা হয় বা তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? দলটি যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।

তিনি আরও বলেন, কারাবরণের বিষয়ে তার কোনো ভয় নেই। আশির দশকে দেশে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালেও তিনি কারাগারে ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায় ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার।

গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশ্যে জানালেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে।

এছাড়া, ভারতে তার অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, দেশে ফেরার উদ্যোগ সেই সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তবে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।