প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ০৮:২৩।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , বিকাল ০৪:০১
রিপোর্টার : অনলfইন ডেস্ক:

অব্যাহত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ: সিপিবি


রিপোর্টার : Deshkal

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএসএফ কর্তৃক ‘বিচারবহির্ভূতভাবে অব্যাহত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড’ গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলেও উল্লেখ করেছে সিপিবি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এসব কথা বলেন হয়। সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ এবং এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএসএফকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তরঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুর মঈনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন, প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ত্রিদিব সাহা প্রমুখ।

সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বৃহৎ রাষ্ট্র। ভারতের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সব সময়ই ছিল, থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বারবার ভারতের রাষ্ট্রের শাসকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্যঘাটতি, সীমান্তে চোরাচালানসহ অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারত রাষ্ট্রের মদদ এবং অব্যাহত সীমান্তহত্যা ও পুশইন, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বহুমাত্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসব দ্বন্দ্ব অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দর-কষাকষি, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।
চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতচুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আবদুল্লাহ কাফী রতন আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি কোনো সরকার যথেষ্ট আত্মমর্যাদার সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থগত বিষয়গুলো সুরাহার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়নি। উপরন্তু উগ্র ডানপন্থি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ভারত প্রশ্নে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আড়াল করে যখন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়েছে, তাতে মদদ দিয়েছে।

সমাবেশে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, দুইটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক তখনই সত্যিকার অর্থে দ্বিপাক্ষিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, যখন সেখানে সমমর্যাদা, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি সম্মান থাকে। এক রাষ্ট্র বড় আর অন্য রাষ্ট্র ছোট, এক রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অন্য রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে— এ ধরনের সম্পর্ককে কখনোই সমমর্যাদার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বলা যায় না।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বৃহৎ রাষ্ট্র। কিন্তু বৃহৎ রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ কিংবা জনগণের অধিকার উপেক্ষা করার কোনো অধিকার ভারতের নেই। মক্কা জোটে শামিলের অভিপ্রায় অত্যন্ত বিপজ্জনক, ঝুঁকি বহুমুখী: সিপিবিমক্কা জোটে শামিলের অভিপ্রায় অত্যন্ত বিপজ্জনক, ঝুঁকি বহুমুখী: সিপিবি

রাগীব আহসান মুন্না বলেন, সীমান্তে বিএসএফের ‘হত্যাকাণ্ড’, পানির ন্যায্য হিস্যা, বাণিজ্য বৈষম্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমমর্যাদার ভিত্তিতে ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। এর দায়দায়িত্ব ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ সরকারের।

সিপিবির বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা সীমান্তে বিএসএফের ‘হত্যাকাণ্ড’ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভারত সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

সমাবেশ থেকে বলা হয়, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ পানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।