রিপোর্টার : Deshkal কবি, সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক সৌমিত্র দেবকে কবিতা ও সাংবাদিকতায় সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে স্মরণ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেন, তাঁর সৃষ্টিশীল কর্ম আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে, আর একজন সৃষ্টিশীল মানুষ কখনোই সত্যিকারে মরে না—তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর কর্মের মধ্যেই।
গত বছর (১৫ এপ্রিল) প্রয়াত হন সৌমিত্র দেব। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মৌলভীবাজারের সৈয়দ মুজতবা আলী মিলনায়তনে (পাবলিক লাইব্রেরি) আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা তাঁর জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরেন।
স্মরণসভার শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সৌমিত্র স্মৃতি সংসদ। সভাপতিত্ব করেন শর্মীলা প্রেন্টিস এবং সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিস। স্মরণসভায় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সৌমিত্র দেব ছিলেন এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু কবি বা সাংবাদিকই নন, ছিলেন সম্পাদক, গবেষক ও সমাজসচেতন মানুষ। সাংবাদিকতায় তিনি প্রথম আলো ও মানবজমিন-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম “Red Times”-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর সহকর্মীরা স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি শব্দকে শুধু লিখতেন না, বাঁচতেনও। জীবনের শেষ সময়েও তিনি সাংবাদিকতা ও সমাজের বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন।
অন্যদিকে, তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণে সহকর্মীরা আরও গভীর আবেগে বলেন, সৌমিত্র দেব টিটো ছিলেন কবিতা ও সংবাদচিন্তার এক জীবন্ত স্রোত।
১৯৭০ সালের ২৭ জুলাই মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া এই লেখক নব্বইয়ের দশক থেকে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। প্রায় ৪০টির বেশি বই প্রকাশিত হয় তাঁর।
২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাহিত্য ও
তাঁর সহকর্মীরা বলেন, জীবনের শেষ দিকেও তিনি সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন এবং পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিতেন।
বক্তারা বলেন, সৌমিত্র দেব ছিলেন এমন একজন কলমযোদ্ধা, যিনি নীরব হয়ে গেলেও তাঁর লেখা, চিন্তা ও সংগ্রাম আজও জীবন্ত। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করা হলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
“তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে।