ঝড়ে পড়ে যায় গাছটি। ডালপালা কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যায়। গাছের গোড়া কাটার পরও এটি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার এ গাছ নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ শুরু হয়েছে। মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের গাছ দেখতে শত শত লোক এসে ভিড়ে জমাচ্ছে। গাছের জড়, ছাল নেওয়ার জন্য দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। মানত করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডালপালাহীন গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে আছে। এর নীচের অংশ কাটা। গাছে লাল কাপড় বাধা। চারিদিকে নিশানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকার মানুষ বলছেন ঘটনাটি অলৌকিক। সৃষ্টিকর্তার ইশারাতেই এমন হয়েছে। তারা গাছটিকে দেখেশুনে রাখছেন। কাঠুরিয়াও জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।
মুন্সী বাড়ির পরিবারের সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি গাছটি পড়তেও দেখেছেম উঠার সময়ও দেখেন। মাস দেড়েক আগে প্রচন্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে যায়। গাছটি কেটে টুকরো টুকরো করার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়। দেখামাত্রই তিনি চিল্লাফাল্লা করেন। এরপর বাড়িসহ আশেপাশের লোকজন বিষয়টি দেখেন।
পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, 'এটি আমার এক ভাতিজার গাছ। তুফানে পড়ে গেলে বিক্রি করা হয়। গাছ কাটার পর এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটা সরাসরি আল্লাহর কুদরত।
গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, 'আল্লাহ ভালো জানেন কিভাবে কি হয়েছে। এখন গাছ দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক আসেন। মানত করেন। আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালান। অনেকে শিকড় নেন। তাদের ধারণা এতে রোগ বালাই ভালো হবে।'
কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, 'গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শেঁকড়সহ উল্টে যায়। ডালা কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যায়। গোড়া কয়েক ইঞ্চি জায়গা কেটে দিলে এটি পড়ে যাবে। এখানে জিন-ভূত বলে কিছু নেই। তবে মানুষ ভিড় করছে গাছটি দেখতে।'
আঁখি বেগম নামে প্রতিবেশি বলেন, 'গাছটি পড়ে থাকার সময় এর উপর দিয়ে চলাচল করেছি। এখন গাছটি দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা যতটুকু পারি গাছটিকে সম্মান করছি।'