মেয়ের বিবাহত্তোর সংবর্ধনার আগের দিন চলে গেলেন সাংবাদিক, টেলিভিশন আলোচক জাকারিয়া কাজল।
৬৭ বছর বয়সী কাজল দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিস এবং কিডনি ও লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
২০০৭-২০০৮ সময়ে বছরখানেক সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন জাকারিয়া কাজল। সবশেষ যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজের দায়িত্বে ছিলেন।
অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সভাপতি কাজল বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন এক সময়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক মাস আগে কাজলের ছোটো মেয়ের বিয়ে হয়। শনিবার তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন চলছিল।
যাবতীয় প্রস্তুতির মধ্যে জানুয়ারির শেষ দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এই সাংবাদিক। শুক্রবার তার মৃত্যুর পর সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে রেখে গেছেন জাকারিয়া কাজল। দুই মেয়েই প্রবাসে ছিলেন। ছোটো মেয়ের বিবাহোত্তর সংবার্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বড় মেয়েও ঢাকায় এসেছিলেন সিডনি থেকে।
জাকারিয়া কাজলের ছোটো ভাই মোহাম্মদ সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুক্রবার বাদ এশা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার জানাজা হবে।
শনিবার বাদ জোহর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে আরো দুই দফা জানাজার পর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে কাজলকে।
১৯৫৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া কাজল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেন।
দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইনকিলাব ও ডেইলি অবজারভারে কাজ করার পর কয়েকটি টেলিভিশন স্টেশনেও তিনি চাকরি করেছেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
ডিআরইউ সভপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলও শোকবার্তা দিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।