• ঢাকা
  • শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ভোর ০৪:৩৩
শিরোনাম
হোম / জাতীয়
রিপোর্টার : দেশকাল ডেস্ক:
বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানালো আইপিআই (IPI)

বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানালো আইপিআই (IPI)

প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রকে অবশ্যই বছরের পর বছর ধরে চলা গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ এবং গণমাধ্যমের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা-হয়রানি বন্ধ করার এই সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে।

​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট (IPI) রাজনৈতিক দলসমূহ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রতি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। সাংবাদিকরা যেন স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদে তাদের কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য আইপিআই এই তাগিদ দিয়েছে। আমরা জোর দিয়ে বলছি যে, একটি অবাধ গণমাধ্যম নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​আগামী সপ্তাহের এই সংসদীয় নির্বাচন হবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ওপর সরকারের সহিংস দমন-পীড়নের পর দীর্ঘকালীন শাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরবর্তী প্রথম নির্বাচন। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটেই নির্ধারিত হবে নতুন সরকারের রূপরেখা।

​আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক— ‘ডেইলি স্টার’ এবং ‘প্রথম আলো’-র ঢাকা কার্যালয়ে এক সহিংস বিক্ষোভকারী দল ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে ১৬টি ঘটনায় সাংবাদিকদের শারীরিক লাঞ্ছনা বা পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক স্থানীয় সাংবাদিক আশঙ্কা করছেন যে, নির্বাচনের খবর সংগ্রহের সময় তারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হতে পারেন।

​“বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এই সন্ধিক্ষণে, আইপিআই সকল রাজনৈতিক দলকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এবং সাংবাদিকদের অবাধ ও নিরাপদ সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে,” বলেছেন আইপিআই-এর গ্লোবাল অ্যাডভোকেসি অফিসার রোয়ান হামফ্রিজ। তিনি আরও বলেন, “বছরের পর বছর ধরে চলা গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলা বন্ধ করতে এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগাতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে এ অঞ্চলে নেতৃত্ব দেওয়ার এখনই সময়।”

​শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের জায়গা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছিল। আইপিআই-এর মনিটরিং ডেটা অনুযায়ী, সাংবাদিকদের ওপর ব্যাপক শারীরিক, মৌখিক এবং অনলাইন হুমকি ও হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, এমনকি হত্যার অনেক ঘটনায় অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে (বিচারহীনতা)। হাসিনা সরকার সমালোচনামূলক গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে এবং তাদের কণ্ঠরোধ করতে বিচার বিভাগীয় হাতিয়ার, বিশেষ করে বর্তমানে বাতিলকৃত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করেছে।

​বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউনূস সরকারও বর্তমানে সমালোচনার মুখে পড়ছে।

জাতীয়

আরও পড়ুন