• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ভোর ০৫:৪০
শিরোনাম
হোম / ক্রাইম
রিপোর্টার : অনলাইন ডেস্ক:
১১ অনলাইন প্রতারকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে

১১ অনলাইন প্রতারকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে

প্রিন্ট ভিউ

অনলাইন ও ফোনভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওয়েনঝৌতে আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এই দণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শিনহুয়া।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্কের ‘মূল সদস্য’ বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। এই নেটওয়ার্ক ক্রিপ্টো মুদ্রায় বিনিয়োগ ও রোমান্টিক সম্পর্কের ফাঁদ পেতে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।

চীনা গণমাধ্যমের তথ্যে উঠে এসেছে, এই চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী মিং মাফিয়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য জড়িত ছিলেন এবং তারা ১৪ জন চীনা নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

বেইজিংয়ে অবস্থিত সুপ্রিম পিপলস কোর্ট এসব রায় অনুমোদন দিয়েছে। আদালত রায়ে বলেছে, ২০১৫ সাল থেকে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ “চূড়ান্ত ও পর্যাপ্ত”। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, আঘাত, অবৈধ আটক, প্রতারণা এবং ক্যাসিনো পরিচালনার মতো অভিযোগ ছিল।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে অভিযুক্তদের নিকটাত্মীয়রা তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে শিনহুয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া স্ক্যাম নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান বড় অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিল চীনা কর্তৃপক্ষ। এসব কেন্দ্র থেকে ভুয়া ক্রিপ্টো বিনিয়োগ ও রোমান্টিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ এ ধরনের স্ক্যাম কার্যক্রমে জড়িত এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ছে। মিং পরিবার মূলত মিয়ানমার থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করত।

২০২৩ সালে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের সময় মিলিশিয়ারা একেবারে উত্তর-পূর্বের শহর লাউক্কাইংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরিবারটি সেখান থেকেই কার্যক্রম চালাত। পরে তাদের আটক করা সম্ভব হলে চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয় মিয়ানমার।

গত সেপ্টেম্বরে একই পরিবারের ২০ জনেরও বেশি সদস্যকে পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এর বাইরে আরও পাঁচজন মৃত্যুদণ্ড পেলেও তাদের ক্ষেত্রে দুই বছরের স্থগিতাদেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারে প্রতারণায় সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। গত নভেম্বরেও বাই পরিবার নামের আরেকটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে প্রতারণার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটি।

বেইজিং বলেছে, তারা হাজারো সন্দেহভাজনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করছে। এর আগে সীমান্ত অঞ্চলে অনলাইন জুয়া ও ফোন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে সাত হাজার ছয়শরও চীনা নাগরিককে মিয়ানমার থেকে ফেরত এনেছে চীন।

ক্রাইম

আরও পড়ুন